Showing posts with label ব্রেকিং নিউজ. Show all posts
Showing posts with label ব্রেকিং নিউজ. Show all posts

Thursday, July 9, 2026

জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে

জুলাই সনদকে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে বিএনপি জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তারা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন জুলাই চার্টার একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল। আর এই সংসদে দাঁড়িয়ে তারা আবার প্রমাণ করলেন তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছেন। গতকাল রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে জামায়াতসহ ১১ দলকে হারানো হয়েছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ। কিন্তু তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। পরে বিষয়টি স্বীকারও করা হয়েছে।

বিএনপি নিজেদের দেয়া কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করে জামায়াত আমীর বলেন, আমরা বিস্মিত হলাম, জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতারণার আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া যায়। ভালো হয়েছে জাতি চিনে ফেলছে, এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। ওখানে যা বলা হয়, কার্যত তা লেখা হয়ে যায়, ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়, যদি এটা এক্সপাঞ্জ না হয়ে থাকে। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয় নাই, কাজেই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে থাকলো।

রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের সুবিধামতো অবস্থান পরিবর্তন করে, তাহলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে বলেও জানান জামায়াত আমীর।

নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১ দলীয় ঐক্যকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিরোধী দলের নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সেদিন রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করলে বা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে, এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো, তা কেউ জানে না। তাই ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন হবে জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা বলেন, আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো। রাজপথে সমানতালে আমাদের আন্দোলন চলছে, আরও বেগবান হবে। দিনের পর দিন ঝড়-বৃষ্টি সবকিছু উপেক্ষা করে এ পর্যন্ত আন্দোলন বাস্তবায়ন হয়েছে। লোহা গরম হয়ে লাল হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু লাল যখন হবে, তখন জনগণ হাতে মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পেটাবে।

বিএনপি’র প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। নির্বাচন করেছি, সরকার পরিচালনা করেছি, রাজনীতি করেছি। কিন্তু এখন আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ভাষা ও বক্তব্যে মনে হয়, তারা জীবনে আমাদেরকে কোনোদিন দেখেন নাই। ভুলে গেছেন এত তাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না, একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।

গণভোটের রায় নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এই বার্তাটিই দিতে চাই যে, জাতির রায়ের অপমান সহ্য করবেন না। জাতির রায়কে সম্মানিত করার জন্য আমাদের লড়াই চলছে। আমরা জাতিকে সঙ্গে নিয়েই বিজয়ী হবো। বাংলাদেশের জন্য বিজয়ী হবো।

জুলাই যোদ্ধাদের অপমান করার দুঃসাহস কেউ যাতে না দেখায়, সে ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে, আপনারা সংযত হন। সংযত না হলে জনগণের উত্তাল ঢেউ আর জোয়ারে সমস্ত জঞ্জাল ভেসে যাবে। আইন আমরা হাতে তুলে নেয়ার পক্ষে নই। কিন্তু আমরা তাও বলবো যে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দুঃসাহস আর দেখাবেন না। যদি দেখান, মনে রাখবেন, এই যুবসমাজ, এই জনতা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি।

সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকউটর তাজুল ইসলাম। এ ছাড়াও সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১১ দল আপনার শত্রু নয়। আমরা আপনার ও দেশের কল্যাণ চাই। আপনার চারদিক শত্রু দ্বারা বেষ্টিত। আপনি ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন করবেন না। আর দেশের মঙ্গল ও আপনার কল্যাণের জন্য সংস্কারের বিষয়গুলো মেনে নিন।

জুলাই সনদ নিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে

Wednesday, July 1, 2026

ওজন কমাতে কোন ধরনের ডায়েটের পথে হাঁটবেন না by সৈয়দা শারমিন আক্তার

পেশি, চর্বি, পানি, হাড়, রক্ত ও মস্তিষ্কের সমন্বয়েই একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ ওজন। আর এই সবটা মিলে যখন উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে পড়ে, তখন তার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। আর তাই সুস্থ থাকতে একজন ব্যক্তির সঠিক ওজন থাকা জরুরি।

ওজনে কার কত ভূমিকা

শরীরের ওজনের সবচেয়ে বড় অংশই পানি। সাধারণত পুরুষের দেহের ওজনের ৫৫-৬৫ এবং নারীর ৪৫-৬০ শতাংশ পানি থাকে। যাঁরা মোটামুটি সচল জীবনযাপন করেন, তাঁদের পেশির ওজন ৩০-৪০ শতাংশ থাকে।

নারীদের দেহে চর্বির পরিমাণ ১৮-৩০ শতাংশ, সেই তুলনায় পুরুষের দেহে চর্বি কিছুটা কম, ১০-২০ শতাংশ। প্রত্যেক মানুষের দেহস্থ কঙ্কালের ওজন ১০-১৫ ভাগ। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ দেহের ওজনের ৭-৮ শতাংশ। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করা মস্তিষ্কটি দেহের মোট ওজনের ২ শতাংশ।

একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তির খাদ্যশক্তি শরীরে প্রধানত দুইভাবে খরচ হয়। দেহের সম্পূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল ও স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য শক্তি প্রয়োজন পড়ে আর জীবনযাপন ও অ্যাকটিভিটিজেও শক্তি খরচ হয়। মানে ক্যালরি গ্রহণ এবং খরচের ওপর নির্ভর করে ওজনের ভারসাম্য। কোনো কারণে এর ব্যত্যয় ঘটলেই ওজন বাড়তে থাকে।

একজন ব্যক্তির হঠাৎ করে ওজন বাড়ে না। ক্যালরি গ্রহণ অনুযায়ী কম শারীরিক কার্যকলাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। দেখা যায়, ইনসুলিনের প্রভাবে শক্তি সঞ্চয় হয়, ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে কোষে জমে চর্বি।

এতে চর্বির কোষ যেমন বড় হয়, পাশাপাশি সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। মানে বিপাক, হরমোন, মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি টিস্যুর জটিল ক্রিয়ায় ওজন বাড়ে। ওজন বৃদ্ধি তাই শুধু খাদ্যগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল না। যে কারণে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণেই যে ওজন কমবে, সেটা ঠিক না। ওজন কমাতে সম্পূর্ণ অবস্থা বুঝেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কোন ডায়েট এড়িয়ে চলবেন

সুস্থভাবে ওজন কমাতে কখনোই খুব কঠিন কিছু করার দরকার নেই। বিশেষ করে কিছু ডায়েট থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আমার পরামর্শ—

* ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমাবেন না। সারা দিনে খুব কম খাদ্য গ্রহণে হয়তো দ্রুত ওজন কমে, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। পুষ্টির ঘাটতিতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরাসহ হতে পারে পেশি ক্ষয়। ক্র্যাশ ডায়েটের পর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলেই আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যায়।

* একই ধরনের খাবারের মাধ্যমে ওজন কমানোর কথা চিন্তা করবেন না। একই গ্রুপের খাবার কখনো শরীরের সব রকম পুষ্টি সরবরাহ করে না। যেমন শুধু ফল, শুধু স্যুপ বা শুধু জুস খেয়ে ওজন কমাতে গেলে আপনার শরীরে বরং পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে।

* শরীর ডিটক্সিফিকেশনের জন্য কিছুদিন ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমানোর পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স খেলে শরীরে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। তবে শরীরের ওজনের ওপর ভিত্তি করে পানি পান করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০-৩৫ মিলিলিটার পানি পান করুন।

* খাদ্যের ৬টি উপাদান রয়েছে। প্রতিটিরই শরীরে ভিন্ন ভিন্ন কাজ আছে। ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া কার্বোহাইড্রেট, ফল অথবা দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সে জন্য এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরিহার করুন।

* অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনে ফাইবার খুবই কম থাকে। প্রাণিজ প্রোটিন অতিরিক্ত খেলে এবং শাকসবজি, ফল ও ফাইবারযুক্ত খাবার না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

* স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেড়ে গিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে, কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অন্ত্রেও মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে।

মূলত ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের সামঞ্জস্য। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা খাবার বা রান্না ছাড়া খাবার প্রাধান্য দেওয়া ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনধারণের জন্য নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সঠিক মেটাবলিজম এবং চাপ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি।

* লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ, ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার, বাংলামোটর, ঢাকা

একই ধরনের খাবার খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়
একই ধরনের খাবার খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়। মডেল: ললনা। ছবি: কবির হোসেন

Thursday, January 1, 2015

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট’ রকেট: নিহত ২৬, আহত ৪৫

আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের সাঙ্গিন জেলায় সেনবাহিনী ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় কাছাকাছি অবস্থিত একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে তালেবানের ছোঁড়া একটি রকেট আঘাত হানলে কমপক্ষে ২৬ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৫ জন। পুলিশের এক মুখপাত্র ফরিদ আহমেদ ওবাইদ এ তথ্য জানান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। তালেবানরা রকেটটি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ছুঁড়লেও, সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত হানে। এদিকে নিহতের সংখ্যা ৩০ ও আহতের সংখ্যা ৬০ জন হতে পারে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ওই অঞ্চলে গত ৬ মাস ধরে তালেবানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। কনের চাচাতো ভাই আবদুল হালিম তার ৯ সন্তানের কোন হদিস এখনও পাননি। বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহের মধ্যে তার ৯ সন্তান রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠানের আনন্দ মিলিয়ে গিয়ে সেখানে এখন চলছে শোকের মাতম।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৭,০০০ ভূসম্পত্তি তলিয়ে যাবে সমুদ্রগর্ভে

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ৭ হাজার বাড়িঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। ৩,৪৫৩টি বাড়িঘর এবং ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ ৩,২১৬টি অনাবাসিক ভূসম্পত্তি সমুদ্রের পাতিতে তলিয়ে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। প্রধানত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে, তাতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি’র বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ বিশালাকায় ঢেউ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উপকূলরেখা মুছে গিয়ে দ্রুতই আরও কাছে এগিয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে, ৮০০ ভূসম্পত্তি আগামী ২০ বছরের মধ্যে সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। এমনটাই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। একই সঙ্গে ঝড়ের আশঙ্কাও বাড়তে থাকবে। যদি এ ভূসম্পত্তিগুলোকে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে। পরিবেশ সংস্থার মতে, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি ভূসম্পত্তি পানিতে তলিয়ে যাবে। আগামী ১০০ বছরে স্থানীয় ৬টি অঞ্চল- গ্রেট ইয়ারমাউথ, সাউদ্যাম্পটন, কর্নওয়াল, নর্থ নরফোক, ইস্ট রাইডিং ও স্কারবরোর প্রতিটি থেকে ২ শতাধিক বাড়িঘর সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হলে, তার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলো। সম্প্রতি আগামী ৬ বছরের জন্য ২৩০ কোটি পাউন্ড অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যার মূল অংশ ব্যয় হবে প্রাকৃতি দুর্যোগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায়। ১৫,০০০ ভূসম্পত্তিকে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এ ৬ বছরে।

রাজনীতির অধঃপতনে ভারসাম্যহীন উন্নয়ন

বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই উত্‍সব৷ কিন্তু ২০১৪ সালের শুরুতে একতরফা জাতীয় নির্বাচনে উত্‍সবের পরিবর্তে হয়েছে সংঘাত৷ নির্বাচনের পর প্রায় একবছর কেটে গেছে৷ কিন্তু এ সময় বড় আকারের সংঘাত না হলেও, বছর জুড়েই ছিল অস্বস্তিকর অবস্থা এ সময়ে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচকে অনেক ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও, রাজনৈতিক সূচকের অধঃপতন হয়েছে৷ আর নতুন বছরে সেই অস্বস্তি থেকে স্বস্তি নয়, বরং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাই করা হচ্ছে৷ রাজনৈতিক সংকট ফের সংঘাতে রূপ নেয়ার সব আলামত এখন স্পষ্ট৷ বিশ্লেষকরা বলছেন রাজনৈতিক অধঃপতনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এক ভারসাম্যহীন উন্নয়ন ঘটছে, যা আখেরে ভালো নয়৷ যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশে গত এক বছরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কী ছিল? এর জবাব হবে একটিই৷ তা হলো ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন৷ বাংলাদেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ দিন তারিখসহ যে দু-একটি নির্বাচনের কথা মনে রেখেছে বা রাখবে, তা হলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন৷
এই নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন সময় পার করেছে৷ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছে৷ প্রধান বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার একটি একতরফা নির্বাচন করে৷ সেই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ জন সাংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন৷ বাকি ১৪৭ আসনের নির্বাচনে ভোট পড়ে শতকরা ২০ ভাগেরও কম৷ এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় যায়৷
বিএনপি জোটের দাবি ছিল একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ তারা আওয়ামী লীগ, তথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনো নির্বাচন চায়নি৷ তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিল৷ কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচনের ব্যাপারে অনঢ় থাকে৷ প্রসঙ্গত, এর আগে আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়৷
নির্বাচনের আগে সংলাপের কথা বলেছিলেন সবাই৷ এমনকি আওয়ামী লীগ-বিএনপিও৷ শেখ হাসিনা ফোনও করেছিলেন খালেদা জিয়াকে৷ আন্তর্জাতিক চাপ ছিল সংলাপের মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের৷ জাতিসংঘও উদ্যোগ নিয়েছিল৷ কিন্তু কোনো উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি৷
একতরফা নির্বাচনের পর গত এক বছর ধরে আরেকটি নির্বাচনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি৷ তারা আগের অবস্থানেই আছে৷ তা হলো, একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ এ জন্য সংলাপের দাবিও জানাচ্ছে তারা৷ কিন্তু সরকার এখন খুব স্বাভাবিকভাবেই আগের চেয়ে আরো শক্ত অবস্থানে চলে গেছে৷ নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল, এটা সংবিধান রক্ষার নির্বাচন৷ পরে সব দলের অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচন হবে৷ কিন্তু সেই কথায় সরকার এখন আর নেই৷ তারা বলছে, নতুন নির্বাচনের জন্য এই সরকারের মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ তার মানে আরো চার বছর৷ এছাড়া নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা তখন দেখা যাবে, বলছে আওয়ামী লীগ৷
অন্যদিকে বিএনপি তার দাবি আদায়ে গত এক বছর ধরে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে৷ নতুন বছরে অবশ্য তারা চাইছে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে৷ ২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারিকে সামনে রেখে তারা চাইছে সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে৷ ৫ই জানুযারির আগে ও পরে বিএনপি-র নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ঢাকাসহ সারাদেশে বড় ধরণের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ তবে সরকারও তা ঠেকাতে প্রস্তুত৷
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি তাত্‍পর্যপূর্ণভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে গেলেও প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ৷ শাসন পরিস্থিতি, বাংলাদেশ: গণতন্ত্র, দল, রাজনীতি শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি ডিসেম্বর মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়৷ তাতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অবশ্যই একটা ঝুঁকি৷ এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় সংলাপই একমাত্র সমাধান৷
গত ২০শে ডিসেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যদি রাজনৈতিক উন্নয়নকে ছাপিয়ে যায় তাহলে সমাজে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়৷ অর্থনীতি ও রাজনীতির সমান ও সমান্তরাল উন্নয়ন প্রয়োজন৷ তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ও সহিংসতা বন্ধে আওয়ামী লীগকে সংলাপে বসার ও বিএনপি-কে জামায়াত ত্যাগের আহ্বান জানান তিনি৷
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে সব বিষয়ে সব দলের ঐক্য হবে না, এটাই স্বাভাবিক৷ তবে তা হতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়৷ রাজনৈতিক দলগুলোর বিবাদে দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে৷ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ সুষ্ঠু নির্বাচন৷
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের তহবিল বাড়াতে এখন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের রাজনীতিতে আনা হচ্ছে৷ বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে একচ্ছত্র দলতন্ত্রের বিকাশ ঘটছে৷ বড় দলগুলো বিশেষত সরকারি দল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখলে নিয়ে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করছে৷ সুশীল সমাজ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবখানে পড়েছে দলীয়করণের প্রভাব৷ ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও দলীয় রাজনীতির বলয়ে আবদ্ধ৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, যে উন্নয়ন আমরা দেখছি তাকে বলা যায় একটা আনইভেন গ্রোথ৷ এটাকে ভালো বলার কোনো উপায় নেই৷ কারণ রাজনৈতিক সংঘাত এই উন্নয়নকে স্থিতিশীল হতে দেবে না৷
তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর আসল বিরোধী দল বাইরে৷ আর বিরোধী দল বলতে যাঁরা আছেন, তাঁরা আবার সরকারেই বসেছেন৷ এটা একটা অদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ এই অবস্থা যতদিন চলবে, ততদিন দেশে প্রকৃত উন্নয়ন হবে না৷
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আহমেদ বলেন, সরকারি দল এখন চাইছে সব কিছু ঠিক-ঠাক আছে কিনা, তা দেখাতে৷ এ জন্য তারা নানা কৌশল নিচ্ছে৷ ওদিকে বিএনপি চাইছে দেশ যে ঠিকমত চলছে না, তা দেখাতে৷ ফলে সার্বক্ষণিক এক ধরণের সংঘাত লেগেই আছে৷ বিএনপি যখন এই সংঘাতকে আরো স্পষ্ট করার সক্ষমতা অর্জন করবে, তখন তা রাজপথের সংঘাতে রূপ নেবে৷ তাই ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যতদিন না একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে, ততদিন দেশে প্রকৃত অর্থে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে না৷
তিনি আরো বলেন, দেশে রাজনৈতিক বিরোধিতা নেই, যেটা গণতন্ত্রে দরকার৷ আছে রাজনৈতিক শত্রুতা আর প্রতিহিংসা, যা সব উন্নয়নকে শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত করে দেবে৷

Wednesday, December 31, 2014

টেকনাফে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা

টেকনাফে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তবে কি কারণে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।  
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ ভোরে প্রথম প্রহরে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলী পাড়ায় একটি পরিত্যক্ত লাশ দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয় মেম্বার ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পারে সে ঐ এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র আজগর আলী (৪৭)।
সুরতহাল রিপোর্টকালে তার গলা কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। টেকনাফ থানার সেকেন্ড অফিসার শাহজাহান ভোর ৪টায় লাশ উদ্ধার করে মডেল থানায় নিয়ে আসেন ।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কি কারণে এই নৃশংস ঘটনার সুত্রপাত তা জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা কবির, ইসমাঈল,বশরসহ লোকজন বলেন ইয়াবা বিক্রি অথবা পারিবারিক কলহের কারণে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সুত্রপাত বলে মনে করেন।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার এসআই শাহজাহান লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, খুনিদের চিহ্নীত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গাজীপুরে আগুন, আটক ২৭, আহত ১০

জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে আজ সকালে গাজীপুর রেল ক্রসিংয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে রেললাইন অবরোধ করার চেষ্টা চালায় জামায়াত, শিবির-কর্মীরা। এ সময় পুলিশের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। এছাড়া নগরের ভোগড়া বাইপাসও  চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে দুই যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আগুনে বাস দুইটির অধিকাংশই পুড়ে গেলেও কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। এদিকে হরতালে নাশকতা চালানোর অভিযোগে গাজীপুরে গত ১২ ঘণ্টায় ২৫ জন জামায়াত, শিবির-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে, জয়দেবপুর থানা এলাকা থেকে ১৩ জন, টঙ্গী থানায় ৯ জন ও শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মিছিলে পুলিশের হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর শিবির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি অবিলম্বে আটক নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হরতাল সমর্থনে সকালে সড়কের আগুন জ্বালিয়ে নগরের টঙ্গী চেরাগ আলী মার্কেট ও কলেজ গেটে জামায়াত- শিবির মিছিল বের করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ঘটনার সময় আহত হয়েছে শিবিরের ১০ কর্মী। কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দুই শিবির-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

হরতালের মধ্যেও চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে

হরতালের মধ্যেও চারদফা দাবি আদায়ে চুয়াডাঙ্গায় চলছে খুলনা বিভাগ পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বুধবার ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। হরতালের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি পরিবহন ধর্মঘটের করণে চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ রুটে সকল প্রকার বাস-ট্রাক টেম্পু চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা থাকলেও এখনও বসা হয়নি। উল্লেখ্য, পরিবহন শ্রমিকদের ৩ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সশ্রম কারাদ-ের বিধান, লাইসেন্স’র নামে বিআরটিএ’র হয়রানি, ফেরিঘাটে সিরিয়ালের নামে শ্রমিক হয়রানি ও হাইওয়ে স্কেলের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১০ জেলায় ৪৮ ঘন্টার এ ধর্মঘট আহবান করে খুলনা বিভাগ পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ।

পুলিশের হাতে শিবির কর্মীর কামড়

হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করার সময় বাধা দেয়ায় পুলিশের হাত কামড়ে দিয়েছে এক শিবির কর্মী। কামড়ের শিকার পুলিশ সদস্য হলেন-  গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক কনস্টেবল জয়নাল আবদিন। আজ সকালে বরিশাল নগরীর স্টেডিয়াম গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাতটার দিকে নগরীর স্টেডিয়াম গেটে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছিলেন। এসময় কনেস্টবল জয়নাল তাদের বাধা দেন। বাধা উপেক্ষা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করেন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি এক  শিবিরকর্মীকে জাপটে ধরেন। এ সময় ওই শিবির–কর্মী তার হাতে কাময় বসিয়ে পালিয়ে যান। এতে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

হ্যাপির মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপির দায়ের করা মামলায় জব্দকৃত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আলামতে কোন জৈব পদার্থ আছে কি-না থাকলে তার ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয় গতকাল। আজ শুনানি  শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ ঢাকার সিএমএম আদালতে এই আবেদন করেন। গত ১৩ই ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় প্রতারণা করে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি।

খালেদার নিরাপত্তায় চকবাজার থানায় জিডি

২০ দলীয় জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইনজীবী এডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া। আজ দুপুরে এ জিডি দায়ের করেন তিনি। জিডি গ্রহণ করেছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক। এড. জাকির হোসেন মানবজমিনকে বলেন, গত ২৪শে ডিসেম্বর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জড়ো হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এছাড়া আগামী ৭ই জানুয়ারি ওই আদালতে খালেদা জিয়ার পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য রয়েছে। এতে আমরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা চেয়ে চকবাজার একটি জিডি করেছি। জিডি গ্রহণ করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জিডির নাম্বার দেবেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ঢাকা বারের সভাপতি মহসিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার পানশালা রাতভর বন্ধ থাকবে


ঢাকা শহরের বার বা পানশালাগুলো আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরকে সামনে রেখে এ নির্দেশনা জারী করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুলিশ বলছে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যেকোনো ধরনের আশঙ্কা রোধ করতে তারা বদ্ধপরিকর। নির্দেশনায় কিছু বিশেষ এলাকায় যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ এবং উন্মুক্ত স্থানে যে কোন আয়োজন না করতে বলা হয়েছে। র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এক ব্রিফিং এ নগরবাসীকে চার দেয়ালের মধ্যেই থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে বলেছেন। থার্টি ফার্স্ট নাইট বিষয়ে পুলিশের নানা নির্দেশনার বিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় কিছু লোক মাতাল হয়ে অপরাধমূলক কাজ করে বা রেকলেস ড্রাইভিং করে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্যই এ ব্যবস্থা”।
কিন্তু ঢাকার বার বা পানশালাগুলো তো বৈধভাবে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে।
সেগুলোকে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বলার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফাইভ স্টার হোটেলের বিষয়ে তো বলছিনা। খুচরো গুলোর বিষয়ে কিছু অবজারভেশন আছে আমাদের”।
উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠানের নামে এক শ্রেণীর যুবক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়না”।
রাত আটটায় বিভিন্ন এলাকা প্রবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বনানী বা গুলশানে যারা বসবার করেন তারা যেতে পারবে। অন্য ক্ষেত্রে মানুষের জরুরী প্রয়োজনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে”।
সারাবিশ্বে তো থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হয় বিভিন্ন আয়োজনে। এখানে আতশবাজি বা উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। উদযাপন বন্ধ বা কড়াকড়ি আরোপ কি যৌক্তিক ?
জবাবে মিস্টার রহমান বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান হোক। কোন বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেজন্য আমরা সজাগ। কিছু বিষয় আছে যেহেতু আমাদের কালচারের সাথে যায়না সেজন্য কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে”।

পুলিশে ‘বডি ওউন ক্যামেরা’

পুলিশ বাহিনীতে প্রথম বারের মতো সংযোজন করা হয়েছে ‘বডি ওউন ক্যামেরা’। আজই থার্টি ফার্স্ট নাইটে এ ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। বেল্টের মাধ্যমে মাথা ও শরীরে বেঁধে এই ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দৃশ্য বা চিত্র ধারণ করবে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার শাহবাগে এই ‘বডি ওউন ক্যামেরা’র আনুষ্ঠানিক সংযোজন করেন মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগসূত্র বা সমন্বয় আরও জোরদার করতেই এ ক্যামেরা সংযোজন করা হয়েছে। তিনি জানান ট্রাফিক বিভাগ প্রথম পর্যায়ে ১৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। পরে অপরাধ বিভাগ ও থানায় এ ধরনের ক্যামেরা দেয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইচডি ফরম্যাটে ১৬ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরায় একটানা আট ঘণ্টা দৃশ্য ও শব্দ ধারণ করা যাবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও এগুলো সচল থাকবে। অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যাবে। কাজ শেষে মেমোরি কার্ড থেকে ডাউনলোড করে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার ক্যামেরা আনা হবে।

Tuesday, December 30, 2014

ট্রেন-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ৬

কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে স্টেশনমুখী একটি ট্রেনের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ৬ জন। নিহতরা হলেন- নাঈম ইসলাম (১৬), মজিবুর রহমান (৬০), আলমগীর হোসেন (৪৫), অজ্ঞাত আরও ৩ জন। এরমধ্যে দু’জন পুরুষ, একজন মহিলা। এছাড়া, আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত ট্রেনযাত্রী। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। ঘটনা তদন্তে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রেনযাত্রীরা জানান, গতকাল দুপুরে
নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি লোকাল ট্রেন কমলাপুর রেল স্টেশনে যাচ্ছিল। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনের পাশের কনটেইনার ডিপোতে ঢুকে পড়ে। এসময় ডিপোর পশ্চিম পাশের এসএম কার্গো সার্ভিসেস লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ট-১১-৮৮৫৪) ঘোরানোর জন্য রেললাইনের ওপর তুলে দেয়। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনের পরের বগিতে সজোরে ধাক্কা লাগে। কাভার্ড ভ্যানের সামনের অংশ ট্রেনের বগির ওপর উঠে যায়। কাভার্ড ভ্যানের সামনের অংশসহ ট্রেনের ওই কামরাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একদিকে হেলে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে। এসময় ট্রেনের বগির ভেতর থেকেই একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, কাভার্ড ভ্যানের ইঞ্জিনের অংশ থেকে চালকের সহযোগীর লাশ উদ্ধার করা হয়। চালকের ওই সহযোগীই কাভার্ড ভ্যানটি চালাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই কামরার ভেতরে আটকেপড়া যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ ট্রেনের অন্য কামরার যাত্রীরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ট্রেনের জানালা ও দরজা দিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনা হয়। হরতাল থাকায় ট্রেনটি যাত্রীতে ঠাসা ছিল। আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের পর গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও চার জন নিহত হন। ট্রেন-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, রেল পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলামসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, কাভার্ড ভ্যানটির চালক হয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নয়তো তার গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাসুদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ডিপোর ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ট্রেন আসছিল। অপরদিকে পশ্চিম পাশের কাভার্ড ভ্যানটি পূর্বদিকে যাচ্ছিল। কাভার্ড ভ্যানটি ট্রেন লাইনের উপরে চলে আসলে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের সামনের অংশ এবং ট্রেনের ইঞ্জিনের  পেছনের বগিটি আঘাতে হেলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিশু আল আমিন জানায়, গেণ্ডারিয়া থেকে ট্রেনে উঠেছিল সে। কমলাপুর আসার সঙ্গে সঙ্গে একটা ট্রাক ট্রেনের উপরে চলে আসে। কাশেম নামে ট্রেনের ইঞ্জিনের পেছনের বগির ছাদে থাকা এক যাত্রী বলেন, ট্রেনটি যখন স্টেশনের আগে কনটেইনার ডিপোতে ঢোকে, কাভার্ড ভ্যানটি তখন পশ্চিম থকে পূর্বের দিকে যাচ্ছিল। গতিও খুব বেশি ছিল না। কিন্তু ট্রেন দেখেও চালক না থামিয়ে এগিয়ে গেলে প্রথমে ইঞ্জিনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং কাভার্ড ভ্যানটি ঘুরে গিয়ে ইঞ্জিনের পেছনের বগিতে সজোরে আঘাত করে। ওই অবস্থায় লরিটি প্রায় ২০ গজ ছেঁচড়ে নিয়ে ট্রেনটি থেমে যায়। ডিপোর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা মিজান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রেন আসতে দেখে ডিপোর আনসার সদস্যরা কাভার্ড ভ্যান চালককে থামার সঙ্কেত দিয়েছিলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে ট্রেন লাইন পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর চোখের পলকে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তিনি বলেন, ইঞ্জিনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লরিটি ছিটকে এসে ধাক্কা দিলে পেছনের বগিটি কাত হয়ে লাইনে পড়ে যায়। ওই অবস্থায় ট্রেন আরো এগিয়ে যাওয়ায় কাভার্ড ভ্যানের চেসিস পুরো ভেঙেচুরে যায় এবং ট্রেনের বগির একপাশ ভেঙে দুমড়ে যায়।
আইসিডি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো আইসিডির মাঝ বরাবর দিয়ে রেল লাইন। পূর্ব ও পশ্চিম পাশে মালামাল লোড করার জন্য কাভার্ড ভ্যানগুলো অবস্থান করে। কখনো পূর্ব পাশে আবার কখনো পশ্চিম পাশে মালামাল লোড করা হয়। দুই পাশে লোহার গেট থাকার কথা থাকলেও কোন পাশেই পুরো লোহার গেট ছিল না। দুই পাশেই  অল্প একটু লোহার গেট ছিল। লোহার গেট না থাকার কারণে কাভার্ড ভ্যানটি রেল লাইনের উপরে ওঠে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এছাড়া, কাভার্ড ভ্যানটি চালক না চালিয়ে তার সহযোগী চালাচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে গেটটি নেই। গেটটি থাকলে হয়তো আজ এ ঘটনা ঘটতো না। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে পাঠানোর পর আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন মণ্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫  জনকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নিহতদের সবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে আরো এগারো জন ভর্তি আছেন। তারা হলেন- বাবুল হোসেন (৪৩), নাসির হোসেন (৩০),  গোলাম মোস্তফা (২৫), বিল্লাহ (২৭), অজ্ঞাত পুরুষ (৪০), দিলদার (৪০), জাবেদ আলী (৪০), মিজানুর রহমান (৩০), হারুনুর রশীদ হারুন (৪০), সাবের হোসেন (৩৫), সুমন (৩৫)। আহতদের মধ্যে নাসির, গোলাম  মোস্তফা, অজ্ঞাত পুরুষসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) পাঠানো হয়েছে। আহত সুমন জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় থাকেন। পেশায় বাসের হেলপার। ডিউটি করার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জের ওই লোকাল ট্রেনে করে ঢাকায় আসছিলেন। ওই ট্রেনের ইঞ্জিনের তৃতীয় বগির দরজার সামনে তিনি বসা ছিলেন। কমলাপুর রেলস্টেশন কাছাকাছি হওয়ায় ট্রেনের গতি কম ছিল। ট্রেনটি যখন কনটেইনার ডিপো পার হচ্ছিল এসময় একটি কনটেইনারবাহী কাভার্ড ভ্যান ট্রেনের দ্বিতীয় বগিকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই বগির অধিকাংশ যাত্রীসহ আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীরা আহত হন। আমি আতঙ্কে ট্রেনের দরজা দিয়ে লাফ দেয়ায় কোমরে এবং বাম পায়ে আঘাত পাই। আহত গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত দ্বিতীয় বগিতে ছিলেন। বগিতে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেকে ঝুলেও ছিলেন। ওই বগির কম বেশি সবাই আহত হয়েছেন। ওই ট্রেনের যাত্রী রেলওয়ের কর্মচারী ওয়েম্যান এনামুল হক জানান, তিনি ওই ট্রেনের পেছনে বসা ছিলেন। ট্রেনটির গতি কম হওয়ায় বগিটি হেলে যায়। অনেক যাত্রী আতঙ্কে লাফিয়ে পড়েন। নিহত নাঈম ইসলামের খালু আব্দুর রশিদ জানান, নাঈমের পিতার নাম ইউনুস আলী। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার খোদাবকশকাটি এলাকায়। সে স্থানীয় নেসারিয়াবাদ এলাকার একটি আলিয়া মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র। তিনি আরো বলেন, গত ১০ দিন আগে নাঈম গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের বাড়ি ঢাকার কমলাপুরে আসে। সে আমাদের বাড়িতেই ছিল। নিহত মজিবুরের স্ত্রী সকিনা বেগম জানান, তার স্বামী মিরপুরের শেয়ালবাড়ির ৭ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ব্যানারের কাঠির ব্যবসা করতেন। তিনি বলেন, গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় তিনি নারায়ণগঞ্জে মাল সরবরাহ করতে যান। পরে সেখান থেকে ট্রেনে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। মজিবুরের পিতার নাম আবদুল হক। তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায়। এদিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল পাঁচটার দিকে উদ্ধারকাজ শেষ হলে এ রুটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

২ দিনের হরতাল ডেকেছে জামায়াত

দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদ-ের আদেশের পর দুই দিনের হরতাল ডেকেছে জামায়াত। আজহারকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, আগামীকাল ভোর ছয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হরতাল চলবে। একইভাবে পরের দিন ভোর ছয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হরতাল থাকবে। এ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ  এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের শিকার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম। সরকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান করে। আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায়, সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে আজ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের যে রায় ঘোষণা করেছেন তা একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। এ রায়ে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপীল করবেন। উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে তিনি খালাস পাবেন বলে আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি।
সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে, দেশে-বিদেশে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, আদালতের বিচার কার্যক্রম সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচী সরকারী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে। আর সরকারের যে কোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার ট্রাইব্যুনালে পরিচালিত বিচার কার্যক্রমকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার জন্য যে ষড়যন্ত্র করছে তা জনগণ নিরবে মেনে নিতে পারে না।

‘মৃত’ শিশু জীবিত হয়ে এখন ইনকিউবিটরে

বাংলাদেশের জয়পুরহাটের একটি ক্লিনিকে প্রসবের পর একটি নবজাতক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হলেও পরে দাফনের সময় তাকে জীবিত আবিষ্কার করার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের সে ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রথমে জেলা শহরের হাসপাতালে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে বগুড়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়ে। সময়ের আগেই জন্ম হওয়ায় শিশুটিকে এখন সেখানের একটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবা মুনিরুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার বিবিসি বাংলার সকালে অধিবেশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন বিস্তারিত। তিনি জানান, তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা ওঠার পর রাত দুটার দিকে জয়পুরহাটের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকে রাতে  নেয়ার পর তার স্ত্রীকে দোতলায় নিয়ে গেলো এবং দু মিনিটও হয়নি  ডেলেভারী হয়ে গেলো। আতঙ্কে উপরে উঠিনি। তারা (চিকিৎসক) বললো মরা বাচ্চা। শুনে মাথা খারাপ হয়ে গেলো। ব্যাগে ঢুকিয়ে দিলো। যেই মাইক্রোবাসে এসেছিলাম সেটায় করেই আবার বাড়ি রওনা হলাম। তিনি বলেন, বাবা-মা-শ্বশুর তো দেখবে। তারা দেখে বললো বাচ্চা তো নড়তেছে। পরে মোটর সাইকেলে করে সকাল ৬টার দিকে জয়পুরহাট নিয়ে গেলাম। কিন্তু ডাক্তার পেলাম না। তিনি আরও বলেন, নয়টার দিকে বাচ্চাটিকে নিয়ে তিনি সদর হাসপাতালে যান এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে বেলা ১২টার দিকে ডাক্তার বললো বগুড়ার হাসপাতালে নিয়ে  যেতে। এখন বাচ্চা কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সাত মাসের বাচ্চা তো। ইনকিউবিটরে আছে। ডাক্তাররা বলছেন আল্লাহ চাইলে ভালো হবে। জয়পুরহাটের ক্লিনিকে বাচ্চাটিকে কে মৃত ঘোষণা করলো বা পরে বাচ্চাটি জীবিত নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ক্লিনিকের কারও সঙ্গে কথা বলেছেন কি-না জানতে চাইলে ইসলাম বলেন, আমরা তো বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত। তাই ওদিকে নজর দেয়ার সুযোগ পাইনি।

এয়ার এশিয়ার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ ও ৪০ মৃতদেহ উদ্ধার

নিখোঁজ এয়ার এশিয়া ফ্লাইট অনুসন্ধান অভিযানে কমপক্ষে ৪০ টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এছাড়া জাভা সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় বিমানের সম্ভাব্য ধংসাবশেষ শনাক্ত করা গেছে। তবে ওই ধ্বংসাবশেষ প্রকৃতপক্ষে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিমানটির কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায় নি। এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট কিইজেড ৮৫০১ রবিবার ১৬২ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জুয়ান্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায়। এ খবর আসার পরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা। উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনে উদ্ধারকর্মীরা কমপক্ষে ৪০ টি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেন।

Monday, December 29, 2014

কুড়িল ফ্লাইওভার-পূর্বাচল রাস্তার দুপাশে খাল খননের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচল রাস্তার দু’পাশে খাল খননের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে আপস ও আপত্তিতে কান না দিয়ে দ্রুত এ লেকের খনন কাজ শেষ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মূল প্ল্যানে আছে দুটো লেক হবে। কাজেই এটা খুব দ্রুত খনন করা দরকার। এ ব্যাপারে কারো আপত্তি মানার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি শহরগুলোকে মানুষের বসবাস উপযোগী রাখতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দেন। রোববার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূচনা বক্তৃতার পর প্রধানমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
তিনি বলেন, কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলে যাওয়ার পথে রাস্তার দু’পাশে দুটো লেক খনন করার কথা রয়েছে। আমি জানি এ লেক খনন করতে অনেক বাধা আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই লেকের সঙ্গে সরাসরি নদীর যোগাযোগ থাকবে। বন্যা বা ভারি বৃষ্টির সময় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্যই ওই লেক খনন অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো বক্স কালভার্ট হবে না। সব লেক হবে, ওপেন লেক হবে। যাদের দরকার হবে, তারা লেকের পাশ দিয়ে ব্রিজ করে নেবে। শেখ হাসিনা বলেন, কোনোমতেই এখানে ‘কম্প্রোমাইজ’ করা যাবে না। বিষয়টা আপনাদের দেখতে হবে এবং খুব তাড়াতাড়ি এটা শুরু করতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে ঢাকার জলাধারগুলো নষ্ট করার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মতিঝিলে এক সময় একটি ঝিল থাকলেও আইয়ুব খান সেটি বন্ধ করে দেন। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় শান্তিনগর খাল, পান্থপথ খালসহ বিভিন্ন খাল বন্ধ করে দেয়া হয় অথবা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। অথচ এ খালগুলো একটা শহরের শিরা-উপশিরার মতো। আপনারা আমাদের একটা অনুরোধ রক্ষা করবেন, বক্স কালভার্ট যেন শহরের ভেতর আর না করা হয়। সুযোগ থাকলে ঢাকার সব বক্স কালভার্ট তুলে দিয়ে খাল উদ্ধারের চেষ্টা করতেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রক্ত সঞ্চালন যেভাবে হয়। ঠিক সেভাবে পানির সঞ্চালন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখার পাশাপাশি পরিবেশ ঠিক রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে শহরগুলোর উন্নতি করতে হবে। এ জন্য সুদূরপ্রসারী ‘মাস্টার প্ল্যান’ করতে হবে। বিভাগীয় ও উপজেলা শহরগুলোর জন্যও মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। শহরে মানুষের উপযোগী করে ফ্ল্যাট বাড়িসহ সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী ঢাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শহরটা ছোট ও ঘিঞ্জি হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও আমরা যদি মানুষের নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে না পারি তবে এটি আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে বস্তির মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। তিনি বস্তিগুলোতে মানুষের মানবেতর জীবনযাপনের বর্ণনা দেন। সেই সঙ্গে ঢাকার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
সব লাল দালান রক্ষার দরকার নেই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্য রক্ষার নামে ব্রিটিশদের সব লাল দালান রক্ষার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ঐতিহ্য রক্ষায় ব্রিটিশ আমলের অপ্রয়োজনীয় ভাঙ্গা দালান বা তাদের অনেক জিনিস ধরে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। এর কোনো প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনা বলেন, দৃষ্টিনন্দন থাকলে ব্রিটিশদের দুই-একটা জিনিস রাখা যেতে পারে। স্থাপত্য শিল্পের দিক থেকে যেগুলো প্রয়োজন আছে সেগুলোর কিছুটা রাখা যেতে পারে। সব দালান ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘লাল দালান যা আছে সবই রেখে দিতে হবে আমাদের হেরিটেজ হিসেবে? কিসের হেরিটেজ? ব্রিটিশদের গোলামি করেছি আমরা তাদের হেরিটেজ রক্ষার করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না অন্তত স্বাধীন দেশে। কারণ তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে। তবে স্থাপত্য শিল্প যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ এখনও কিছু বাকি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুই আই কার্নের মূল নকশা দেখলে দেখা যাবে সংসদ ভবনের কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। এ সচিবালয় সংসদ এলাকায় থাকার কথা ছিল। সেখানে চারপাশে বেড়া থাকার কথা ছিল।
আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল অত্যন্ত ক্ষতিকর : প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠা অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, হাসপাতালের বর্জ্যগুলো সব থেকে ক্ষতিকারক। তাতে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়বে। এটার একটা ব্যবস্থা একান্তভাবে নেয়া দরকার এবং প্রত্যেকটা হাসপাতালের বর্জ্যরে জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা থাকা উচিত।
ব্যাঙের ছাতার মতো ইউনিভার্সিটি : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তো কোনো মাত্রাজ্ঞানই নেই। ইউনিভার্সিটি বলতে আগে যা বুঝতাম এখন আর তা নেই। ব্যাঙের ছাতার মতো ইউনিভার্সিটি। এক বিল্ডিংয়ে দেখা গেল অনেকগুলো সাইনবোর্ড। সব নাকি ইউনিভার্সিটি। কোনো একটা পরিকল্পনা নিয়ে কিচ্ছু করা হয়নি। যে যখন এসেছে, একেকটা পারমিশন দিয়ে গেছে।

আজ ২০ দলের হরতাল

বছরের শেষ সময়ে আজ সারা দেশে হরতাল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গাজীপুরে খালেদা জিয়াকে সমাবেশ করতে না দেয়া, বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশব্যাপী বিএনপির ডাকা দ্বিতীয় হরতাল এটা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এ হরতাল ডাকা হয়েছে দাবি করে দেশবাসীকে সর্বাত্মক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। হরতাল সফল করতে বিএনপি-জামায়াতসহ জোট শরিক ও সমমনা দলগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে হরতালে মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হরতালের সমর্থনে রোববার বিকাল থেকেই শুরু হয় যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণে এক নারী আহত হন। মিরপুরের কাজীপাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পেট্রল বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে হরতাল প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। হরতালকে কেন্দ্র করে যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার রাত থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। চলছে গ্রেফতার অভিযান। যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ সারা দেশে অসংখ্য বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
হরতালের সমর্থনে রোববার সচিবালয়ের একটি স্টাফ বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার আগে নয়াপল্টনে জোনাকী সিনেমা হলের সামনে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পল্টন মোড়ে পার্কিং করা একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো স-১১-০১০১) আগুন দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী পথচারীরা পুলিশকে জানান, কয়েকজন যুবক পার্কিং করা বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ওই এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পল্টন থানার এসআই জুলহাস মিয়া জানান, এ ঘটনায় পল্টন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর এটি প্রথম হরতাল। এ হরতাল ছাত্রদল নেতাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় শেরাটন হোটেল মোড়ে হরতালের পক্ষে মিছিল করেছে ছাত্রদল। এতে যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. রাসেল, করিম সরকার, শফিক আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা আবুল বাশার সিদ্দিকী, মাইনুল ইসলাম, শ্রাবণ, রিপন প্রমুখ অংশ নেন। রামপুরায় স্বেচ্ছাসেবক দল একটি মিছিল করে।
রোববার দুপুরে মহাখালীতে ছাত্রশিবির ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মহাখালী কলেরা হাসপাতালের গেট থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি নাবিস্কোর দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এদিকে হরতালে যান চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি। আর ব্যবসায়ীরা হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, হরতাল বন্ধের প্রয়োজনে তারা আবার মাঠে নামবেন।
হরতালের আওতামুক্ত : জনগণের প্রয়োজনে কয়েকটি জরুরি সার্ভিস হরতালের আওতামুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে বিএনপি। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংবাদ মাধ্যম এবং এ সংশ্লিষ্ট যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা সেবা, লাশবাহী গাড়ি, মিডিয়ার যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির জরুরি সার্ভিসগুলো হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গাউসুল আজম সম্মেলন উপলক্ষে ওই এলাকা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
আন্দোলন দমাতে গণগ্রেফতার -বিএনপি : আন্দোলন দমাতে সরকার নিষ্ঠুর হয়ে ওঠছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার নাকি কোনো কিছুতেই ভয় করছে না। খুব ‘স্বস্তিতে’ আছে বলে দম্ভোক্তি করছে। তাহলে দেশব্যাপী গ্রেফতার অভিযান চলছে কেন? উদ্দেশ্য বিএনপির আন্দোলন দমানো। গ্রেফতার করে আন্দোলন দমানো যাবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, ‘হানিফ সাহেব (মাহবুবউল আলম হানিফ) বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, বিএনপির সমাবেশে বাধা দিলে আওয়ামী লীগও দেশের কোথাও নির্বিঘ্নে সমাবেশ করতে পারবে না। জনগণের সম্মিলিত শক্তিতে তা প্রতিহত করা হবে।’
যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান রিজভী। এছাড়া খিলগাঁও বিএনপির সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন, বরিশাল স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিবুর রহমান পিন্টু, পটুয়াখালীর শাহাবুদ্দিন, আহসান উল্লাহ পিন্টু, শাহজাহান হাওলাদারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
সোমবারের হরতালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা মাঠে থাকবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি কোনো ভুঁইফোঁড় সংগঠন নয়। বিএনপির নেতারা ঘরে বসে নেই। কালকে সবাই মাঠে থাকবেন। যা হওয়ার কাল হবে।’ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, বেলাল আহমেদ, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসছে

জনগণ স্বত:স্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন- সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসছে। জনগণ যার যার অবস্থান থেকে ২০ দলীয় জোটের এ কর্মসূচিকে সমর্থন দিচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সোমবার সকাল ৭টায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই অবস্থান নেন রিজভী।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা তেমন নেই। দোকানপাট, অফিস-আদালতে মানুষের যাতায়াতও তেমন নেই। এ থেকেই আপনারা বুঝতে পাচ্ছেন এ দেশের মানুষ কী পরিমাণে ২০ দলীয় জোটকে সমর্থন করছে।’
তিনি বলেন, ‘এ হরতাল হচ্ছে জনগণের পক্ষে। হরতাল সফল হচ্ছে ও হবে। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বত:স্ফূর্তভাবে হরতাল পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন।