Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Wednesday, December 31, 2014

‘বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও বর্তমান সরকার দেশে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমান বাহিনীর বহরে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আর আধুনিক বিমান। আর এ কারনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা কার্যক্রমের অধীনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী  প্রতিবছর  প্রায় চার হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরে যশোর বিমান বাহিনী একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শীতকালীন গ্রাজুয়েশন কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিবহন বিমানের কন্টিনজেন্ট বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ সফলতার সঙ্গে শেষ করে আজ আপনারা কমিশন পেতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের। অত্যন্ত গর্বের। আমি কমিশন প্রাপ্ত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংযোজন করা হয়েছে বিমান বাহিনীর জন্য প্রথমবারের মতো সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম। সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজারে স্থাপন করা হয়েছে নতুন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ার ডিফেন্স রাডার।
বিমান বাহিনী উন্নয়নে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিন বাহিনীর পদমর্যাদা বৃদ্ধি করাসহ সুযোগ-সুবিধার বৃদ্ধির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তিন বাহিনীর সদস্যদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করেছি। চাকরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীতে নতুন নতুন ইউনিট স্থাপনের ফলে জনবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদোন্নতির পথ সুগম হচ্ছে। এর আগে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। এসময় বিমান বাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বিমান বাহিনীর একটি জীপে করে ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন। এসময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত ও বিমান বাহিনীর নিজস্ব সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জণকারী নবীন অফিসারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

Tuesday, December 23, 2014

কম্বল পেয়েই কেঁদে ফেলল মেয়েটি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তারের বয়স আট বছর। তার মা ও বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালায়। এবার শীতে গায়ে দেওয়ার জন্য কোনো গরম কাপড় নেই। কম্বল নিতে এসে থরথর করে কাঁপছিল মেয়েটি। একটি কম্বল পাওয়ামাত্রই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলে সে।
নাটোরের অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি) কার্যালয়ের সামনে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে গতকাল সোমবার এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। পারভীন আক্তার জানায়, এত দিন সে তার মায়ের পরনের কাপড়ে মুখ গুঁজে রাত যাপন করেছে। তার মতো অসহায় ১০০ প্রতিবন্ধীর হাতে কম্বল তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নাটোর, গাইবান্ধা ও নেত্রকোনায় গতকাল সিটিব্যাংক এনএর সহযোগিতায় এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলায় রোববার ফ্যাশন হাউস ওটুর সহযোগিতায় ৫৪০টি কম্বল দেওয়া হয়। এবারের এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে। চার জেলায় গত দুদিনে কম্বলগুলো বিতরণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
নাটোরের সদর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০০ প্রতিবন্ধীকে গতকাল কম্বল দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে দিঘাপতিয়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফুলবালা বেওয়া (৭২) বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় দুই বেলা খাতে পাইনি। শীতের কাপড় কিনব কী করি? তাই ঠান্ডার ভয়ে বিকাল হলেই ঘরে দরজা দিয়া থাকি। দম ফেলতে পারিনি। কম্বলডা পাইয়াএখন চিন্তামুক্ত হলাম।
গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ২০০ শীতার্তকে কম্বল দেওয়া হয়। গাইবান্ধা পৌরসভার মুন্সীপাড়া, বানিয়ারজান, পূর্বপাড়া, ডেভিড কোং পাড়া, বাংলাবাজার, পশ্চিমপাড়া, ফকিরপাড়া, মালিপাড়া এলাকা এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার বারবলদিয়া, দারিয়াপুর, কয়াছয়ঘরিয়া, বালুয়া, বল্লমঝাড়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এবং সমিতির বাজার গ্রামের মানুষকে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
কম্বল পেয়ে কয়াছয়ঘরিয়া গ্রামের আজিরন বেগম (৫৫) বলেন, ‘হামারঘরে সোংসারোত পাঁচকোনা মানুষ। দুইব্যালা ঠিকমতোন খাব্যার জোগবার পাই ন্যা। শীতের কাপড়া কিনমো ক্যামন করি। তোমারঘরে কমবোল পায়া উপক্যার হলো বাবা। আইজকে আইতোত আরামে ঘুমব্যার পামো।’ কঞ্চিপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী রনজু মিয়া (৫৫) বলেন, ‘এক ব্যালা না খায়া থাকা যায়। কিন্তুক শীতের কষ্টে আইত কাটে না। তোমারঘরে কাপড়াকোনা পায়া ভালো হলো।’
নেত্রকোনা শহরের আদর্শ শিশুবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সকাল নয়টার দিকে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আদর্শ শিশুবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন নেত্রকোনা জেলা শাখার সহসভাপতি বিমল বিশ্বাস এবং নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের অগ্রগণ্য সংবাদপত্র হিসেবে প্রথম আলো গরিব-অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে যে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা প্রতিষ্ঠানটির মানবতাবোধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বাধাইল ইউনিয়নের জিনাখোর আদিবাসী গ্রামে গত রোববার ৪০ দরিদ্র আদিবাসীকে কম্বল দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র বিতরণের আগে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
এবারের কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। গত দুদিনে বিতরণ করা চারটি জেলা ছাড়াও এ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
[(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোর, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি)৷

Sunday, December 14, 2014

শেলা নদীতে ভেসে উঠেছে মৃত ডলফিন

সুন্দরবনে শেলা নদীতে ট্যাংকার ডুবির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ে একটি ডলফিনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল নদীতে একজন ফটোসাংবাদিক মৃত ইরাবতি ডলফিনটির মৃতদেহ খুঁজে পান। তেলবাহী ট্যাংকার যেখানে ডুবেছিল সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ডলফিনের সবচেয়ে বড় অভয়াশ্রমে বিরল প্রজাতির এ প্রাণীর মৃতদেহটি ভেসে ওঠে। শুক্রবারেই বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এই প্রথম কোনও ডলফিন মারা যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফটো সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন গত ২৪ ঘণ্টায় সুন্দরবনের অনেক এলাকায় ঘুরেছেন। তিনিই প্রথম গতকাল শ্যালা নদীর হারিণটানা-তাম্বুলবুনিয়া চ্যানেলে একটি মৃত ইরাবতি ডলফিনের মৃতদেহের খোঁজ পান। শ্যালা নদীতে দুই প্রজাতির ডলফিনের অভয়াশ্রম। সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেলসহ ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় বিরল এ সামুদ্রিক প্রজাতির জীবন সংশয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদিও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান দাবি করেছেন দুর্ঘটনার কারণে সুন্দরবনের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। গতকাল  সুন্দরবনের চাঁদপাই পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, তেল খুব বেশি ছড়ায়নি। এতে ডলফিন ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হবে না। তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তবে সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহিদুল কবির দাবি করেছেন, কিছু ছোট মাছ ও কাঁকড়া ছাড়া অন্য কিছুর মরার খবর তারা পাননি। মরা ডলফিনের সঙ্গে তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

Friday, November 21, 2014

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ দিবসটি উদযাপিত হবে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর মসজিদগুলোয় ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হবে। এতে সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি এবং দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারাপরসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারীও নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৪ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪-২০১৫ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ছাড়াও সাভার, বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা এবং রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসেও একই ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আমাদের অহংকার। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও বীরত্বগাথা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি বলেন, আমি এ দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফকে।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Thursday, November 20, 2014

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের আরেক প্রতিপক্ষ শিশির

টেস্ট সিরিজে ৩-০-তে ধবলধোলাই হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজে নিশ্চয় ঘুরে দাঁড়ানোর মরণপণ চেষ্টা করবে জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের আগে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজটা বাংলাদেশের জন্যও ঘুরে দাঁড়ানোর আদর্শ মঞ্চ। টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি যতই টাটকা হোক, ওয়ানডেতে এ বছর এখনও জয়হীন বাংলাদেশ! সেই গেরো খোলার লক্ষ্য নিয়েই শুরু হচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফির নতুন পথচলা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির প্রথম ওয়ানডেতে আজ জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফরম্যাটের মতো অধিনায়কও বদলে গেছে। মুশফিকুর রহিম ও ব্রেন্ডন টেলরের জায়গায় আজ টস করতে নামবেন মাশরাফি মুর্তজা ও এলটন চিগুম্বুরা। অধিনায়কত্ব পেয়েছেন এর আগেও। কিন্তু ইনজুরিপ্রবণতার কারণে সেটি ধরে রাখতে পারেননি। এই সিরিজের জন্য আবার ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব ফিরে পাওয়া মাশরাফি জয় দিয়েই শুরু করতে চান নতুন অধ্যায়। ওয়ানডে সিরিজের পাঁচটি ম্যাচই দিবরাত্রির। প্রতিপক্ষের তালিকায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাই শিশিরকেও রাখতে হচ্ছে! প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের সন্ধ্যায় শিশিরভেজা মাঠে ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি স্পিনারদের কাজটাও কঠিন হয়ে যাবে। স্পিনারদের বড় শত্রু হল শিশির। আর বাংলাদেশ যেহেতু স্পিননির্ভর দল, তাই শিশির নিয়ে চিগুম্বুরার চেয়ে মাশরাফির মাথাব্যথাই বেশি। মাত্রাতিরিক্ত শিশির হয়ে উঠতে পারে জয়-পরাজয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ। সেক্ষেত্রে ম্যাচ জেতার পূর্ব শর্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে টস জয়। শুধু মর্যাদার প্রশ্ন নয়, সিরিজটা অনেক দিক দিয়েই বাংলাদেশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে। আপাতত ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ আছে নয় নম্বরে। দশ নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ব্যবধান ১১ পয়েন্ট। সিরিজটা বাংলাদেশ ৫-০-তে জিততে পারলে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ২২ পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে যৌথভাবে আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধানও অনেক কমে আসবে, যা ভবিষ্যতে আট নম্বরে উঠে যাওয়ার পথটি মসৃণ করতে পারে। তবে এখনই হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন দেখছেন না মাশরাফি। এ বছর ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১২টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। বছরের প্রথম ওয়ানডে জয়কেই তাই পাখির চোখ করছেন মাশরাফি, ‘টেস্টে সবাই ভালো খেলেছে বলেই ব্যবধান ৩-০ হয়েছে। তাই বলে এখনই ৫-০-র চিন্তা করছি না। প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বছর ওয়ানডেতে আমরা ভালো করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচটি জিততে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’ টেস্ট সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ ঝাঁপাতে চায় বাংলাদেশ। মুশফিকের মতো মাশরাফিরও বাজির ঘোড়া সাকিব আল হাসান। ওদিকে টেস্ট সিরিজের হতাশা ঝেরে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক চিগুম্বুরা জানালেন, ওয়ানডে সিরিজটা হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিন্তু কাজটা যে মোটেও সহজ হবে না সেটা নিশ্চয় বুঝে গেছে অতিথিরা। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের সামনেই দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। টেস্টে ধবলধোলাইয়ের মঞ্চ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সেই তিন নম্বর উইকেটেই হবে আজ প্রথম ওয়ানডে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাঙালি নিবন্ধন!

রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের দীর্ঘ মেয়াদে পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মিয়ানমার। আদমশুমারিতে গণনা থেকে বাদ দেয়ার পর এবার তাদের বাঙালি হিসেবে জোরপূর্বক নিবন্ধনের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান নামে বিতর্কিত এ পরিকল্পনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মধ্যেও মিয়ানমার সরকারের এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রবল আস্থার সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের নতুন পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো রোহিঙ্গা নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিবন্ধন করতে না চাইলে তাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ক্যাম্পে আটকে রাখবে দেশটির সামরিক জান্তা।
বাংলাদেশ সরকারের এক কূটনীতিক বলেছেন, মিয়ানমার থেকে সব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে। মিয়ানমার বরাবরই সন্দেহ করে থাকে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) নামের একটি জঙ্গি গ্র“পকে বাংলাদেশ প্রশ্রয় দেয়। বাংলাদেশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আরএসও আশ্রয় দেয়ার সন্দেহ থেকেই গত মে মাসে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল। তখন নায়েক মিজানুর রহমান নামের একজন বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছিলেন। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানকে সম্প্রতি ঢাকায় ডেকে এনে পরামর্শ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিশিগগিরই মিয়ানমার তাদের রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে। মিয়ানমার অবশ্য ইতিমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এই বিষয়ে সহায়তা কামনা করেছে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ মেয়াদে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে- যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করার পরও তাদেরকে বাঙালি হিসেবে নিবন্ধিত করার অর্থই হল রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। তারা কিংবা তাদের পূর্ব পুরুষেরা বাংলাদেশ থেকে গেছেন- এমন ধারণা সৃষ্টির দুরভিসন্ধি থেকে মিয়ানমার সরকার এই পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ। এটি সমস্যার বলপূর্বক সমাধানের চেষ্টা বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল।
বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালের জুনে মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সহিংস ঘটনায় এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা গৃহহারা হয়েছেন। তারপর এই বিষয়টি তদন্ত করার লক্ষ্যে গঠিত কমিশনের সুপারিশের আলোকে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই অ্যাকশন প্ল্যান এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘে তার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে এই বিষয়ে সহায়তা কামনা করেছে মিয়ানমার। শিগগিরই দেশটি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। মিয়ানমারে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হলেও রোহিঙ্গাদের গণনা করা হয়নি। এখন রোহিঙ্গাদের কেউ নিজেদের বাঙালি হিসেবে নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করলে তাদেরকে পৃথক ক্যাম্পে রাখা হবে বলেও অ্যাকশন প্ল্যানে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বাসযোগ্য রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে খসড়া করণীয় সুপারিশ ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করেছে। তবে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের করণীয় সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুুলেছে। আমরা এই বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির অপেক্ষায় আছে। মিয়ানমার যদিও জাতিসংঘসহ কোনো কোনো পর্যায়ে পরিকল্পনাটি অবহিত করেছে, কিন্তু এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তবে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করলে বাংলাদেশের এই ব্যাপারে আপত্তি থাকবে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন।
এদিকে, জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জানতে চাইলে ঢাকায় ইউএনএইচসিআর দফতর যুগান্তরের কাছে একটি লিখিত প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, এটি (মিয়ানমার) সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি পরিকল্পনা, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদি দেশটির সরকার ইউএনএইচসিআরের কাছে এ ব্যাপারে কোনো সমর্থন চায় তবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং আমাদের সহায়তা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী যাদের নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে আমাদের মানবিক নীতি ও ম্যান্ডেটের আলোকেই হবে।
এদিকে ৩১ আগস্ট ঢাকায় দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, কক্সবাজারে অবস্থিত দুটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুমাসের মধ্যে শুরু হবে। এ নিয়ে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি দুমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এরই মধ্যে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় নতুন পরিকল্পনা দীর্ঘ বিরতির পর প্রত্যাবাসনের নতুন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে।
রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের মতো বাংলাদেশের জন্য বৈরী ও বিতর্কিত পরিকল্পনা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সীমান্তসহ অপরাপর ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার দুয়ার খোলা রাখতে চায় বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্টের পর দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তি পার্লামেন্টের স্পিকারের বাংলাদেশ সফরের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের স্পিকারকে অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বাংলাদেশ সফরে সম্মতিও জানিয়েছেন। এখন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করাসহ অপরাপর প্রস্তুতির কাজ চলছে।
বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসতে পারেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের প্রধান। অপরদিকে, মিয়ানমার সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান। এভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাঙালি নিবন্ধন!

রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমান সংখ্যালঘুদের দীর্ঘ মেয়াদে পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মিয়ানমার। আদমশুমারিতে গণনা থেকে বাদ দেয়ার পর এবার তাদের বাঙালি হিসেবে জোরপূর্বক নিবন্ধনের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান নামে বিতর্কিত এ পরিকল্পনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মধ্যেও মিয়ানমার সরকারের এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রবল আস্থার সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের নতুন পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো রোহিঙ্গা নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিবন্ধন করতে না চাইলে তাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ক্যাম্পে আটকে রাখবে দেশটির সামরিক জান্তা।
বাংলাদেশ সরকারের এক কূটনীতিক বলেছেন, মিয়ানমার থেকে সব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে। মিয়ানমার বরাবরই সন্দেহ করে থাকে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) নামের একটি জঙ্গি গ্র“পকে বাংলাদেশ প্রশ্রয় দেয়। বাংলাদেশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আরএসও আশ্রয় দেয়ার সন্দেহ থেকেই গত মে মাসে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল। তখন নায়েক মিজানুর রহমান নামের একজন বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছিলেন। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানকে সম্প্রতি ঢাকায় ডেকে এনে পরামর্শ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, অতিশিগগিরই মিয়ানমার তাদের রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে। মিয়ানমার অবশ্য ইতিমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এই বিষয়ে সহায়তা কামনা করেছে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশংকা করছেন, রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ মেয়াদে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে- যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করার পরও তাদেরকে বাঙালি হিসেবে নিবন্ধিত করার অর্থই হল রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। তারা কিংবা তাদের পূর্ব পুরুষেরা বাংলাদেশ থেকে গেছেন- এমন ধারণা সৃষ্টির দুরভিসন্ধি থেকে মিয়ানমার সরকার এই পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ। এটি সমস্যার বলপূর্বক সমাধানের চেষ্টা বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল।
বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালের জুনে মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সহিংস ঘটনায় এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা গৃহহারা হয়েছেন। তারপর এই বিষয়টি তদন্ত করার লক্ষ্যে গঠিত কমিশনের সুপারিশের আলোকে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই অ্যাকশন প্ল্যান এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘে তার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে এই বিষয়ে সহায়তা কামনা করেছে মিয়ানমার। শিগগিরই দেশটি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। মিয়ানমারে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হলেও রোহিঙ্গাদের গণনা করা হয়নি। এখন রোহিঙ্গাদের কেউ নিজেদের বাঙালি হিসেবে নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করলে তাদেরকে পৃথক ক্যাম্পে রাখা হবে বলেও অ্যাকশন প্ল্যানে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বাসযোগ্য রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে খসড়া করণীয় সুপারিশ ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করেছে। তবে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের করণীয় সুপারিশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুুলেছে। আমরা এই বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির অপেক্ষায় আছে। মিয়ানমার যদিও জাতিসংঘসহ কোনো কোনো পর্যায়ে পরিকল্পনাটি অবহিত করেছে, কিন্তু এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তবে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করলে বাংলাদেশের এই ব্যাপারে আপত্তি থাকবে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন।
এদিকে, জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জানতে চাইলে ঢাকায় ইউএনএইচসিআর দফতর যুগান্তরের কাছে একটি লিখিত প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, এটি (মিয়ানমার) সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি পরিকল্পনা, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদি দেশটির সরকার ইউএনএইচসিআরের কাছে এ ব্যাপারে কোনো সমর্থন চায় তবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং আমাদের সহায়তা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী যাদের নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে আমাদের মানবিক নীতি ও ম্যান্ডেটের আলোকেই হবে।
এদিকে ৩১ আগস্ট ঢাকায় দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, কক্সবাজারে অবস্থিত দুটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুমাসের মধ্যে শুরু হবে। এ নিয়ে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি দুমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এরই মধ্যে রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় নতুন পরিকল্পনা দীর্ঘ বিরতির পর প্রত্যাবাসনের নতুন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে।
রাখাইন অ্যাকশন প্ল্যানের মতো বাংলাদেশের জন্য বৈরী ও বিতর্কিত পরিকল্পনা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সীমান্তসহ অপরাপর ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার দুয়ার খোলা রাখতে চায় বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্টের পর দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তি পার্লামেন্টের স্পিকারের বাংলাদেশ সফরের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের স্পিকারকে অনানুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বাংলাদেশ সফরে সম্মতিও জানিয়েছেন। এখন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করাসহ অপরাপর প্রস্তুতির কাজ চলছে।
বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসতে পারেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের প্রধান। অপরদিকে, মিয়ানমার সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান। এভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

Wednesday, November 19, 2014

‘মোবাইল ফোনের কলরেট কমানোর পরিকল্পনা নেই’

মোবাইল ফোনের কলরেট কমানোর বিষয়ে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের কলরেট বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচিত। তাই মোবাইল ফোনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কলরেট পুন:নির্ধারণের আপাতত কোন পরিকল্পনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মোবাইল ফোনের কলরেট প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা হতে সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারণ করা আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের গড় কলরেট প্রতি মিনিট ৮৩ পয়সা। এটা বিশ্বের সর্ব নিম্ন কলরেট হিসেবে বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর মধ্যে ব্যপক ভিত্তিক প্রতিযোগিতার কারণে কলরেট ক্রমন্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া ১০ সেকেন্ড পালস বাধ্যতামূলক করায় প্রতি ১০ সেকেন্ড অন্তর বিল চার্জ করা হয়। এতে করে গ্রাহক শুধু ব্যবহৃত সময়ের প্রতি ১০ সেকেন্ডের গুণিতক হিসেবে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। গ্রাহককে শেষ মিনিটের বাকী সময়ের জন্য বিল দিতে হয় না।

Tuesday, November 18, 2014

৫ বছরে ১০৯৩ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৫২

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত  মোট এক হাজার ৯৩টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক তির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫২জন। সংসদে  প্রশ্নোত্তর পর্বে  মঙ্গলবার এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, সমগ্র বাংলাদেশে রেলওয়েতে লাইনচ্যুতিসহ মেইন লাইন ও শাখা লাইনে ২০০৯-১০ সালে ৩০৮টি, ২০১০-১১ সালে ২২৪টি, ২০১১-১২ সালে ১৮২টি, ২০১২-১৩ সালে ১৭৬টি এবং ২০১৩-১৪ সালে মোট ২০৩টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫২ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৮৬ জন। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক তির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা।
মো. ফরিদুল হক খানের এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, রেললাইনের ভারবাহী ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্রডগেজ এবং ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ বা পুনর্বাসন কাজে ৬০ কেজি রেল ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত  বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করার জন্য বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে চীন হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০ সেট এমজি ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিজ (ডেমু) সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ডেমু ট্রেন চালু করা হয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জনবহুল শহরগুলোর যনজট অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০ সেট ডেমু সংগ্রহের জন্য মোট ৬৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

Tuesday, November 11, 2014

চীনের মহাপ্রাচীর পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট

চীন সফররত  প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ দেশটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা মহাপ্রাচীর পরিদর্শন করেছেন। গতকাল সকালে সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীরের পাতালিং অংশে পৌঁছান তিনি। স্ত্রী রাশিদা খানমকে সঙ্গে নিয়ে প্রাচীরের কিছু পথ হেঁটে উঠে তিনি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন। মহাপ্রাচীর ঘুরে দেখার পর আবদুল হামিদ ভিজিটরস বইয়েও সই করেন। বেইজিং থেকে ৪৩ মাইল (৭০ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে চীন-বাদালিং হচ্ছে মহাপ্রাচীরের সর্বোচ্চ পরিচিত সেক্টর। ১৯৫০’র দশকের শেষের দিকে এটি সংস্কার করা হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশী ও বিদেশী পর্যটক সেখানে জড়ো হন। চীন সাম্রাজ্যে বহিরাক্রমণ ঠেকাতে কিন শি হাং সম্রাটের আমলে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের ২১০ থেকে ২৫৯’র মধ্যে বিশাল এই স্থাপনার নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর মিং রাজবংশের আমলে খ্রিস্ট পরবর্তী ১৪ থেকে ১৭ শতকে (১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪) মহা প্রাচীরের সর্বাধিক পরিচিত ও সংরক্ষিত কেস্টর নির্মিত হয়। জনশ্রুতি আছে, এটি নির্মাণকালে ৪ লাখ শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে এবং তাদের অনেককে এখানেই সমাহিত করা হয়। মাটি ও পাথরে নির্মিত ৩ হাজার মাইলেরও বেশি দীর্ঘ এই প্রাচীর পশ্চিমে সাংহাই গুয়ানের চীন সমুদ্র থেকে গাংসু প্রদেশ অতিক্রম করেছে। এর ভিত্তি (বেজ) হচ্ছে ১৫ থেকে ৫০ ফুট এবং উচ্চতা ১৫ থেকে ৩০ ফুট। শীর্ষে ১২ ফুট বা এর বেশি উচ্চতার দুর্গ প্রাকার রয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে প্রহরী চৌকিও (গার্ড টাওয়ার) আছে। বর্তমানে সাধারণভাবে এটি ইতিহাসের এক অতি চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য কীর্তি হিসেবে স্বীকৃত। ইউনেস্কো ১৯৮৭ সালে এই স্থাপনাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। মহাপ্রাচীর পরিদর্শনের সময় প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত মাত্র একজন চীনা নাগরিক প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে পুরো মহাপ্রাচীর হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন। সাম্রাজ্য রক্ষায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে পৃথিবীতে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিল চীনারা। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক একটি সংলাপে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে গত ৭ই নভেম্বর বেইজিং পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। আজ বেইজিং সফর শেষ করে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাবেন তিনি। আগামী ১৬ই নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

Monday, November 10, 2014

মেট্রোরেল আইন ২০১৪–এর খসড়া অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় মেট্রোরেল আইন ২০১৪-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রী পরিবহন সমস্যার সমাধানে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। মেট্রোরেলে থাকবে ১৬টি স্টেশন। উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে শুরু হয়ে মেট্রোরেল বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে শেষ হবে।

আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটির অনুমোদন হয়। বৈঠকের পরে মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ কথা জানান। মেট্রোরেল প্রকল্পে সরকার দেবে পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। জাইকা দেবে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মেট্রোরেল ২০.১ কিলেমিটার দীর্ঘ হবে।
মেট্রোরেলের নকশা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জরিপ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেলে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন। এই রেলের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বিধান করা হয়েছে।
মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সবাইকে লাইসেন্স নিতে হবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে না। একটি কমিটির মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হবে। ভাড়াও নির্ধারণ হবে কমিটির মাধ্যমে।
মন্ত্রিসভায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন ২০১৪-এর খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এ ছাড়া অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) ২০১৪-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। তবে ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয়কে খসড়াটি পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সার্ক ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ফর এনার্জি কো-অপারেশন (ইলেকট্রিসিটি) অনুমোদন হয়েছে। এ ছাড়া সার্ক রিজিওনাল রেলওয়ে এগ্রিমেন্ট ফর সার্ক মেম্বারস স্টেটসের অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, আসন্ন সার্ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন।

Sunday, November 9, 2014

সরকার দেশটাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি, আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। এর প্রতিবাদে কাল (রোববার) ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ২৯ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠায় বিএনপি। শুক্রবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না দেয়ায় শনিবারের সমাবেশ বাতিল করা হয়।সরকার গোটা দেশটাকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এমন মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র এখন পুলিশের বুটের নিচে। পুলিশ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের ভাষায় কথা বলছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা এতই ক্ষমতাশালী হয়েছেন, তারা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার মিছিল-মিটিং করতে দেন না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামতে দেয়া হয় না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের। জনসভার মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচিও আজ করতে পারছি না।সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে আমরা সব আইন মেনে চলতে চেষ্টা করেছি। সভা-সমাবেশ করার ন্যূনতম সুযোগ আমাদেও দেয়া হচ্ছে না। অবৈধ সরকার গণতন্ত্রে কোনো স্পেস রাখছে না। আওয়ামী লীগ একের পর এক আইন করে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। দেশটাকে তারা স্বৈরাচার একনায়কতন্ত্রের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এর পরিণতি অতীতেও ভালো হয়নি, এখনও হবে না।’সভা-সমাবেশের অনুমতির ক্ষেত্রে সরকারের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করে, মিছিল করে। ক্ষমতাসীনদের জন্য কোনো অনুমতি লাগে না। অন্যদিকে বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে অনুমতি চাইলেও পাওয়া যায় না। সম্প্রতি যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নিজের বাসায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে পুলিশ তাদেও গ্রেফতার করে। এক দেশে দুই আইন। পুলিশের এহেন অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।ফখরুল বলেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, ক্ষমতা কাদের হাতে। সরকার পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর ভর করে ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল।‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’র গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ৭ নভেম্বর গণতন্ত্রের নতুন করে জন্ম হয়েছিল। এই দিনটি হচ্ছে অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরার দিন। যারা এ দিনটি পালন করে না বা পালন করতে দেয়া না, তারা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না। ৭ নভেম্বর অস্বীকার করা, বাংলাদেশকে অস্বীকার করার শামিল।জিয়াউর রহমানকে চতুর্থ মীরজাফর বলায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইনু সাহেবরা ৩০ হাজার নেতাকর্মীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করেছেন। ইতিহাসে ঘৃণিতভাবে তাদের নাম লেখা থাকবে। তিনি বলেন, যারা জিয়াউর রহমানকে আইএসআইয়ের চর বলেন, তারা কিন্তু ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে ছিলেন না। তাদের কেউ পাক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কেউ আবার ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।সরকার আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাট করে সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শেয়ারবাজারে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে লাখ লাখ মানুষকে পথে বসিয়েছে। কিন্তু ওইসব লুটপাটকারীর কোনো বিচার হয়নি। হলমার্ক ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিলেও এর নেপথ্য নায়করা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারি প্রতিটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করে ফেলেছে। লুটপাটের এসব টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এ সেক্টরে তাদের ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির জন্য বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রতিটি সেক্টর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হলেও তা বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুল লতিফ জনি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, শামীমুর রহমান শামীম, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, হাফেজ আবদুল মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, October 19, 2014

কক্সবাজার থেকে থাইল্যান্ড : দাস ব্যবসার নতুন রুট

থাইল্যান্ডের টাকুয়া পা শহরে স্থানীয় সরকারের এক ভবনে এখন আশ্রয় নিয়েছে ৮১ মানুষ। নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত অনেকের শরীর। তাদের চোখের দৃষ্টিতে শূন্যতা। যে ভয়ঙ্ককর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তারা গেছে, সেকথা বলতে গিয়ে গাল বেয়ে নামে চোখের পানি। অনেকেরই ভাবনা জুড়ে বাংলাদেশে ফেলে আসা পরিবার। এদের সবার কাহিনী প্রায় একই রকম। আবদুর রহিমের বয়স ১৮। বন্দী অবস্থায় আরেকটু খাবার চাওয়ায় তার ওপর চড়াও হয়েছিল অপহরণকারীরা। আঘাত সারেনি এখনো, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় তাকে।

>> আবসার মিয়া : সারাক্ষণ ভাবি কখন বাড়ি ফিরতে পারবো
আবসার মিয়া : সারাক্ষণ ভাবি কখন বাড়ি ফিরতে পারবো
আবসার মিয়া : সারাক্ষণ ভাবি কখন বাড়ি ফিরতে পারবো
আবসার মিয়া : সারাক্ষণ ভাবি কখন বাড়ি ফিরতে পারবো
আবদুর রহিমের বাড়ি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ায়। কাজ খুঁজতে গিয়েছিল ঢাকায়। সেখানে এক লোক তাকে ভালো বেতনে একটা চাকুরির প্রস্তাব দেয়। ঐ লোকের সঙ্গে আবদুর রহিম কক্সবাজার এসে পৌঁছায়। একটা পাহাড়ের উপরে একটা ছোট বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তাকে বেঁধে রাখা হয়। মাদক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর আবদুর রহিম নিজেকে আবিস্কার করে এক নৌকায়। সাগরে এই নৌকায় সাত-আটদিন কেটেছে আবদুর রহিমের। তাকে বেদম পেটানো হয়। এরপর তাদের নেয়া হয় থাইল্যান্ডের উপকূলে। সেখানে উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়। আবসারের কাহিনিও একই। তাকেও চাকুরি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। টেকনাফে এক পাহাড়ের ধারে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। মুখে কাপড় গুঁজে দেয়া হয়। এরপর মারধোর করে নৌকায় তোলা হয়। আইয়ুব ছিলেন চট্টগ্রামের দিনমজুর। কাজ খুঁজতে থাকায় এক লোক তাকে কক্সবাজার যাওয়ার পরামর্শ দেয়। একইভাবে তাকেও সেখানে অপহরণ করে নৌকায় তোলা হয়। নৌকায় আইয়ুব বার বার জানতে চেয়েছেন, তাকে কোথায় নেয়া হচ্ছে। তখন সেখানে অপহরণকারীরা তাকে হুমকি দেয়, মুখবন্ধ না রাখলে তাকে হত্যা করা হবে।
জঙ্গলের বন্দী শিবির
এই লোকগুলো যে শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের জঙ্গলের বন্দীশিবির থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তার নেপথ্য নায়ক স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রধান মানিট পিয়ানথিয়ং। থাইল্যান্ডের টাকুয়া পা উপকূলজুড়ে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা সম্পর্কে ভালোই জানেন তিনি। মিস্টার পিয়নথিয়ং জানান, এই চক্রকে নির্মূল করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এজন্যে স্থানীয়দের সাহায্য চাইছেন তারা। বাংলাদেশিদের এই বড় গ্রুপটির অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়রাই তাকে সতর্ক করেছিল। প্রথম গ্রুপে তারা উদ্ধার করেন ৩৭ জন। গত ১১ই অক্টোবর উদ্ধার করেন ৫৩ জনকে। আর এবার সর্বশেষ অভিযানে উদ্ধার করেছেন ৮১জনকে। যারা এদের আটকে রেখেছিল তাদের দুজনও ধরা পড়েছে। এদের একজনকে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশিরা সবচেয়ে নিষ্ঠুর বলে বর্ণনা করেছেন। তার নাম কেকে। বন্দী এই বাংলাদেশিদের জঙ্গলের ভেতর একটা শিবির থেকে আরেকটা শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যাতে তাদের অবস্থান গোপন রাখা যায়। মিস্টার পিয়নথিয়ং এর ধারণা, এদের দাস হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা চলছিল।
একালের ক্রীতদাস
থাইল্যান্ডের আন্দামান উপকূলে গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে মানুষের নির্যাতন-লাঞ্ছনার ভয়ঙ্কর সব দৃশ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূলত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরাই এর শিকার হয়েছেন। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই নৌকা টেনে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসছিল সাগরের মাঝখানে। এসব নৌকা স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে চলে গেছে বিভিন্ন দিকে। শত শত মানুষ সাগরে ডুবে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হয়। আর অতি সম্প্রতি থাই পুলিশ এবং সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে তারা থাইল্যান্ডের উপকূলে এসে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের বিক্রি করে দিয়েছে মানব পাচারকারীদের কাছে। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সরকার এই মানব পাচারকারীদের দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু আন্দামান উপকূলের কাছে থাই জঙ্গলের বন্দী শিবির থেকে ১৭১ জনকে উদ্ধারের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল এই সমস্যা এখনো কতটা প্রকট। সুযোগ পেয়ে রোহিঙ্গাদের শোষণ-নির্যাতনের মাধ্যমে যার শুরু, তা এখন এক সুসংগঠিত দাস ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।

৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মিলল কঙ্কাল

১৯ অক্টোবর ২০১৪ >> নগদ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েও অপহৃত শিশুপুত্র সনিকে জীবিত ফেরত পেলেন না তার বাবা শাহিন মিয়া। পেলেন না সন্তানের লাশটিও। পেলেন শুধু অবোধ শিশুসন্তানের কঙ্কাল আর মাথার খুলি। অপহরণের দীর্ঘ মাসাধিককাল পর গতকাল শনিবার মনোহরদী থানা পুলিশ একই উপজেলার ব্রাহ্মণেরগাঁওয়ের একটি জঙ্গল থেকে চার বছরের শিশু সনির এই কঙ্কাল উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, মনোহরদী উপজেলার পাইকান গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার সাথে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে সনির বাবা শাহিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে মঞ্জিল মিয়া শাহিন মিয়াকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শিশু সনি বাড়ির আঙিনায় খেলা করার সময় মঞ্জিল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম অন্য একটি শিশুকে দিয়ে সনিকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর সনিকে গলাটিপে হত্যা করে একটি বস্তার ভেতর ভরে ছেলে হারিছকে নির্দেশ করে লাশটি ফেলে দেয়ার জন্য। ছেলে হারিছ সনির বস্তাবন্দী লাশ মোটরসাইকেলে উঠিয়ে ব্রাহ্মণেরগাঁওয়ের একটি জঙ্গলের ভেতর ফেলে চলে আসে। এরপর অপহরণকারী মঞ্জিল মিয়া, তার স্ত্রী মাজেদা বেগম মোবাইল ফোনে এই মর্মে মুক্তিপণ দাবি করে যে, বিকাশের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে শিশু সনিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। অন্যথায় সনিকে হত্যা করা হবে। সনির বাবা শাহিন সরল বিশ্বাসে বিকাশের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে অপহরণকারীদেরকে জানান, সনিকে ফেরত দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। এরপরও অপহরণকারীরা তার কাছে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু সনিকে ফেরত না দেয়ায় সনির বাবা শাহিন তাদের দাবিকৃত বাকি ৫০ হাজার টাকা দেননি। এরপর সনির বাবা একাধিকবার মনোহরদী থানায় সনিকে অপহরণ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। পুলিশ সনির কোনো হদিস করতে পারেনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মনোহরদী থানার এসআই তানভির আহমেদ মঞ্জিল মিয়াকে গ্রেফতার করে। এরই সূত্র ধরে গ্রেফতার করে তার ছেলে হারিছ মিয়া, স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং কন্যা সুমাসহ সাতজনকে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মনোহরদী থানা পুলিশ শনিবার বেলা ১১টায় শিশু সনির কঙ্কাল, মাথার খুলি, পরনের কাপড় এবং একটি বস্তা ব্রাহ্মণেরগাঁওয়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর সনির বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের গগনবিদারী চিৎকারে পাইকান গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শত শত মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় জমান।

Saturday, October 18, 2014

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে গ্রামের উন্নতি করতে হবে : এপিজে আবদুল কালাম

বাংলাদেশে পাটের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনো ভিশন, মিশন ও ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম। তিনি বলেন, একটি জাতির মূল ভিত্তি তৈরি হয় পরিবার ও প্রাথমিক শিা থেকে। প্রত্যেক পিতা-মাতা ও শিক্ষক যেমন পরিবার গড়ে তোলে। তারাই একটি দেশ ও একটি জাতি তৈরি করে। শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) এক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি একথা বলেন। এমসিসিআই’র ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য এটি খুবই সম্ভাবনাময় শিল্প। আগের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে উদ্ভাবনী কৌশলের মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এতে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে কৃষি ও ুদ্র শিল্পকে শক্তিশালী করতে হবে, প্রযুক্তিকে গ্রামে নিয়ে যেতে হবে। গ্রামের উন্নতি করতে হবে। কারণ গ্রামের উন্নয়নই জাতীয় উন্নয়ন। তিনি বলেন, পাটের কর্মীদের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। কারণ খুলনা অঞ্চলে এর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এমসিসিআই সহ-সভাপতি আনিস এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, ডিসিসিআই সভাপতি শাহাজাহান খান প্রমুখ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সমন্বয় দরকার : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আঞ্চলিক সমন্বয় ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। এ অঞ্চলের কাঙ্খিত উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী থেকে যথাযথ পানি বণ্টনের মাধ্যমে দুই দেশের পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে ‘দিল্লি পলিসি গ্র“প আয়োজিত ভিশন-২০১৪ রিজওনাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সার্কের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শীলকান্ত শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রী সুনীল বাহাদুর থাপা, শ্রীলঙ্কার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিথা বোগোলাগামা বক্তৃতা করেন। এ সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ. করিম উপস্থিত ছিলেন বলে আজ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

স্পিকার বলেন, ভারত সরকার ও দেশটির জনগণ ’৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছিল, সেটা বাংলাদেশ চিরকাল মনে রাখবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা দু’দেশের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, জনগণের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশকে আন্তরিকভাবে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়ন, সব ধরনের সন্ত্রাস রোধের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সব দেশকে একযোগে কাজ  করে টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সব দেশকে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব-এশিয়া তাদের উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগকে কাজে লাগিয়েছে। আগামীতে সার্ক আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাডার এড়াতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ভারতের

ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘নির্ভয়’-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। গতকাল শুক্রবার ওডিশা উপকূলের চাঁদিপুরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা চালানো হয়। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভয় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। রাডারে এর উপস্থিতি শনাক্ত করা সহজ নয়। এ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর মধ্য দিয়ে ভারত কাছাকাছি দূরত্বের ‘শত্রুদেশের’ অভ্যন্তরে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করল। ভারতের অগ্নিসহ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে নির্ভয়ের বিশেষ পার্থক্য হলো এর ডানা আছে। নির্ভয় ছোড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্রের মতো করেই। কিন্তু পরে এটি ডানা মেলে বিমানের মতো চলতে পারে। এটি লক্ষ্যবস্তুর কাছে বাতাসে স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে এবং যেকোনো দিক থেকে আঘাত হানতে পারে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) তৈরি করা নির্ভয় শব্দের কাছাকাছি গতিতে চলতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগেও ভারত দূরপাল্লাসহ কৌশলগত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। কিন্তু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এটাই প্রথম। নির্ভয়কে মার্কিন টোমাহক ও পাকিস্তানের বাবর ক্ষেপণাস্ত্রের ভারতীয় সংস্করণ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ১২ মার্চ নির্ভয়-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এর ইঞ্জিন বিকল করা হয়। পরে এটি উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। মোদির বৈঠক: এদিকে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল সকালে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সব সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম বৈঠক। নয়াদিল্লির এই বৈঠকে মোদি তাঁর কৌশলগত লক্ষ্য সম্পর্কে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এ ছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতিসহ দেশের নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন তিনি। পাকিস্তান ও চীনের সেনাদের সীমান্তে অস্ত্রবিরতি চুক্তি ‘লঙ্ঘনের’ বিষয়েও কমান্ডারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাজাখ তেলক্ষেত্রে হাজারো কোটি ডলার জলে

কাজাখস্তানের জলসীমায় উত্তর কাস্পিয়ান সাগরে ২০০০ সালে কাশাগান তৈলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। তিন দশকের মধ্যে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘটনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি ভেস্তে গেছে। দ্য ইকনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট বছর পর গত বছর ক্ষেত্রটি থেকে তেল উত্তোলন শুরু হয়। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে চার হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে, যা মূল বাজেটের চেয়ে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার বেশি। এত খরচের পরও ক্ষেত্রটি থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহ তেল উৎপাদন করা গেছে। বিষাক্ত গ্যাস প্রবেশ করায় তেলক্ষেত্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির এক মন্ত্রী স্বীকার করেন, অন্তত ২০১৬ সালের আগে তেলক্ষেত্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না।  কাশাগানে ব্যর্থতার পরও এ মাসেই দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা আরেকটি বড় বাজেটের তেলক্ষেত্র উন্নয়নের প্রকল্প অনুমোদন করবে। উপকূলবর্তী তেনগিজ তেলক্ষেত্রে দুই হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ পড়বে বলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার বলছে, এই প্রকল্পের খরচ চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে। অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কাশাগান প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছে। ওই সমস্যা সমাধানে আরও ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখানে অনেক কোম্পানি যুক্ত থাকায় সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পে সরকারের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপও রয়েছে।

নাম তার যুবরাজ, দাম সাত কোটি রুপি!

১৮ অক্টোবর, ২০১৪ >> লম্বায় ১৪ ফুট। ওজন এক হাজার ৪০০ কেজি। অতিকায় এই মহিষটির নাম যুবরাজ। বিশাল বপুর এই ষাঁড় মহিষটির দাম উঠেছে সাত কোটি ভারতীয় রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ২৮ টাকা। তবে যুবরাজের মালিক এখনই তাকে বেচতে নারাজ।

আজ শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাট শহরে গবাদিপশু প্রদর্শনী (অল ইন্ডিয়া ক্যাটেল শো) অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ১০ বিচারকের রায়ে যুবরাজ প্রদর্শনীর অন্য সব গবাদিপশুকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়েছে।
যুবরাজকে নিজের ছেলের মতোই লালন-পালন করেন এর মালিক করমভীর সিং। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর যুবরাজের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ রুপি আয় হয়। জীবনে সবকিছু টাকার উদ্দেশ্যে নয়।’
করমভীর জানান, দৈনিক ২০ লিটার দুধ পান করে যুবরাজ। পাশাপাশি পাঁচ কেজি আপেল ও উন্নতমানের পশুখাদ্য খায়। দিনে চার কিলোমিটার পথ হাঁটে সে। যুবরাজের পেছনে তাঁর মাসে ২৫ হাজার রুপির মতো ব্যয় হয়। তিনি বলেন, ‘চন্ডিগড়ের এক কৃষক যুবরাজকে কিনতে সাত কোটি রুপি দাম হেঁকেছিল। কিন্তু আমি যুবরাজকে এখন বিক্রি করতে প্রস্তুত নই।’
ভারতের সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী রবিন্দর সাংভান জানান, মুর্রাহ প্রজাতির এই মহিষটি উচ্চ উৎপাদনের জন্য বিশ্বখ্যাত। এর উৎস মূলত হরিয়ানা রাজ্যের রোহটাক ও জিন্দ জেলায়। তবে উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলেও এ জাতের মহিষের দেখা মেলে। তিনি বলেন, যুবরাজের শরীর থেকে প্রতিদিন ৩.৫ থেকে ৫ মিলিলিটার পর্যন্ত শুক্রবীজ সংগ্রহ করা হয়। পানি মিশিয়ে এই পরিমাণকে ৩৫ মিলিলিটার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
একটি মাদি মহিষের কৃত্রিম প্রজননের জন্য মাত্র ০.২৫ মিলিলিটার শুক্রবীজের দরকার হয়। যুবরাজের শুক্রাণু দিয়ে একটি মহিষের কৃত্রিম প্রজননের জন্য নেওয়া হয় দেড় হাজার রুপি। সে হিসাবে যুবরাজের মালিক সহজেই মাসে ২ লাখ ১০ হাজার রুপি আয় করতে পারেন।

‘এইসব দিনরাত্রি’র টুনির লাশ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

বিটিভির এক সময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক এইসব দিনরাত্রির চরিত্র টুনির লিউকোমিয়া হয়েছিল। দর্শক জেনে গিয়েছিল টুনির মৃত্যু অবধারিত। তবু তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হাজারো অনুরোধ জমা পড়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনে। নাটকের সেই ছোট্ট টুনি চরিত্রের অভিনেত্রী নায়ার সুলতানার (৩৫) ফাঁস লাগানো মৃতদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়েছে। নায়ারের মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে নায়ারের স্বামী আলী আমিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করার পর গতকালই আলী আমিনকে আটক করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আজ শুক্রবার দুপুর নাগাদ মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা আদালতে গিয়ে আলী আমিনের মুক্তি প্রার্থনা করেন। এর আগে পুলিশ হত্যা মামলায় আলী আমিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আলী আমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গুলশান থানার পুলিশ জানায়, গুলশানের ১২৬ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে নায়ারের লাশ উদ্ধার করা হয়। গলায় শাড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরপর স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাসার বাইরে থেকে স্বামী আলী আমিনকে আটক করা হয়। তবে ঢাকা মেডিকেলে যাওয়া নায়ার সুলতানার কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নায়ার যখন আত্মহত্যা করেন তখন বাড়িতে তাঁর দুই সন্তান ছাড়া আর কেউ ছিল না।

আজ সন্ধ্যায় নায়ারের মা রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে অপর প্রান্তে থাকা এক নারী নিজেকে অতিথি বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, সবাই খুব মুষড়ে পড়ায় কেউ কথা বলতে পারবেন না। তিনি নায়ারের স্বামীর পরিবারের কারও ফোন নম্বর দিতেও অস্বীকৃতি জানান। মামলার এজাহারে রাজিয়া সুলতানা উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের ৩ অক্টোবর নায়ারের সঙ্গে আলী আমিনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে নয় ও ছয় বছরের দুই সন্তান আছে। এজাহারে রাজিয়া আরও উল্লেখ করেন, আলী আমিন একজন মাদকাসক্ত। তিনি প্রতিদিন মাদকাসক্ত হয়ে বাসায় ফিরে নায়ার সুলতানাকে মারধর করতেন। কিন্তু দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে নায়ার সব অত্যাচারই সহ্য করতেন। এসব অত্যাচারে আলী আমিনের বাবা-মাও প্রশ্রয় দিতেন। এরই ধারাবাহিকতায় বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে আলী আমিন নায়ার সুলতানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। আলী আমিন তাঁর বাবা মায়ের প্ররোচনায় নায়ার সুলতানাকে হত্যা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান। সুরতহালে উল্লেখ করা হয়, নিহত নায়ারের গলায় অর্ধ চন্দ্রাকৃতির দাগ ও বাম হাতের গিরায় আঘাতের কালো চিহ্ন আছে। জানতে চাইলে এসআই আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলী আমিন দাবি করেছেন, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে নায়ার সুলতানা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁকে বাসার বাইরে থেকে আটক করা হয়েছে।
বাসার বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে আলী আমিন পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর বড় সন্তানকে গতকাল দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে আসার পর তিনি একটু ঘুরতে বের হয়েছিলেন। এরই মধ্যে ঘটনার খবর সংবাদ পেয়ে বাসার দিকে রওনা দেন তিনি। পরে বাসার সামনে থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু হত্যা মামলা হয়েছে তাই আমরা ঘটনার ব্যাপারে গ্রেপ্তার আলী আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করব।’