Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts
Showing posts with label প্রথম আলো. Show all posts

Wednesday, July 1, 2026

ওজন কমাতে কোন ধরনের ডায়েটের পথে হাঁটবেন না by সৈয়দা শারমিন আক্তার

পেশি, চর্বি, পানি, হাড়, রক্ত ও মস্তিষ্কের সমন্বয়েই একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ ওজন। আর এই সবটা মিলে যখন উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে পড়ে, তখন তার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। আর তাই সুস্থ থাকতে একজন ব্যক্তির সঠিক ওজন থাকা জরুরি।

ওজনে কার কত ভূমিকা

শরীরের ওজনের সবচেয়ে বড় অংশই পানি। সাধারণত পুরুষের দেহের ওজনের ৫৫-৬৫ এবং নারীর ৪৫-৬০ শতাংশ পানি থাকে। যাঁরা মোটামুটি সচল জীবনযাপন করেন, তাঁদের পেশির ওজন ৩০-৪০ শতাংশ থাকে।

নারীদের দেহে চর্বির পরিমাণ ১৮-৩০ শতাংশ, সেই তুলনায় পুরুষের দেহে চর্বি কিছুটা কম, ১০-২০ শতাংশ। প্রত্যেক মানুষের দেহস্থ কঙ্কালের ওজন ১০-১৫ ভাগ। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ দেহের ওজনের ৭-৮ শতাংশ। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করা মস্তিষ্কটি দেহের মোট ওজনের ২ শতাংশ।

একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তির খাদ্যশক্তি শরীরে প্রধানত দুইভাবে খরচ হয়। দেহের সম্পূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল ও স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য শক্তি প্রয়োজন পড়ে আর জীবনযাপন ও অ্যাকটিভিটিজেও শক্তি খরচ হয়। মানে ক্যালরি গ্রহণ এবং খরচের ওপর নির্ভর করে ওজনের ভারসাম্য। কোনো কারণে এর ব্যত্যয় ঘটলেই ওজন বাড়তে থাকে।

একজন ব্যক্তির হঠাৎ করে ওজন বাড়ে না। ক্যালরি গ্রহণ অনুযায়ী কম শারীরিক কার্যকলাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। দেখা যায়, ইনসুলিনের প্রভাবে শক্তি সঞ্চয় হয়, ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে কোষে জমে চর্বি।

এতে চর্বির কোষ যেমন বড় হয়, পাশাপাশি সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। মানে বিপাক, হরমোন, মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি টিস্যুর জটিল ক্রিয়ায় ওজন বাড়ে। ওজন বৃদ্ধি তাই শুধু খাদ্যগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল না। যে কারণে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণেই যে ওজন কমবে, সেটা ঠিক না। ওজন কমাতে সম্পূর্ণ অবস্থা বুঝেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কোন ডায়েট এড়িয়ে চলবেন

সুস্থভাবে ওজন কমাতে কখনোই খুব কঠিন কিছু করার দরকার নেই। বিশেষ করে কিছু ডায়েট থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আমার পরামর্শ—

* ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমাবেন না। সারা দিনে খুব কম খাদ্য গ্রহণে হয়তো দ্রুত ওজন কমে, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। পুষ্টির ঘাটতিতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরাসহ হতে পারে পেশি ক্ষয়। ক্র্যাশ ডায়েটের পর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলেই আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যায়।

* একই ধরনের খাবারের মাধ্যমে ওজন কমানোর কথা চিন্তা করবেন না। একই গ্রুপের খাবার কখনো শরীরের সব রকম পুষ্টি সরবরাহ করে না। যেমন শুধু ফল, শুধু স্যুপ বা শুধু জুস খেয়ে ওজন কমাতে গেলে আপনার শরীরে বরং পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে।

* শরীর ডিটক্সিফিকেশনের জন্য কিছুদিন ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমানোর পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স খেলে শরীরে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। তবে শরীরের ওজনের ওপর ভিত্তি করে পানি পান করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০-৩৫ মিলিলিটার পানি পান করুন।

* খাদ্যের ৬টি উপাদান রয়েছে। প্রতিটিরই শরীরে ভিন্ন ভিন্ন কাজ আছে। ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া কার্বোহাইড্রেট, ফল অথবা দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সে জন্য এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরিহার করুন।

* অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনে ফাইবার খুবই কম থাকে। প্রাণিজ প্রোটিন অতিরিক্ত খেলে এবং শাকসবজি, ফল ও ফাইবারযুক্ত খাবার না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

* স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেড়ে গিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে, কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অন্ত্রেও মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে।

মূলত ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের সামঞ্জস্য। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা খাবার বা রান্না ছাড়া খাবার প্রাধান্য দেওয়া ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনধারণের জন্য নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সঠিক মেটাবলিজম এবং চাপ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি।

* লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ, ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার, বাংলামোটর, ঢাকা

একই ধরনের খাবার খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়
একই ধরনের খাবার খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়। মডেল: ললনা। ছবি: কবির হোসেন

Tuesday, December 23, 2014

রেললাইেন ২২ ঘণ্টায় ৫ লাশ

রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের রেললাইনে ২২ ঘণ্টায় পাঁচজনের লাশ মিলেছে। রেল পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনায় এদের মৃত্যু হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচজনের কারোরই নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।
গত রোববার বেলা দুইটা থেকে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে এসব লাশ পাওয়া যায়। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, রোববার বেলা দুইটার দিকে গাজীপুরের মৌচাকে রেললাইনে অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশ পাওয়া যায়। ওই দিন রাত আটটার দিকে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে জোয়ার সাহারা রেলক্রসিংয়ে এক পুরুষের লাশ পাওয়া যায়। গতকাল সকাল নয়টার দিকে দয়াগঞ্জ রেলক্রসিংয়ে আরেক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষ মারা যান।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক দাদন মিয়া এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, রোববার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বেগমপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী রুটের একটি ট্রেনের ধাক্কায় ৩০-৩২ বছরের ওই লোকটি মারা যান। তাঁর মাথা ফাটা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ছিল। তার পরনে কালো রঙের প্যান্ট ও কোট ছিল। তাঁর পরিচয় মেলেনি।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ মনে করেন, শীতের কারণে মাথায় টুপি পরেন অনেকে। আবার অনেকে মুঠোফোনে ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটেন। যার কারণে ট্রেন চলে এলেও তাঁরা বুঝতে পারছেন না। ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কালিয়াকৈর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি গাজীপুর সদর হাসপাতালে, রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ ও জোয়ার সাহারা থেকে পাওয়া তিনটি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে পাওয়া লাশটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে।

পাকিস্তানে অর্ধশতাধিক জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবানের ভয়াবহ হামলার জের ধরে দেশটিতে শিগগিরই আরও অর্ধশতাধিক জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে। গত সপ্তায় সংঘটিত ওই হামলার ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে অন্তত ছয়জনের। এ ছাড়া হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি, এএফপি ও ডনের।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর দায়ে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কমপক্ষে ৫৫ জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন সম্প্রতি নাকচ করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন। এর ফলে সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের স্কুলে জঙ্গি হামলার পরের দিন পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের পর থেকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই ৫৫ জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর করা না-করার বিষয়টি ঝুলে ছিল।
এই ব্যক্তিদের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি কার্যত আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সরকার ক্ষমতায় এসেও মূলত একই কারণে বিষয়টির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তাই কার্যকর করা সম্ভব হয়নি তাঁদের ফাঁসির আদেশও।
ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করতে যাচ্ছে। এরপর তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাঁচ শতাধিক লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
সাধারণত পাকিস্তানে ক্ষমার আবেদন নাকচ ও মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর দণ্ড কার্যকরে অন্তত ১৪ দিন সময় লাগে। তবে পাঞ্জাব সরকার সম্প্রতি আইন সংশোধন করে এই সময় দুই দিন করেছে। প্রদেশটির সরকার আরও একটি আইন সংশোধন করেছে। যার ফলে মৃত্যুদণ্ড কেবল ভোর চারটায় কার্যকর করা হবে। এত দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যেকোনো সময় ফাঁসিতে ঝোলানো যেত।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংশ্লিষ্ট যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, সেসব মামলায় সক্রিয় হয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনতে লেগে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল সালমান আসলাম বাট ও তাঁর দলকে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কর্মকর্তারা জানান, এই নির্দেশের পর সরকারি কৌঁসুলিরা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবেন, যাতে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়।
ওদিকে ২০১২ সালে গুজরাটে এক সেনাশিবিরে হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া পাঁচ ব্যক্তির দণ্ড স্থগিত করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আইনজীবীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ দেন আদালত। একই দিন আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন সিন্ধু হাইকোর্টও।
কয়েকজনকে গ্রেপ্তার: পুলিশ বলছে, পেশোয়ারের স্কুলে নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী বলেন, এরা ওই হামলার ‘প্রশ্রয়দাতা’। তবে এদের সংখ্যা বা পরিচয় প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান তিনি। মন্ত্রী দাবি করেন, আরেকটি হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে তাঁরা আভাস পেয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল কোয়েটার কুচলাক এলাকা থেকে তালেবানের একজন প্রভাবশালী কমান্ডারসহ সন্দেহভাজন পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পিটিআইয়ের নিন্দা: পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান গত রোববার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্য সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিন্দা করেছেন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে তালেবানের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে যে সাধারণ ভাবমূর্তি প্রচলিত রয়েছে সেটি হালকা করতেই একে ইমরানের একটা চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

মহসীন আলী দেওয়ান

মহসীন আলী দেওয়ান বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গে শিক্ষাব্রতী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একাত্তরে তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষও ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বগুড়া দখল করলে তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। দখল করার পর সেনাবাহিনী স্কুল-কলেজ খোলার নির্দেশ দেয়। তিনি কলেজে যাননি। কিছুদিন পর থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ তাঁকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন তাঁর কাছে অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। তিনি প্রথমে এই চাপ উপেক্ষা করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু হলে তিনি ৩ জুন দুজন ছাত্র ও কোরআনের একজন হাফেজকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে যান। উপাধ্যক্ষ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে তাঁকে ভাঁওতা দিয়ে বগুড়া শহরে নিয়ে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ। কোথাও তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। মহসীন আলীর মেয়ে স্নিগ্ধা মহসীনা আহসানের লেখায় এ ঘটনার বিবরণ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘...কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল বাবাকে কলেজের দায়িত্ব তাঁর হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অনবরত লোক পাঠাতে লাগল। বাবা যদি না যান, তবে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ভয় দেখাল। এভাবে চাপ সৃষ্টি করে জোর করে কলেজে নিয়ে গেল। আমার নানার গ্রাম থেকে তাঁর কলেজের দুজন ছাত্র ও একজন হাফেজ (কোরআন) সাহেবকে নিয়ে কলেজে গিয়েছিলেন। চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে যখন ফিরতে চেয়েছেন, তখন ভাইস প্রিন্সিপাল জোর করে বগুড়ায় বাবার প্রিয় বাড়ি দেখাবার লোভ দেখিয়ে এনে নরঘাতকদের হাতে তুলে দেয়। বাবার সঙ্গে সেই নির্দোষ হাফেজ সাহেবও নিখোঁজ হলেন।
‘বাবার কাছে প্রফেসর মযহারুল ইসলাম (যিনি পরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়েছিলেন) চিঠিও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার জীবনে বাবা নামের অধ্যায়ের সেই শেষ।’ (স্মৃতি ১৯৭১, প্রথম খণ্ড, প্রথম প্রকাশ ১৯৮৮, সম্পাদনা রশীদ হায়দার)।
শেরপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হলেও মহসীন আলী দেওয়ান একসময় নওগাঁ কলেজ ও বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। সাপ্তাহিক বগুড়া বুলেটিন ও সান্ধ্য দৈনিক জনমত-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। বগুড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বগুড়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন।
সাহিত্যিক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এ জন্য ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। গল্পের চিড়িয়াখানা নামে তাঁর একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর রচনা স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।
গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে মহসীন আলী দেওয়ানের ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও প্রচেষ্টা। যেসব ছাত্রের বাড়ি দূরবর্তী গ্রামে ছিল, পরীক্ষার সময় তিনি তাদের অনেককে তাঁর বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
মহসীন আলী দেওয়ানের জন্ম জয়পুরহাটের ভুটিয়াপাড়া গ্রামে, ১৯২৯ সালের ১ জানুয়ারি। বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আজিজুল হক কলেজে তিনি ছিলেন ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক।
তিন সন্তানের জনক মহসীন আলী। একসময়ের সিনে সাংবাদিক ফারুখ ফয়সল তাঁর ছেলে।
স্কেচ: শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক ডাকটিকিট (তৃতীয় পর্যায়) প্রকাশ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা (১৯৯৪)।
গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও পুলিশ হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে গত রোববার গুলি করে ও গাড়িচাপা দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন এক যুবক। পরে ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। নিউইয়র্কে এক যুবকের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার এক দিন পর এ ঘটনা ঘটল। খবর ইউএসএ টুডের।
নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম চার্লস কোন্ডেক। নিউইয়র্কের বাসিন্দা কোন্ডেক পাঁচ বছরের বেশি সময় নিউইয়র্ক নগর পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হন। সেখানকার পিনেলাস কাউন্টির টারপন স্প্রিংস শহরের পুলিশ বিভাগে কাজ করছিলেন তিনি। কোন্ডেকের সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে আটক যুবকের নাম মার্কো অ্যান্টোনিও পারিলা জুনিয়র (২৩)।
পুলিশ জানায়, পারিলা একজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িযোগে রোববার স্থানীয় সময় সকালে টারপন স্প্রিংস শহরের গ্রান্ড বুলেভার্ড এলাকার একটি বাড়ির সামনে যান। পারিলা যখন বাড়িটির দরজায় টোকা দিচ্ছিলেন, তখন ওই নারী গাড়িতে বসেই গান শুনছিলেন। এ সময় এক প্রতিবেশী ওই নারীকে গানের শব্দ কমাতে বলেন। তা না মানায় ওই প্রতিবেশী ৯১১ নম্বরে ফোন করে শব্দদূষণের অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা কোন্ডেক ঘটনাস্থলে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কোন্ডেক গাড়ি থেকে বের হওয়ামাত্রই পারিলা তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন। একটি গুলি কোন্ডেকের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে গিয়ে লাগে। তবে কোন্ডেক পাল্টা গুলি ছুড়তে সক্ষম হলেও মাটিতে পড়ে যান। তখন ওই নারীকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে নিজে গাড়িতে উঠে পড়েন পারিলা। এরপর মাটিতে পড়ে যাওয়া কোন্ডেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। তবে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল পারিলাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাঁর গাড়িটি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও পরে একটি থামা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পরই তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বরগুনায় দুই সাংসদের কাণ্ড!

বরগুনা-১ আসনের (সদর-আমতলী-তালতলী) সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সাংসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একই দিন বিকেলে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওরফে রিমনের নির্দেশে একটি সালিসে এক গৃহবধূর মাথায় বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাংসদ এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে গত রোববার দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগাম একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেক জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সেখানে উপস্থিত হন এবং হঠাৎ আবদুল মালেকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সাংসদ তাঁর (নির্বাহী প্রকৌশলী) জামার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় সাংসদ উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, ‘লাঠি কোথায়? ওকে লাঠিপেটা করব।’ ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান। এরপর সাংসদ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ঢোকেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মহড়ায় যোগ দেন। বিষয়টি সন্ধ্যায় জানাজানি হয়।
আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সাংসদ আমাকে ফোন করে জেলার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী এলাকায় বাঁধের গাছ কাটার কথা জানান। এরপর ১১টার দিকে পুনরায় সাংসদ ফোন করলে আমি তাঁকে বলি, ‘স্যার, সেখানে লোক পাঠিয়েছি, খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি। এ কথা বলার পরপরই সাংসদ কিছুটা রাগ হয়ে আমার ফোন রেখে দেন। পরে আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে আগাম মহড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যাই। সেখানে আমাকে তিনি কিল-ঘুষি মারেন।’
বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। উনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) আমাকে বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন।’
সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বাঁধের সবুজ বেষ্টনীর গাছ কেটে ফেলেছে, যার আর্থিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা। আমি এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে রাগারাগি করেছি, মারধর করিনি।’
এদিকে পাথরঘাটা উপজেলার গহরপুর গ্রামের এক গৃহবধূ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজনকে মিথ্যা মামলা ও থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন এমন অভিযোগে রোববার বিকেলে সালিস বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত করে স্থানীয় সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওই নারীকে জুতাপেটা করেন। একই সঙ্গে তাঁর মাথায় মানুষের বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী শৌচাগার থেকে এক বালতি বিষ্ঠা এনে ওই নারীর মাথায় ঢেলে দেন।
সালিস বৈঠকে সাংসদ ছাড়াও উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন, পাথরঘাটা পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ইয়াছিন আরা এবং পৌর কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক ও বাবুল মিস্ত্রি উপস্থিত ছিলেন।
সাংসদ বিষ্ঠা ঢালার কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নারী অনেক মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এর জন্য মারলে আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ আসতে পারে। তাই বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার রায় দিয়েছি।’

কম্বল পেয়েই কেঁদে ফেলল মেয়েটি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তারের বয়স আট বছর। তার মা ও বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালায়। এবার শীতে গায়ে দেওয়ার জন্য কোনো গরম কাপড় নেই। কম্বল নিতে এসে থরথর করে কাঁপছিল মেয়েটি। একটি কম্বল পাওয়ামাত্রই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কেঁদে ফেলে সে।
নাটোরের অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি) কার্যালয়ের সামনে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে গতকাল সোমবার এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। পারভীন আক্তার জানায়, এত দিন সে তার মায়ের পরনের কাপড়ে মুখ গুঁজে রাত যাপন করেছে। তার মতো অসহায় ১০০ প্রতিবন্ধীর হাতে কম্বল তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নাটোর, গাইবান্ধা ও নেত্রকোনায় গতকাল সিটিব্যাংক এনএর সহযোগিতায় এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলায় রোববার ফ্যাশন হাউস ওটুর সহযোগিতায় ৫৪০টি কম্বল দেওয়া হয়। এবারের এ কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে। চার জেলায় গত দুদিনে কম্বলগুলো বিতরণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
নাটোরের সদর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০০ প্রতিবন্ধীকে গতকাল কম্বল দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে দিঘাপতিয়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফুলবালা বেওয়া (৭২) বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় দুই বেলা খাতে পাইনি। শীতের কাপড় কিনব কী করি? তাই ঠান্ডার ভয়ে বিকাল হলেই ঘরে দরজা দিয়া থাকি। দম ফেলতে পারিনি। কম্বলডা পাইয়াএখন চিন্তামুক্ত হলাম।
গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ২০০ শীতার্তকে কম্বল দেওয়া হয়। গাইবান্ধা পৌরসভার মুন্সীপাড়া, বানিয়ারজান, পূর্বপাড়া, ডেভিড কোং পাড়া, বাংলাবাজার, পশ্চিমপাড়া, ফকিরপাড়া, মালিপাড়া এলাকা এবং গাইবান্ধা সদর উপজেলার বারবলদিয়া, দারিয়াপুর, কয়াছয়ঘরিয়া, বালুয়া, বল্লমঝাড়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এবং সমিতির বাজার গ্রামের মানুষকে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
কম্বল পেয়ে কয়াছয়ঘরিয়া গ্রামের আজিরন বেগম (৫৫) বলেন, ‘হামারঘরে সোংসারোত পাঁচকোনা মানুষ। দুইব্যালা ঠিকমতোন খাব্যার জোগবার পাই ন্যা। শীতের কাপড়া কিনমো ক্যামন করি। তোমারঘরে কমবোল পায়া উপক্যার হলো বাবা। আইজকে আইতোত আরামে ঘুমব্যার পামো।’ কঞ্চিপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী রনজু মিয়া (৫৫) বলেন, ‘এক ব্যালা না খায়া থাকা যায়। কিন্তুক শীতের কষ্টে আইত কাটে না। তোমারঘরে কাপড়াকোনা পায়া ভালো হলো।’
নেত্রকোনা শহরের আদর্শ শিশুবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সকাল নয়টার দিকে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আদর্শ শিশুবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন নেত্রকোনা জেলা শাখার সহসভাপতি বিমল বিশ্বাস এবং নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মুখলেছুর রহমান।
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের অগ্রগণ্য সংবাদপত্র হিসেবে প্রথম আলো গরিব-অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে যে ব্যতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা প্রতিষ্ঠানটির মানবতাবোধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বাধাইল ইউনিয়নের জিনাখোর আদিবাসী গ্রামে গত রোববার ৪০ দরিদ্র আদিবাসীকে কম্বল দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র বিতরণের আগে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
এবারের কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। গত দুদিনে বিতরণ করা চারটি জেলা ছাড়াও এ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে এসব কম্বল দেওয়া হয়।
[(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোর, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি)৷

Sunday, December 21, 2014

‘একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে’ -খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের দিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেছেন, একটি বিশেষ দল স্বাধীনতাযুদ্ধের মনগড়া ইতিহাস বলে চলেছে। বিকৃত ইতিহাসকে শুদ্ধ করে বলতে গেলে বা চ্যালেঞ্জ করলে তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বললেও সুষ্ঠু জবাব না দিয়ে অশ্লীল গালাগাল করে, হুমকি দেয়। আজ রোববার বিকেলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক ওই আলোচনা ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া দাবি করেন, ইতিহাস বিকৃতির কারণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের (আওয়ামী লীগ) ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সংকটকালে তারা ইতিহাস-নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে তারা যুদ্ধ করেনি। ভারতে আশ্রিত জীবন কাটিয়েছে। তাই তারা ইতিহাসের সত্যের বদলে আবেগকে আশ্রয় করে নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা ঢাকতে চায়। স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের সাফল্যকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টা শুরু হয় বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটি দল সব সময় দাবি করে, তারা মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সংগঠিত করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের দাবি যে কতটা অসার তা এখন সেই দলভুক্ত লোকদের লেখা বইপত্র এবং বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু সত্য কথা কেউ বললে তারা তার সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জবাব না দিয়ে গালাগাল শুরু করে। তাদের ফরমায়েশি ইতিহাসের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও তারা রাজাকার ও পাকিস্তানের চর বলে লেবেল এঁটে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধকে এভাবে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে না। ইতিহাস তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গালাগালি ও হুমকি দিয়ে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যাবে না।’
খালেদা জিয়া দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মার্চে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যর্থতার পটভূমিতে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন। হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক জানজুয়াকে হত্যা ও বাকিদের বন্দী করেছিলেন। বেতার মারফত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ঘোষণার মাধ্যমেই বিদ্রোহ উন্নীত হয়েছিল বিপ্লবে। প্রতিরোধযুদ্ধ উন্নীত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে।
খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ দেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বিএনপি তা কখনো করবে না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে কখনো দলীয় রাজনীতির উপকরণ করতে চায় না। এ নিয়ে বিতর্কও কাম্য নয়।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রণয়নের নামে যে ‘জঘন্য জালিয়াতি ও দলীয়করণের’ আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, তা পরিশুদ্ধ করা হবে। প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাইরে থাকবেন না। যেসব মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার বিপন্ন ও মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাদের সমাজে সম্মানজনক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কারাগারে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ন্যায়সংগত। আজ সেই ন্যায়সংগত বিদ্রোহ সংগঠিত করার সময় এসেছে।’
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানে তারা সাড়া দেয়নি। তাই আমাদের বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। দেশের জনগণ আন্দোলন চায়, পরিবর্তন চায়।’
আওয়ামী লীগকে স্বদেশি হানাদার আখ্যা দিয়ে শিগগির আন্দোলন শুরুর হুমকি দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের মোকাবিলায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামব। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, জনগণের আন্দোলন। জনগণের সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী, অবৈধ সরকার তাসেরঘরের মতো ভেসে যাবে।’
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ।

Monday, December 15, 2014

শ্রমিকদের সন্তুষ্ট করতে হবে

ঢাকায় ৭-৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যাপারেল সামিট। ২০২১ সালে পোশাকের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ।রপ্তানি আয়ের এই লক্ষ্য অর্জনে কী করণীয়, সে বিষয়ে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন
তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বর্তমানে ২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন করতে হলে এই আয় দ্বিগুণ করতে হবে। সে জন্য প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। এটি অর্জনযোগ্য লক্ষ্য বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ। তিনি বলেন, অতীতে যত সহজে ১৪-১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এখন ১০ শতাংশ আদায় করা ততটা কঠিন হবে। কারণ, আগে খোলা মাঠে সস্তা শ্রম দিয়ে আমরা এখানে প্রবেশ করেছি। এ ক্ষেত্রে শুরুর যে সুবিধা আমরা পেয়েছিলাম সেটা আর পাওয়া যাবে না। কারণ, প্রতিযোগী অনেক।
এম এম আকাশ বলেন, এখন চীনসহ অন্য দেশ এই বাজারের যতটুকু ছাড়বে ততটুকুই আমরা ঢুকতে পারব। অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি চিরকাল কম থাকবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশের উন্নতি করতে হবে। এ ছাড়া পণ্যের বৈচিত্র্যতা বাড়াতে গবেষণা ও উচ্চমূল্যের পণ্য প্রস্তুতে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে হয়তো উদ্যোক্তাদের বড় মুনাফা করার যে সুযোগ সেটি আর থাকবে না। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা করতে হলে এটি মেনে নিতে হবে। আর শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক উন্নয়নের দায়িত্বটা সরকারকে নিতে হবে। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে।
অবশ্য সবার আগে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট করাই হবে প্রথম কাজ, এমনটাই মত দেন এই অর্থনীতিবিদ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ এই শিল্পে বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করে। সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের টাকা দিয়ে কিংবা তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায় গঠিত সংগঠন দিয়ে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করার বর্তমান পদ্ধতি বিপদ বয়ে আনবে। মালিকেরা এখন যেভাবে ট্রেড ইউনিয়নকে এড়িয়ে যান সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং এটিকে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী মুনাফার একটি অংশ শ্রমিককল্যাণ তহবিলে দিতে হবে মালিকদের। যাতে আপৎকালীন সময়ে ইতিবাচকভাবে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করা যায়।
এম এম আকাশ বলেন, আগে অবকাঠামোর ওপর চাপ কম ছিল। কিন্তু ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে গেলে জমি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সড়কের ওপর চাপ বাড়বে। স্বল্প সুদে ঋণসুবিধা দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। আর এগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। এ ছাড়া এখনই কারখানা স্থাপনে জমি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই ওপরের দিকে নিরাপদ ভবন নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মিলিয়ে সরকারের উচিত একটি মাস্টারপ্ল্যান করা।

বড় চ্যালেঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন

ঢাকায় ৭-৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যাপারেল সামিট। ২০২১ সালে পোশাকের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ।রপ্তানি আয়ের এই লক্ষ্য অর্জনে কী করণীয়, সে বিষয়ে সম্মেলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন
প্রথম আলো: পোশাক রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রানা প্লাজা ধসের পর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, সম্মেলনের এই দুই উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে?
আতিকুল ইসলাম: সম্মেলনে গ্যাপ, এইচ অ্যান্ড এম, লি অ্যান্ড ফাংসহ বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আসেন। তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। আর হিসাব করলে এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের পোশাক রপ্তানির ৭০ শতাংশের অংশীদার। এই প্রতিনিধিদের আমরা কয়েকটি কারখানা পরিদর্শনে নিয়ে যাই। আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেট হারম্যান তো তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে মুঠোফোনে বলেছেন, ‘আই কান্ট বিলিভ, ইজ ইট বাংলাদেশ!’ (আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা বাংলাদেশ!)। এককথায় বলতে গেলে, তাঁরা আমাদের কারখানা দেখে অভিভূত হয়েছেন। এ ছাড়া একাধিক দেশের মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং উদ্যোক্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা নয়টি সেমিনার করেছি। এসব সেমিনারে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জ ও ‘কী করা উচিত’ সেসব বেরিয়ে এসেছে। সম্মেলনের পাশাপাশি নিরাপত্তা-সরঞ্জাম নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হয়েছে। দেশের উদ্যোক্তারা বর্তমানে কর্মপরিবেশ উন্নতিতে কাজ করছেন। অনেক কারখানার মালিক আমাকে বলেছেন, এই প্রদর্শনীর কারণে তাঁদের আর বিদেশ যেতে হবে না। সব মিলিয়ে সম্মেলনের একেকটি জায়গায় আমরা যতটুকু চেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। তাই বলা যায়, আমরা দারুণভাবে সফল।
প্রথম আলো: সম্মেলনে নয়টি সেমিনারে উঠে আসা পরিকল্পনা নিয়ে বিজিএমইএ কীভাবে এগোবে?
আতিকুল ইসলাম: ২০২১ সালের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ ও এগিয়ে যাওয়ার কর্মপরিকল্পনা কী হবে, সে বিষয়গুলো বেরিয়ে এসেছে। দেশের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এগুলো বিশ্লেষণ করে একটি মলাটের মধ্যে নিয়ে আসার পর এটি সরকারকে দেওয়া হবে। তারপর সব পক্ষকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের আয়োজন করা হবে। সেখানেই অগ্রাধিকারভিত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্দিষ্ট হবে।
প্রথম আলো: রপ্তানি আয়ে এই মাইলফলক অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি বলে আপনি মনে করেন?
আতিকুল ইসলাম: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন। তবে এটা দুঃখজনক যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শেষ করতে এত সময় লাগছে। তবে আমাদের বুঝতে হবে, পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থা যত নির্বিঘ্ন করা যাবে, উৎপাদন খরচ তত কমে আসবে এবং একই সঙ্গে প্রতিযোগী দেশের চেয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে। গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা ও কম সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থাও এই অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এই শিল্পের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সম্মেলনে উপস্থিত থেকেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা যখনই কোনো সমস্যা নিয়ে হাজির হয়েছি তিনি গুরুত্ব দিয়ে তা শুনেছেন, সমাধান করেছেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি, সরকার যথাসম্ভব সমস্যাগুলো সমাধান করবে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে সংবর্ধনা বণিক বার্তা ও বিআইডিএসের

জাতীয় অর্থনীতি, উন্নয়ন গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলা দৈনিক বণিক বার্তা এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।
বাণিজ্য ও অর্থনীতিভিত্তিক দৈনিক পত্রিকা বণিক বার্তার চতুর্থ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সংবর্ধনা ও উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০১৪’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁর সম্পর্কে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
একই অনুষ্ঠানে দেশের সম্ভাবনাময় দুজন উদ্যোক্তা কলারোয়া ক্লে টাইলসের উদ্ভাবক গোষ্ঠ চন্দ্রপাল এবং লিলি কেমিক্যালসের উদ্যোক্তা এ কে এম সেলিমকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি।

একজন ডায়ান ফাইনস্টাইন

সিনেটর ডায়ান ফাইনস্টাইন। মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির প্রধান। এই কমিটিই এক প্রতিবেদনে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস কৌশলের তথ্য প্রকাশ করেছে। এরপর নতুন করে প্রচারের আলোর নিচে চলে আসেন জ্যেষ্ঠ এ আইনপ্রণেতা।
৮১ বছর বয়সী ফাইনস্টাইন ২০০৯ সাল থেকে সিনেট গোয়েন্দা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে তিনিই প্রথম নারী। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই সম্পর্কে অনেক গোপন বিষয়ই জানেন তিনি। সর্বশেষ সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিআইএর নৃশংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের পেশাগত দৃঢ়তার দিকটিই তুলে ধরলেন।
ফাইনস্টাইনের কাজ ও পেশাগত দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে সহকর্মী সিনেটর জন রকফেলার বলেন, ‘আমরা একই ইস্যু নিয়ে কাজ করেছি। আমি মনে করি, তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন।’
১৯৯২ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডায়ান ফাইনস্টাইন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম নারী সিনেটর তিনি। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির প্রথম নারী সদস্যও ছিলেন ফাইনস্টাইন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সানফ্রান্সিসকোর মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৩৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া ফাইনস্টাইন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। সূত্র: বিবিসি ও এএফপি।

‘তুমি কি আমাকে নেবে?’

সিয়েরা লিওনের ছোট্ট সুইটির যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা গেছেন। পরে মা-ও মারা যান। ইবোলার ভয়ে অসহায় মেয়েটিকে কেউ নিজের কাছে রাখতে চাইছে না। না আত্মীয়-স্বজন, না গ্রামের বাসিন্দারা। তাই যাকেই দেখছে, তার কাছেই মেয়েটি জানতে চাইছে, ‘তুমি কি আমাকে নেবে?’
এনডিটিভি অনলাইনের খবরে আজ রোববার বলা হয়েছে, ইবোলায় সুইটির বাবা মারা যাওয়ার পর তার মাও এতে আক্রান্ত হন। রক্ত বমি করতে করতে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছিলেন ওই মা। একদিন অ্যাম্বুলেন্স এল, মাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলো। সঙ্গে গেল সুইটিও। ইবোলা-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ক্লিনিকে সে মায়ের পিছু পিছু থাকত। তার মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, সুইটি তাঁকে ওষুধ দেওয়ার বায়না ধরল। সে মাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল। মায়ের ধূলিমাখা কাপড়-চোপড় ধুয়ে দিচ্ছিল, যদিও খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারেনি।
একদিন সুইটির মা মারা গেলেন। ইবোলা সুইটির পরিবারে ছড়িয়ে পড়লেও তার শরীরে রোগটিতে সংক্রমণের কোনো লক্ষণ নেই। দুই সপ্তাহের বেশি সময় সে দূষিত এলাকায় ছিল, তাই ছোট এই মেয়েটিকে কেউ নিজের কাছে রাখতে রাজি নয়।
মায়ের মৃত্যুর পর ছোট্ট এ মেয়েটি ক্লিনিকের দরজায় বসে বাদামি চোখে দাঁড়িয়ে থাকত। তাকে নেওয়ার কেউ নেই। একদিন তাকে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। হলঘরে একা সুইটি ভয়ে-আতঙ্কে চমকে ওঠে।
নার্সরা জানান, ছোট্ট মেয়েটি তার মায়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছিল। তার বয়স খুব বেশি হলে চার বছর। নার্সরা তার আসল নাম জানেন না। তাই তাঁরা তাকে ‘সুইটি সুইটি’ বলে ডাকেন।
সমাজকর্মীরা সুইটিকে দত্তক নেবেন, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। ইতিমধ্যে সে বুঝে গেছে তাকে কারও অধিকারে যেতে হবে। কিছু দিন আগে এক দর্শনার্থীকে সে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কি আমাকে নেবে?’
ইবোলা পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন, গিনি, লাইবেরিয়ার শিশুদের জন্য হতভাগ্য নিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, ইবোলায় এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে অন্তত এক হাজার ২০০ জন।

জাপানে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু

জাপানে আজ রোববার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, জনপ্রিয়তা কমলেও প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আবারও ক্ষমতায় আসছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এই নির্বাচনে আবের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। আজ স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় দেশব্যাপী ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ৪৭৫ আসনের ডায়েটে কারা বসবেন, তা নির্ধারণ করছেন দেশটির ভোটাররা। গত মাসে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন আবে। অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে নতুন করে জনসমর্থন যাচাইয়ের জন্য এ নির্বাচন দিয়েছেন তিনি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১২ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরেন আবে। তিনি অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি নেন। তবে ‘অ্যাবেনোমিকস’ নামে পরিচিত ওই কর্মসূচি বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়ে। তাঁর পার্লামেন্টের মেয়াদ ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত। আগেভাগে নির্বাচন করার অন্যতম লক্ষ্য জনপ্রিয়তার পড়তি রোধ করা।

চীন ও জাপানকে ঘৃণা ভুলে যেতে হবে

চীন ও জাপানের উচিত পারস্পরিক ঘৃণা দূর করা। দুই দেশের বর্তমান সুসম্পর্কের ওপর অতীত যেন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সেদিকে লক্ষ রাখা। তাদের উচিত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। চীনের নানজিং গণহত্যার ৭৭তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের। জাপানের সেনারা ১৯৩৭ সালের ডিসেম্বরে চীনের তখনকার রাজধানী নানজিং দখল করে। বেইজিংয়ের দাবি, ওই সময় নারী ও শিশুসহ অন্তত তিন লাখ জাপানিকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হন। এ দিনটিকে গতকাল প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করে চীন। দিবসটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন, ‘নানজিংয়ে গণহত্যার শিকার মানুষদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ঘৃণাকে উসকে দেওয়ার উদ্দেশে নয়, বরং ঘৃণাকে দূর করতে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে গঠিত যৌথ ট্রাইব্যুনালের হিসাব অনুযায়ী, নানজিংয়ে গণহত্যার শিকার হয়েছিল এক লাখ ৪২ হাজার মানুষ। তবে জাপানের কিছুসংখ্যক কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী সেখানে গণহত্যা হয়েছিল বলেই স্বীকার করেন না।
নানজিং গণহত্যা চীন ও জাপানের সম্পর্কের মধ্যে এখনো এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
সুসম্পর্কের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি চীনা প্রেসিডেন্ট তিক্ত অতীতের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। আর কোনো অপরাধকে অস্বীকার করা মানে আবারও অপরাধ করা।...আগ্রাসনকারীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা কোনো মানুষের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’

পুতিনের ভারত সফরে ‘নাখোশ’ যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরে যুক্তরাষ্ট্র ‘নাখোশ’। তবে দেশটি এই অসন্তুষ্টির কথা স্পষ্ট করে জানালেও বলেছে, ভারতে আগামী জানুয়ারি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারত এখনো তাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি তাঁর দেশের এ মনোভাবের কথা বলেন। খবর এনডিটিভির।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জেন সাকি জানান, ওবামার পরিকল্পিত ভারত সফর বাতিলের কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ জানুয়ারি দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ওবামা প্রধান অতিথি থাকবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামাই প্রথম এ ধরনের সম্মান পেলেন।
মার্কিন মুখপাত্র সাকি জানান, পুতিনের সফরে তেলক্ষেত্র আবিষ্কার, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা এবং পরমাণু জ্বালানি খাতে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে। আগামী দুই দশকে ভারতে রাশিয়ার ১২টি পরমাণু চুল্লি তৈরির পরিকল্পনার বিষয়টিও তাদের জানা আছে। এ প্রসঙ্গে সাকি বলেন, ‘স্বাভাবিক কারণেই এসব চুক্তির একেবারে খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে আমরা জানি না। তবে এগুলোর বিষয়ে আমরা খোঁজ রাখছি।’ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সব দেশকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক যেন কিছুই হয়নি সে রকম রাখার অবস্থা নেই।’
ওবামার ভারত সফর বাতিল হয়ে যাবে কি না, এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা আবার জিজ্ঞেস করলে সাকি জোরের সঙ্গে বলেন, ‘না, না, না।’
ভ্লাদিমির পুতিন গত বুধবার এক দিনের শীর্ষ বৈঠকের জন্য ভারত সফরে আসেন। এই সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আর স্বাভাবিক নেই— ‘সহযোগী দেশগুলোকে’ এ মনোভাবও জানিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতে আর যাই হোক, ওবামার ভারত সফরের ওপর প্রভাব পড়বে না বলেই জানানো হয়েছিল।
পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহে কথিত হস্তক্ষেপ ও মালয়েশীয় এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করায় সম্ভাব্য ভূমিকাসহ বিভিন্ন কারণে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে শীতল সম্পর্ক চলছে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের মত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার জন্য বন্ধুর খোঁজে ভারত সফরে আসেন পুতিন। মনে করা হচ্ছে, পশ্চিমের দুয়ার বন্ধ হওয়ায় বিশেষ করে জ্বালানির নতুন বাজার খোঁজা পুতিনের এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাশিয়ার সঙ্গে আশু সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ নেই বলেই শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেন সাকি। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আর এটা আমরা বজায় রাখতে চাই।’
পুতিনের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা ভারতকে জানিয়েছিল কি না, এই প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।...আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ভারত সমর্থন করেনি। তারা এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।’
পুতিনের ভারত সফরের সময় তাঁর সঙ্গে ক্রিমিয়ার প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আকসিয়েনভের উপস্থিতির বিষয়টি ওয়াশিংটনকে হতাশ করেছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’
প্রতিবেশী ইউক্রেনে সম্প্রতি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার পর দেশটির ক্রিমিয়া উপদ্বীপ নিজের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় রাশিয়া।

যুবরাজের ঘর ভাঙল

থাইল্যান্ডের যুবরাজ ভাজিরালংকর্ন তাঁর স্ত্রী শ্রীরাসমিকে তালাক দিয়েছেন। গতকাল শনিবার থাই রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজ উপাধি ত্যাগ করেন যুবরাজের স্ত্রী শ্রীরাসমি। খবর বিবিসি ও এএফপির।
খবরে বলা হয়, শ্রীরাসমি রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করায় যুবরাজের সঙ্গে তাঁর ১৩ বছরের বিবাহিত জীবনের অবসান ঘটল। দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি শ্রীরাসমির পরিবারের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের নাম থেকে রাজকীয় পদবি বাদ দিতে সরকারের কাছে আবেদন করেন যুবরাজ।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের কাছে রাজ উপাধি ত্যাগের অনুমতি চেয়ে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন প্রিন্সেস শ্রীরাসমি। রাজা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
শ্রীরাসমি যুবরাজ ভাজিরালংকর্নের তৃতীয় স্ত্রী। ২০০১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। শ্রীরাসমিকে ভবিষ্যৎ রানি বিবেচনা করা হচ্ছিল। ইতিমধ্যে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছিলেন। তবে অনুষ্ঠানে একসঙ্গে যেতেন।
থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল ১৯৪৬ সাল থেকে সিংহাসনে আছেন। দেশে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। থাইল্যান্ডে রাজা এমনকি রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা অপরাধ। দেশের প্রচারমাধ্যম রাজপরিবারের বিষয়ে অনেক খবর প্রকাশ করতে পারে না। রাজপরিবারের সম্মানহানি করে, এমন খবর প্রকাশ দণ্ডনীয় অপরাধ।

জ্যাকুলিনের রহস্যমানব

সাজিদ খানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর প্রেম নিয়ে আর জল ঘোলা করেননি জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তবে আবারও ধূম্রজালে জড়িয়েছেন জ্যাকি। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এক রহস্যমানবকে। প্রথমে কয়েক দফায় আঁধারেই থেকে যান সেই রহস্যমানব। তবে অবশেষে বেরিয়ে এসেছে তাঁর পরিচয়। জ্যাকুলিনের সখ্য গড়ে উঠেছে সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনের সাবেক প্রেমিক ইমতিয়াজ খতরির সঙ্গে। মুম্বাইয়ের কয়েকটি স্থানে এই যুগলকে একাধিকবার দেখা গেছে। কিন্তু প্রতিবারই ক্যামেরা দেখে হয় জ্যাকুলিন নিজেকে আড়াল করে নিয়েছেন অথবা ইমতিয়াজ লুকিয়ে ফেলেছেন নিজেকে। ডিএনএ ইন্ডিয়া।

স্মৃতির কাজল

নব্বইয়ের দশকের সাড়াজাগানো ছবি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে এক হাজার সপ্তাহ পার করেছে গত শুক্রবার। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে শাহরুখ খান-কাজল জুটিকে উপহার দিয়েছিলেন এর পরিচালক আদিত্য চোপড়া। ছবিতে সিমরান চরিত্রে কাজলের অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করেছে অগণিত দর্শককে। সম্প্রতি ছবিটি নিয়ে অতীত স্মৃতির কথা জানিয়েছেন এ তারকা অভিনেত্রী। ছবিটির সিক্যুয়েল তৈরির পক্ষে মত দিলেও তিনি মনে করেন, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গের মতো বিস্ময়কর একটি ছবির রিমেক বানানো কখনোই সম্ভব না।
এ প্রসঙ্গে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাজল বলেন, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে ছবির সিক্যুয়েল তৈরির ভাবনাটি চমৎকার।’ ছবিটির সিক্যুয়েল তৈরির পক্ষপাতী হলেও রিমেক তৈরির বিপক্ষেই কথা বলেছেন কাজল। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, বিস্ময়কর কোনো কিছুর রিমেক কখনোই হতে পারে না।’
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে ছবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যেন অতীতে ফিরে যান কাজল। তিনি বলেন, ‘ছবিটির নির্দিষ্ট কোনো দৃশ্যের সঙ্গে নয়, পুরো ছবির সঙ্গেই আমার অনেক অতীত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যখনই আমি ছবিটি দেখি, তখন মনে হয়, একটার পর একটা ফ্ল্যাশব্যাক দেখছি। ওই সময়টাতে কী কী ঘটেছিল তার সবই আমার মনে পড়ে যায়। ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে সত্যিই দারুণ সময় পার করেছিলাম আমরা।’
কাজল আরও বলেন, ‘ছবিটির শুটিংয়ের সময় আমরা একদমই ভাবিনি কে বড় আর কে ছোট। আমরা সবাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেছি। কেউ কাউকে ভয় পাইনি। অন্য কারও চেয়ে নিজেকে কখনোই ছোট মনে করিনি আমরা।’
মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে ১৯৯৫ সাল থেকে বিরতিহীনভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। গত শুক্রবার ছবিটির এক হাজার সপ্তাহ পূর্তি উদযাপন করেছে ১১০০ আসনের প্রেক্ষাগৃহটি।

বাদ সাধল জলবসন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি পরিচালিত আনব্রোকেন ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে আগামীকাল সোমবার। কিন্তু হঠাৎ করে জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে থাকতে পারছেন না জোলি। বিষয়টি জানিয়ে ইউটিউবে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউডের এ তারকা অভিনেত্রী ও নির্মাতা। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে থাকতে না পারলেও জোলির পক্ষে হাজির থাকবেন তাঁর স্বামী ব্র্যাড পিট। জোলির সন্তানেরাও হাজির থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে আনব্রোকেন ছবির পরিবেশক সংস্থা ইউনিভার্সেল পিকচার্স। প্রতিষ্ঠানটির বরাতে ডিজিটালস্পাই ডটকম জানিয়েছে, জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় আগামী কয়েক দিন জনসমক্ষে যেতে পারবেন না জোলি। এ জন্য ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। ছবির প্রচারণামূলক কাজ থেকেও কয়েক দিন বিরত থাকতে হবে তাঁকে।
এদিকে জোলি তাঁর এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগামী কয়েক দিন আনব্রোকেন ছবির প্রচারণামূলক কোনো অনুষ্ঠানে তিনি থাকতে পারবেন না। কারণ তিনি জলবসন্তে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে বাড়িতেই থাকতে হবে। বিষয়টি একদমই বিশ্বাস করতে পারছেন বলেও জানান জোলি। কারণ ছবিটি তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার পরও সবকিছু মেনে নিয়েছেন তিনি।