Showing posts with label প্রধানমন্ত্রী. Show all posts
Showing posts with label প্রধানমন্ত্রী. Show all posts

Wednesday, December 31, 2014

‘বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও বর্তমান সরকার দেশে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমান বাহিনীর বহরে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আর আধুনিক বিমান। আর এ কারনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা কার্যক্রমের অধীনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী  প্রতিবছর  প্রায় চার হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরে যশোর বিমান বাহিনী একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শীতকালীন গ্রাজুয়েশন কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিবহন বিমানের কন্টিনজেন্ট বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ সফলতার সঙ্গে শেষ করে আজ আপনারা কমিশন পেতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের। অত্যন্ত গর্বের। আমি কমিশন প্রাপ্ত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংযোজন করা হয়েছে বিমান বাহিনীর জন্য প্রথমবারের মতো সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম। সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজারে স্থাপন করা হয়েছে নতুন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ার ডিফেন্স রাডার।
বিমান বাহিনী উন্নয়নে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিন বাহিনীর পদমর্যাদা বৃদ্ধি করাসহ সুযোগ-সুবিধার বৃদ্ধির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তিন বাহিনীর সদস্যদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করেছি। চাকরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীতে নতুন নতুন ইউনিট স্থাপনের ফলে জনবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদোন্নতির পথ সুগম হচ্ছে। এর আগে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। এসময় বিমান বাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বিমান বাহিনীর একটি জীপে করে ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন। এসময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত ও বিমান বাহিনীর নিজস্ব সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জণকারী নবীন অফিসারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

Monday, December 29, 2014

কুড়িল ফ্লাইওভার-পূর্বাচল রাস্তার দুপাশে খাল খননের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচল রাস্তার দু’পাশে খাল খননের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে আপস ও আপত্তিতে কান না দিয়ে দ্রুত এ লেকের খনন কাজ শেষ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মূল প্ল্যানে আছে দুটো লেক হবে। কাজেই এটা খুব দ্রুত খনন করা দরকার। এ ব্যাপারে কারো আপত্তি মানার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি শহরগুলোকে মানুষের বসবাস উপযোগী রাখতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দেন। রোববার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূচনা বক্তৃতার পর প্রধানমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
তিনি বলেন, কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচলে যাওয়ার পথে রাস্তার দু’পাশে দুটো লেক খনন করার কথা রয়েছে। আমি জানি এ লেক খনন করতে অনেক বাধা আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই লেকের সঙ্গে সরাসরি নদীর যোগাযোগ থাকবে। বন্যা বা ভারি বৃষ্টির সময় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্যই ওই লেক খনন অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো বক্স কালভার্ট হবে না। সব লেক হবে, ওপেন লেক হবে। যাদের দরকার হবে, তারা লেকের পাশ দিয়ে ব্রিজ করে নেবে। শেখ হাসিনা বলেন, কোনোমতেই এখানে ‘কম্প্রোমাইজ’ করা যাবে না। বিষয়টা আপনাদের দেখতে হবে এবং খুব তাড়াতাড়ি এটা শুরু করতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে ঢাকার জলাধারগুলো নষ্ট করার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মতিঝিলে এক সময় একটি ঝিল থাকলেও আইয়ুব খান সেটি বন্ধ করে দেন। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় শান্তিনগর খাল, পান্থপথ খালসহ বিভিন্ন খাল বন্ধ করে দেয়া হয় অথবা বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। অথচ এ খালগুলো একটা শহরের শিরা-উপশিরার মতো। আপনারা আমাদের একটা অনুরোধ রক্ষা করবেন, বক্স কালভার্ট যেন শহরের ভেতর আর না করা হয়। সুযোগ থাকলে ঢাকার সব বক্স কালভার্ট তুলে দিয়ে খাল উদ্ধারের চেষ্টা করতেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রক্ত সঞ্চালন যেভাবে হয়। ঠিক সেভাবে পানির সঞ্চালন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখার পাশাপাশি পরিবেশ ঠিক রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে শহরগুলোর উন্নতি করতে হবে। এ জন্য সুদূরপ্রসারী ‘মাস্টার প্ল্যান’ করতে হবে। বিভাগীয় ও উপজেলা শহরগুলোর জন্যও মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। শহরে মানুষের উপযোগী করে ফ্ল্যাট বাড়িসহ সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী ঢাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শহরটা ছোট ও ঘিঞ্জি হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও আমরা যদি মানুষের নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে না পারি তবে এটি আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে বস্তির মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। তিনি বস্তিগুলোতে মানুষের মানবেতর জীবনযাপনের বর্ণনা দেন। সেই সঙ্গে ঢাকার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
সব লাল দালান রক্ষার দরকার নেই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্য রক্ষার নামে ব্রিটিশদের সব লাল দালান রক্ষার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ঐতিহ্য রক্ষায় ব্রিটিশ আমলের অপ্রয়োজনীয় ভাঙ্গা দালান বা তাদের অনেক জিনিস ধরে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। এর কোনো প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনা বলেন, দৃষ্টিনন্দন থাকলে ব্রিটিশদের দুই-একটা জিনিস রাখা যেতে পারে। স্থাপত্য শিল্পের দিক থেকে যেগুলো প্রয়োজন আছে সেগুলোর কিছুটা রাখা যেতে পারে। সব দালান ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘লাল দালান যা আছে সবই রেখে দিতে হবে আমাদের হেরিটেজ হিসেবে? কিসের হেরিটেজ? ব্রিটিশদের গোলামি করেছি আমরা তাদের হেরিটেজ রক্ষার করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না অন্তত স্বাধীন দেশে। কারণ তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে। তবে স্থাপত্য শিল্প যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ এখনও কিছু বাকি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুই আই কার্নের মূল নকশা দেখলে দেখা যাবে সংসদ ভবনের কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। এ সচিবালয় সংসদ এলাকায় থাকার কথা ছিল। সেখানে চারপাশে বেড়া থাকার কথা ছিল।
আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল অত্যন্ত ক্ষতিকর : প্রতিটি হাসপাতালের নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠা অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, হাসপাতালের বর্জ্যগুলো সব থেকে ক্ষতিকারক। তাতে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়বে। এটার একটা ব্যবস্থা একান্তভাবে নেয়া দরকার এবং প্রত্যেকটা হাসপাতালের বর্জ্যরে জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা থাকা উচিত।
ব্যাঙের ছাতার মতো ইউনিভার্সিটি : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তো কোনো মাত্রাজ্ঞানই নেই। ইউনিভার্সিটি বলতে আগে যা বুঝতাম এখন আর তা নেই। ব্যাঙের ছাতার মতো ইউনিভার্সিটি। এক বিল্ডিংয়ে দেখা গেল অনেকগুলো সাইনবোর্ড। সব নাকি ইউনিভার্সিটি। কোনো একটা পরিকল্পনা নিয়ে কিচ্ছু করা হয়নি। যে যখন এসেছে, একেকটা পারমিশন দিয়ে গেছে।

Saturday, December 6, 2014

নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল।  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘কোনো দেশ পাশে থাকলে আমরা বেঁচে থাকব, আর পাশে না থাকলে মরে যাব—এটা ভাবা ঠিক না। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা নিয়েই আমরা চলতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুই আনার মন্ত্রী বলায় দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক, টিআইবির দুর্নীতি প্রতিবেদন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথিত বৈঠকসহ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নানা প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেনি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয়, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। বন্ধ করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সবাই যে এসব কাজে একমত, তা না। সেখানে বাংলাদেশেরও বন্ধু আছে। তাঁদের সমর্থন সব সময় আমরা পেয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে আমি বলব, এই দেশটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। কাউকে ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না—এ চিন্তাটা না থাকাই ভালো। একটা দেশের সঙ্গে কখনো কখনো সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। তাই বলে একেবারে কূটনৈতিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে, আমি সেটা মনে করি না। কূটনৈতিক সম্পর্ক কূটনৈতিকভাবেই চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েই আমরা চলতে চাই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি উত্তর না দক্ষিণ, পূর্ব না পশ্চিম, তা বিবেচনা করে চলে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, আমরা তা-ই করব। আমি ভালো থাকলে বন্ধুর অভাব হয় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী গোল। এটা মনে রাখতে হবে। পৃথিবী সারাক্ষণ ঘুরছে। এটাও মনে রাখতে হবে। ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে আমরা বাস করছি। আমাদের কূটনীতি সেভাবেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সি এম শফি সামি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ও সমসাময়িক বাস্তবতায় হয়ে থাকে। আবার কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকলে যে বিরাট বিপর্যয় ঘটবে, তা-ও নয়। তবে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পোশাকশিল্প প্রভৃতি বিবেচনায় বুঝেশুনে ও সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। আমরা তখন শুনেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এটা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংক তন্নতন্ন করে বিশ্বব্যাপী খুঁজেও দুর্নীতি পায়নি। তারা অনেকভাবে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।’
টিআইবি সময় সময় সরব: টিআইবির দুর্নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কী কারণে সময় সময় সরব হয়, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০০১ সালের জুন মাসের আগেও তারা প্রতিবেদন দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে আমরাও যাচাই করব। যাঁরা আজ কথা বলছেন, তাঁদের ইনকাম কী? টাকাটা কোথা থেকে আসছে? কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে হিসাবটাও নেওয়া হবে। জবাবদিহি সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘যারা সত্যিকার দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে টিআইবিকে কখনো শুনেছেন?’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কে কাকে ২০০ টাকা ঘুষ দিল, ট্রাক থেকে কে ১০ টাকা নিল—এসব খুচরা বিষয় নিয়ে আসা হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশটা আছে, যেখানে দুর্নীতি নেই? আমরা সরকারে আছি। আমরা নিজেরা কোনো দুর্নীতি করছি কি না, সেটা বলুন। যদি তাই করতাম, তাহলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের ওপরে উঠত না। কিন্তু যে বীজ বপন করে গেছেন সামরিক শাসকেরা, সেখান থেকে রাতারাতি কীভাবে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা সম্ভব?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিআইবির উদ্দেশ্য দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা সুদৃঢ় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রীও এটা চান। আর এ জন্য আমরা নিজেদের সরকারের সহায়ক শক্তি বলে মনে করি।’
কে বা কোন দল ক্ষমতায় আছে, তা বিবেচনা করে টিআইবি কাজ করে না দাবি করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির সময়ে পর পর চারবার দুর্নীতির ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে ছিল।
টিআইবির অর্থসূত্র প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘টিআইবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এনজিও ব্যুরোর অনুমতি সাপেক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনা করে।’
দুর্নীতি করে টাকাও বানিয়েছে, ইজ্জতও কিনেছে: কারও নামোল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে দুর্নীতি করে টাকা তো বানায়ই, ইজ্জতও কিনে নেয়। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেরাই চিন্তা করেন। এতগুলো চ্যানেল দিয়েছি। মালিকদের একটা সংগঠন করেছে। কাকে নেতা বানিয়েছে? সে এত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলো কীভাবে? টাকা দিয়ে সে ইজ্জত কিনে নিয়েছে। টিআইবি কখনো এ ব্যাপারে একটা টুঁ শব্দ করেছে? করেনি। টাকা পাচার হয়েছে, আমরা উদ্ধার করেছি।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে দিয়েছেন। তিনি আদালতেও যেতে চান না। এ ব্যাপারে তো কেউ কথা বলেন না, টক শোতেও কথার ঝড় ওঠে না। তাঁর ছেলে লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। একজনও কি টক শোতে টুঁ শব্দ করেছেন? করেননি। কারণ, তারা টাকা দিয়ে ইজ্জত কিনে নিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সভাপতি ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু বলেন, ‘অবৈধ আয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। কখনো অবৈধ আয় করিনি, করবও না। ২০-২৫ বছর ধরে যে আয় ও ব্যয় করেছি, তা সরকারের ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ আছে।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথিত বৈঠক: শুক্রবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার কথিত বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনের বরখেলাপ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মানুষের মনে সন্দেহ জাগে, এত গভীর রাতে ডাকা হলো কেন? এটা আগেও ঘটেছে। উত্তরা ষড়যন্ত্রের কথা আপনাদের তো মনে আছে।
বিমানে সোনা চোরাচালান: বিমানে সোনা চোরাচালান সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে প্রতিমুহূর্তে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই সোনাদানা ধরা পড়ছে। তিনি দাবি করেন, যারা এসবের সঙ্গে দায়ী না, পত্রপত্রিকায় তাদেরও দায়ী করা হচ্ছে। বিমান চেয়ারম্যানের পালকপুত্র বানানো হয়েছে। আজেবাজে কথা লেখা হচ্ছে। এর সত্যতা নেই। যে দুজন জড়িত, তাদের ধরা হয়েছে। চেয়ারম্যান তাদের ছাড়াতে যাননি।
এইচ টি ইমামের বক্তব্যের দায় তাঁর নিজের: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলেন। মাঝেমধ্যে দলের জন্য তা সমস্যার সৃষ্টি করে। সবাই কথা বলে যাচ্ছেন। তবে এ কথা উনি কেন বলেছেন, তা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করুন। এ বক্তব্যের দায় তাঁর। উনাকে কিছু করতেও বলিনি, বলতেও বলিনি।’
ছাত্রলীগ: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একমাত্র আওয়ামী লীগই ব্যতিক্রম যে, কে কোন দল করে, তা না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেইনি। কার জামাই, কার ভাগনে, তা না দেখে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডে যুবদলের নেতা জড়িত থাকলেও টক শোতে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।’
প্রশ্ন ফাঁস: আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে প্রশ্ন ফাঁসের দরকার হতো না। প্রশ্ন আগেই দিয়ে দেওয়া হতো তাদের ক্যাডারদের হাতে। আমাদের সময়ে কখনো একটা-দুইটা দুর্ঘটনা যখনই ঘটেছে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্যবস্থা না নিলে কথা থাকত।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন এবং মালয়েশিয়া সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়া সফরকে সফল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বিদ্যমান সুসম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Friday, November 21, 2014

মনের ক্ষুধা পূরণে সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কেবল পেট পুরলেই হবে না। মনের চাহিদা মেটানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বেশি বেশি সংস্কৃতিচর্চা করতে হবে। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই চিরায়ত যে, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চা বিনোদনেরও খোরাক জোগায়। কিন্তু আমাদের সজাগ থাকতে হবে, অপসংস্কৃতি যেন আমাদের গ্রাস না করে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর স্বাগত বক্তৃতা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রনজিত কুমার বিশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে দেশে খাদ্য সংকট নেই। এখন আমরা জনগণের মনের বিনোদনের জন্য অর্থাৎ আরও বেশি সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পরিচয় ও স্বকীয়তা তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ সংস্কৃতিমনা। এখন সংস্কৃতির ওপর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সাহিত্য তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও শিক্ষার ওপর নির্ভর করে একটি জাতির পরিচয় ও স্বকীয়তা। শুধু ব্যাপক সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে একটি জাতি আর্থসামাজিকভাবে উন্নত হয়।

Thursday, November 20, 2014

নির্মলেন্দু গুণ, রাণী সরকার ও বনশ্রীকে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কবি নির্মলেন্দু গুণ, অভিনেত্রী আমিরুননেসা খানম (রাণী সরকার) এবং এক সময়ের চিত্রনায়িকা শাহিনা শিকদারকে (বনশ্রী) ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে অনুদানের চেক তুলে  দেন। পত্রিকার মাধ্যমে রাণী সরকার এবং বনশ্রীর মানবেতর অবস্থার কথা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান। পরে বুধবার তাদের হাতে সহায়তা তুলে  দেন। বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে শারীরিকভাবে অসুস্থ। প্রধানমন্ত্রী তাকে চিকিৎসার জন্য সহায়তা করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী লাইলুন নাহার মালা, বেগম দিলআরা খানম ও মানিকগঞ্জের মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন নিবাসকেও ২০ লাখ টাকা করে অনুদান  দেন।

Wednesday, November 19, 2014

সরকারে আস্থা থাকায় আন্দোলনে জনগন সাড়া দিচ্ছেনা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের আস্থা  ও বিশ্বাস বর্তমান সরকারের উপর আছে। তার প্রমান  কিছু কিছু রাজনৈতিক দল অথবা নেতৃত্ব অনবরত সরকার উৎখাতের হুমকী ও সময় দিচ্ছে এবং নানা ধরনের কথা বলে আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েও সাড়া পাচ্ছেনা। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে- জনগনের আস্থা আমাদের ওপর আছে এবং কেবল আমরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে  যেতে পারবো। দেশবাসির আস্থা ও বিশ্বাসই আমাদের বড় শক্তি। সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ সরকারি দলের অধ্যাপক আলী আশরাফের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধান মন্ত্রী একথা বলেন। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেলে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সিপিএ ও আইপিওতে বাংলাদেশ থেকে চেয়ারপার্সন ও প্রেডিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সম্পর্তিত লিখিত প্রশ্নের জবাব সংশ্লিস্ট সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধান মন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর অপর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাথী বাঁছাই করা বড় বিষয়। ওআইসিতে একজন যুদ্ধাপরাধীকে প্রার্থী দিয়েছিল।  সেই প্রার্থীকে কেউ পছন্দ করেনি। যে প্রথম রাউন্ডে দুই ভোট এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে শুধু নিজের ভোট পেয়েছিল। আমরা সিপিএ ও আইপিওতে উপযুক্ত প্রার্থী দিয়েছিলাম বলে সবাই ভোট দিয়েছে এবং তারা বিজয়ী হয়েছেন।  তিনি বলেন,  ২০৪১সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।  তাই ২০৪১ সালকে সামনে রেখে  কিভাবে আগানো যায়  সেই পরিকল্পনা নিচ্ছি।
রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এই দুটি সংস্থায় বাংলাদেশের জয়লাভ একদিকে যেমন আমাদের বিরল অর্জন তেমনি বর্হিবিশ্বের সাথে আমাদের ক্রমবর্ধমান সৌহাদ্যপুর্ণ সম্পর্কেরই প্রমান। এর মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, গনতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অব্যাহত অগ্রযাত্রার বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় পুরোপুুরি আস্থা  রাখে। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ যে আজ রোল মডেল  হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সেটি আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বকারি দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্ষ্পুষ্টভাবে  প্রমানিত হয়েছে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিয়ে কোন কোন মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্তেও বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের আন্তর্জাতিক ফোরামে নির্বাচিত হওয়া এটাই প্রমান করে যে সারা বিশ্বের সাথে  বাংলাদেশের সৌহাদ্যপুর্ণ  ও পারস্পরিক সহযোগিতামুলক সম্পর্কের ভিত্তি ক্রমশ: আরো জোরদার হচ্ছে।

Wednesday, November 12, 2014

একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনের সফরে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ হেলিকপ্টর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবতরণ করে। তিনি সেনাবাহিনীর ৩৪, ৩৬ ও ৩৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে জনসেবা ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী একই সময় সেনাবাহিনীর তিন ব্যাটেলিয়নের অধিনায়কদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেবেন।
এর পর প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরস্থ বন্দরনগরীর দীর্ঘতম ফাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। ৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার দুইশ’ মিটার দৈর্ঘের এ ফাইওভারটি নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হয়েছে ম্যাক্স র‌্যাঙ্কিন জেভি।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপরে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে এই ফাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হবে। নগরীর যানজট নিরসন ও এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হতে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি মুরাদপুর, ২ নাম্বার গেট ও জিইসি পর্যন্ত ফাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, পরে পরামর্শক উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান ডিডিসি, এসএসআরএম, ডিপিএম, কেভির পরামর্শক্রমে ফাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে লালখানবাজর পর্যন্ত নেয়া হয়। ফাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর ফলে একশ’ ৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি টাকা। ফাইওভারটি মুরাদপুর থেকে ২ নাম্বার গেট হয়ে বায়েজিদ ও ২ নাম্বার গেট থেকে জিইসি- ওয়াসা হয়ে লালখান বাজারে শেষ হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আগামীতে চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক শহর। এই ফাইওভারটি নির্মিত হলে চট্টগ্রামে আর যানজট থাকবে না। শহরের মূল মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে।

Friday, November 7, 2014

বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভীষ্ট পথ থেকে সরাতে পারবে না।
সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে বৃহস্পতিবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এদিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজারের খুতুপালং ও নয়াপাড়ার বর্তমান শিবিরগুলো থেকে অন্য কোনো ভালো জায়গায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সন্ত্রাস দমনে গোটা বিশ্বের উদাহরণে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এখন আমাদের নিজ বলে বলীয়ান হয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানে ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি-নৈরাজ্যের ভয়াবহ চিত্র। আমরা এ বদনাম থেকে উতরে দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন করেছি।প্রধানমন্ত্রী এদিন মন্ত্রণালয়টির উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। পাশাপাশি কাজকর্মে গতিশীলতা আনতে দিকনির্দেশনা দেন। উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চাষের জন্য জমি ও নিরাপদ জীবন-যাপনের উপকরণ সরবরাহ করে তাদের পুনর্বাসনে তৎপর হতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা দেন। এতে সচিব মেজবাহ-উল-আলম মন্ত্রণালয়টির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মায়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও কার্যকারিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আবহাওয়া অধিদফতরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার প্রস্তাব করেন। বড় ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন জনবলকাঠামো অনুমোদন দেয়ারও প্রস্তাব করেন মন্ত্রী।বিদেশী সাহায্য পেতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রদর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করেন না উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সতর্কতা, পূর্ব প্রস্তুতি, দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারে।বন্যা ও নদী ভাঙনকে বড় দুর্যোগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৬২ হাজার আরবান ভলান্টিয়ার্স করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই ২৬ হাজার ৩১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সরকার ৬৪ কোটি টাকার তল্লাশি ও উদ্ধার যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে। আরও ১৫৯ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি ক্রয় করার পরিকল্পনা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

Saturday, October 18, 2014

ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

দশম আসেম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে ইতালি সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার কিংবদন্তি শিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’ ছবিটি দেখেছেন। সান্তা মারিয়া ডেলে গ্রাজিয়ের চার্চে অবস্থিত ভিঞ্চির এ ছবিটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

দর্শনার্থীদের জন্য চার্চের ডাইনিং হলের দেয়ালে ভিঞ্চির অন্যতম এই কীর্তিটি শোভা পাচ্ছে। ভিঞ্চি ১৪৯১-৯৮ সালের মধ্যে বিখ্যাত এই চিত্রকর্মটি এঁকেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। জাদুঘরের সহকারী এর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, শিল্পী সাহাবুদ্দিন ও শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকী ওরফে অবন্তী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ চিত্রকর্মটি মিলানের বিশ্বমানের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত এবং সান্তা মারিয়া ডেলে গ্রাজিয়ের চার্চ রেনেসাঁ যুগের ভবন হিসেবে পরিচিত। বাসস।