Wednesday, July 1, 2026
ওজন কমাতে কোন ধরনের ডায়েটের পথে হাঁটবেন না by সৈয়দা শারমিন আক্তার
ওজনে কার কত ভূমিকা
শরীরের ওজনের সবচেয়ে বড় অংশই পানি। সাধারণত পুরুষের দেহের ওজনের ৫৫-৬৫ এবং নারীর ৪৫-৬০ শতাংশ পানি থাকে। যাঁরা মোটামুটি সচল জীবনযাপন করেন, তাঁদের পেশির ওজন ৩০-৪০ শতাংশ থাকে।
নারীদের দেহে চর্বির পরিমাণ ১৮-৩০ শতাংশ, সেই তুলনায় পুরুষের দেহে চর্বি কিছুটা কম, ১০-২০ শতাংশ। প্রত্যেক মানুষের দেহস্থ কঙ্কালের ওজন ১০-১৫ ভাগ। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ দেহের ওজনের ৭-৮ শতাংশ। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করা মস্তিষ্কটি দেহের মোট ওজনের ২ শতাংশ।
একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তির খাদ্যশক্তি শরীরে প্রধানত দুইভাবে খরচ হয়। দেহের সম্পূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল ও স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য শক্তি প্রয়োজন পড়ে আর জীবনযাপন ও অ্যাকটিভিটিজেও শক্তি খরচ হয়। মানে ক্যালরি গ্রহণ এবং খরচের ওপর নির্ভর করে ওজনের ভারসাম্য। কোনো কারণে এর ব্যত্যয় ঘটলেই ওজন বাড়তে থাকে।
একজন ব্যক্তির হঠাৎ করে ওজন বাড়ে না। ক্যালরি গ্রহণ অনুযায়ী কম শারীরিক কার্যকলাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। দেখা যায়, ইনসুলিনের প্রভাবে শক্তি সঞ্চয় হয়, ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে কোষে জমে চর্বি।
এতে চর্বির কোষ যেমন বড় হয়, পাশাপাশি সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। মানে বিপাক, হরমোন, মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি টিস্যুর জটিল ক্রিয়ায় ওজন বাড়ে। ওজন বৃদ্ধি তাই শুধু খাদ্যগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল না। যে কারণে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণেই যে ওজন কমবে, সেটা ঠিক না। ওজন কমাতে সম্পূর্ণ অবস্থা বুঝেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কোন ডায়েট এড়িয়ে চলবেন
সুস্থভাবে ওজন কমাতে কখনোই খুব কঠিন কিছু করার দরকার নেই। বিশেষ করে কিছু ডায়েট থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
আমার পরামর্শ—
* ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমাবেন না। সারা দিনে খুব কম খাদ্য গ্রহণে হয়তো দ্রুত ওজন কমে, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। পুষ্টির ঘাটতিতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরাসহ হতে পারে পেশি ক্ষয়। ক্র্যাশ ডায়েটের পর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলেই আবার দ্রুত ওজন বেড়ে যায়।
* একই ধরনের খাবারের মাধ্যমে ওজন কমানোর কথা চিন্তা করবেন না। একই গ্রুপের খাবার কখনো শরীরের সব রকম পুষ্টি সরবরাহ করে না। যেমন শুধু ফল, শুধু স্যুপ বা শুধু জুস খেয়ে ওজন কমাতে গেলে আপনার শরীরে বরং পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে।
* শরীর ডিটক্সিফিকেশনের জন্য কিছুদিন ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার মাধ্যমে ওজন কমানোর পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স খেলে শরীরে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। তবে শরীরের ওজনের ওপর ভিত্তি করে পানি পান করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০-৩৫ মিলিলিটার পানি পান করুন।
* খাদ্যের ৬টি উপাদান রয়েছে। প্রতিটিরই শরীরে ভিন্ন ভিন্ন কাজ আছে। ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া কার্বোহাইড্রেট, ফল অথবা দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সে জন্য এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরিহার করুন।
* অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনে ফাইবার খুবই কম থাকে। প্রাণিজ প্রোটিন অতিরিক্ত খেলে এবং শাকসবজি, ফল ও ফাইবারযুক্ত খাবার না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
* স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেড়ে গিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে, কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অন্ত্রেও মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে।
মূলত ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের সামঞ্জস্য। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা খাবার বা রান্না ছাড়া খাবার প্রাধান্য দেওয়া ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনধারণের জন্য নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, সঠিক মেটাবলিজম এবং চাপ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি।
* লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ, ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার, বাংলামোটর, ঢাকা
| একই ধরনের খাবার খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়। মডেল: ললনা। ছবি: কবির হোসেন |
Tuesday, December 22, 2015
সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা টিউলিপের
সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের ভয় দেখায় আমরা ক্ষমতায় গেলে কারও চাকরি থাকবে না। কিন্তু পুলিশের সবাই খারাপ নয়। প্রশাসনের লোকজনও সবাই খারাপ নন। আমরা জানি, তারা কোন দোষ করেনি। দোষ করেছেন শেখ হাসিনা। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকেই আমাদের জানায়, তারা অসহায়। উপরের নির্দেশ পালনে তারা বাধ্য হচ্ছেন। অন্যথা হলে তাদের চাকরি থাকবে না, মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যায়ভাবে কারও চাকরি যাবে না। দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতা এবং দক্ষতাই হবে চাকরি ও পদোন্নতির সোপান। আমরা দেশে গণতন্ত্রের ধারা ফিরিয়ে আনব। সুশাসন ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনবো। সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, দেশটা আজ কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। পরিণত করা হয়েছে লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে। পদ্মা সেতু তৈরি করা হবে। একটি দুই দুইটি পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেনের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা উল্লেখ করে সে সময়কার ক্ষমতা দখলকারীদের নানা নির্যাতনেরও সমালোচনা করেন। এর আগে বিকাল সোয়া ৫টায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে মুক্তিযোদ্ধারা অভ্যর্থনা জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে মেডেল ও ক্রেস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশসহ বিএনপির শীর্ষ নেতা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন।
রানা প্লাজা মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষ্য শেষ
কোর্ট রিপোর্টার: গণজাগরণ মঞ্চের ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার শেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর নিবারণ চন্দ্র বর্মণের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার-৩-এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদের আদালতে গতকাল এ মামলায় সাক্ষীর জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাক্ষীকে জেরা করেন। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৫ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আদালত আগামী ২২শে ডিসেম্বর এ মামলায় আসামিদের ফৌজদারি কার্য বিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার (আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ) পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর ১০তম দিনে ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়।
‘সুযোগ দিলে সেরাটা দেবো’
‘আমরা কেউ তাকে ভোট দেই নি’
এদিকে, যার মাথায় মুকুট পরিয়ে আয়োজকরা তালগোল পাকিয়েছেন, সেই আরিয়াদনার মনোবলে এতোটুকু চিড় ধরেনি। ওই ঘটনার কিছু সময় পর তিনি বলেছেন, ‘তিনি বিরক্ত নন। মঞ্চ থেকে নামার পর চোখের পানি মুছে নিয়ে তিনি বলেছেন, সবকিছুর পেছনে কোন কারণ থাকে। কাজেই আমি খুশি। আমাকে ভোট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ আর এবছরের মিস ইউনিভার্স পিয়া স্বীকার করেছেন, আবারে মুকুট পরানোর মুহুর্তটা ছিল অত্যন্ত নন-ট্রাডিশনাল।’
স্টার সিনেপ্লেক্সে নতুন ‘স্টার ওয়ারস’
সাগর জাহানের অন্যরকম জন্মদিন
মাড়ির সমস্যা ঝুঁকি বাড়ায় ব্রেস্ট ক্যানসারের
নিউ ইয়র্কের বাফেলো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জো ফ্রুডেনহেম জানান, মেনোপজের পর যে মহিলারা মাড়ির সমস্যায় ভোগেন তাঁরা স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, এমনকী ব্রেস্ট ক্যানসারেও আক্রান্ত হতে পারেন।
মোট ৭৩,৭৩৭ জন মহিলার ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। এঁদের প্রত্যেকেরই মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। এঁদেরে মধ্যে ২৬.১ শতাংশ মহিলা মাড়ির অসুখে আক্রান্ত। এঁদের ওপর টানা ছয় বছর সাত মাস গবেষণা চালানোর পর দেখা গিয়েছে ২,১২৪ জন মহিলা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষণায় উঠে এসেছে মেনোপজের পর মাড়ির সমস্যা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
ক্যানসার এপিডেমিলজি, বায়োমেকারস অ্যান্ড প্রিভেনশন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণার ফল।
নির্বাচন কমিশন যেখানে অসহায়
নানান কিসিমের ভোট দেখা গেছে এ ভূমে। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো বৈচিত্র্যময় ভোট খুব বেশি দেশে হয়নি। দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশেই স্থানীয় নির্বাচন দলভিত্তিক হয়। হানাহানির অতীতের কারণে আমরা এই ব্যবস্থা থেকে দূরে ছিলাম। তবে সর্বত্র ‘গণতান্ত্রিক’ রীতি চালুতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ এবার স্থানীয় নির্বাচনও করছে দলীয়ভিত্তিতে। সেখানেও অবশ্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেয়র পদে নির্বাচন হবে দলীয়, আর কমিশনার পদে হবে নির্দলীয়। কাদের সুবিধার জন্য তা করা হয়েছে সে ব্যাপারে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
স্থানীয় এ নির্বাচন দেশে অবশ্য এক ধরনের আশার পরিবেশও তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের জনগণ নৌকা এবং ধানের শীষের মধ্যে প্রতীক বাছাইয়ের সুযোগ পাবে। যদিও আদৌ সে সুযোগ তারা পাবেন কি-না তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আলামত অবশ্য ভালো নয়। প্রতিদিনই সংঘর্ষ, হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই/একটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার নজির এখনও দেখা যায়নি। হোন্ডা-গুণ্ডার নির্বাচন দেখতে হয় কি-না তা নিয়ে এরইমধ্যে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। একটি উপজেলায় এমনও অভিযোগ এসেছে, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন দিয়ে এসেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট কয়টায় শেষ হবে সে নিয়ে আলোচনা এখনই শুরু হয়ে গেছে।
কোনো কোনো পর্যবেক্ষক, স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে না পারাকে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি না হওয়াতে বারবার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। রাজপথে রক্ত ঝরেছে। ব্যর্থতার দায়ভার মানুষ বহন করেছে জীবনের বিনিময়ে। পবিত্র সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ঘোষণা করছে। তবে তা যে কেবল কাগুজে ঘোষণাই তা বারবার প্রমাণ হয়েছে। যদিও কখনও কখনও নির্বাচন কমিশনারদের আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড সোজা রয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড শক্ত কি-না সে পরীক্ষা ভোটের মাঠে কয়েকবারই হয়েছে। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ইতিহাসে তাদের স্থান নির্ধারিতই হয়ে গেছে। কেউ চাইলেও তা আর পরিবর্তন করতে পারবেন না। এবং ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনেও যে তার কোন ব্যতিক্রম হবে না তা এখন হলফ করেই বলা যায়।
৩ এমপিকে দায়মুক্তি, ৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি ভেঙে দুঃখ প্রকাশ করা ক্ষমতাসীন সরকারের তিন এমপির অপরাধ মার্জনা করে দায়মুক্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমপিরা হলেন- ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, নাটোর-২ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল ও বরগুনা-২ আসনের শওকত হাচানুর রহমান রিমন। এর আগে তথ্য ও ধর্মমন্ত্রীকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। অন্যদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ও হুইপসহ পাঁচ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের কাছে সোমবার পাঠিয়েছে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সরকারের তিনজন এমপি পৌর নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছিল। এ অপরাধে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায়। ইসির চিঠির জবাবে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই কমিশন বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় ওই অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আলোকে গতকাল তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, সম্প্রতি ক্ষমতাসীন সরকারের তিন এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। এই অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তাদের শোকজ করে চিঠি পাঠায়। তারা শোকজের জবাব দিয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন। পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে কমিশন তাদের জবাব পর্যালোচনা করে রোববার দায়মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া আগামীতে যাতে আচরণবিধি মেনে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। আর গতকাল চিঠি দিয়ে তাদেরকে দায়মুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তদন্ত করে মন্ত্রীরা আচরণবিধি ভেঙেছেন তার কোনো সত্যতা ও প্রমাণ পাননি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বিষয়টি কমিশনকে লিখিত জানালে দুই মন্ত্রীকেও অব্যাহতি দেয় ইসি।
অন্যদিকে পৌর নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ও হুইপসহ পাঁচ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রকিবউদ্দীন মণ্ডল স্বাক্ষরিত এসব চিঠি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। এর আগে ১২ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, বর্তমানে যে আইন রয়েছে এতে বিচারিক ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেয়া আছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাহী এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘অন দ্য স্পট’ ব্যবস্থা নেবেন। আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে আমরা সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইসির কর্মকর্তারা জানান, যেসব এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি মোহাম্মদ নাসিম (স্বাস্থ্যমন্ত্রী), শেরপুর সদরের আতিউর রহমান আতিক (জাতীয় সংসদের হুইপ), রাজশাহী বাগমারার এমপি এনামুল হক, ময়মনসিংহ নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান ও ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী। সবাই সরকারি দল সমর্থিত বলে জানা গেছে। এর আগে ১২ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দেয় ইসি। এরা হলেন- হবিগঞ্জের অ্যাডভোকেট আবু জাহির, শরীয়তপুরের নাহিম রাজ্জাক, নাটোরের অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, জয়পুরহাটের আল মাহমুদ স্বপন, কিশোরগঞ্জের অ্যাডভোকেট সোহরাবউদ্দিন আহমেদ ও আফজাল হোসেন, ফরিদপুরের মো. আবদুর রহমান, রাজশাহীর আব্বাস আলী এবং সিরাজগঞ্জের হাসিবুর রহমান স্বপন। পৌর নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়রগণ নির্বাচনী প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডেদণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে। র্স্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও আছে ইসির।
ওদিকে, ফেনী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে মনিটরিং কমিটি। ঈশ্বরদী পৌরসভার আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে ইসির মনিটরিং কমিটি। ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজয় র্যালির নামে গত বুধবার বিকালে নির্বাচনী শোডাউন করেছেন। র্যালিটি শহরের আলহাজ মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। যার নেতৃত্ব দেন মেয়রপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
ময়মনসিং-৯ আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বুধবার বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচিত করলে নান্দাইলের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র হবেন একই দলের। এতে নান্দাইল পৌরসভাসহ গোটা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে। ওই সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় এক এমপি ও দুই মেয়রপ্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মনিটরিং কমিটি সুপরিশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজয় দিবসে ভোরে সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসেন রংপুর-২ আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক ডিউক। এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী ও জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী লাতিফুল খাবির পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্য দেয়ার সময় এমপি ডিউক দলীয় প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোটারদের সমর্থন চান। এরপর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর পক্ষে ভোট চান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শাহান। জাপার প্রার্থী লাতিফুল খাবিরও ফুল দিয়ে যাওয়ার সময় নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
১৫ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি
১৫টি পৌরসভায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং কমিটি। পৌরসভাগুলো হচ্ছে- ফেনী, দাগনভূইয়া, পরশুরাম, ঈশ্বরদী, নান্দাইল, বদরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জ, খোকসা, মুক্তাগাছা, কলাপাড়া, বড়াইগ্রাম, তাহেরপুর, শেরপুর ও বরগুনা। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম প্রার্থীদের অভিযোগ ও ইসির মনিটরিং কমিটির প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের এসব চিঠি পাঠান।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ
নরসিংদী পৌরসভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কৌশিক কায়কোবাদ কেনি। নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ই ডিসেম্বর বেলা সাড়ে তিনটা থেকে রাত অবধি বিভিন্ন সাংগঠনিক সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণা, দিকনির্দেশনা ও হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বক্তব্যে বলেছেন, ‘২০শে ডিসেম্বরের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম কাইয়ুমের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যাবে না’। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন।
এসপিসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে শোকজ
বরগুনা পৌরসভায় দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপারসহ ৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব অবহেলার জন্য কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সোমবার ইসির উপসচিব সামসুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বরগুনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সাহাদাত হোসেনের উঠোন বৈঠকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ যুবলীগের জেলা সভাপতিও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুই প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে বলে জানান ইসির এ উপসচিব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিল-শোডাউনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এরপর সংঘর্ষের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি বলে রিটার্নিং অফিসার, এসপি, ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন প্রার্থী সাহাদাত। ইসির উপসচিব সামসুল আলম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তিন দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক), এসপি, ওসি, দুই প্রার্থী সাহাদাত হোসেন ও কামরুল আহসানকে আলাদা আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষ, হামলা, গুলি সড়ক অবরোধ, আগুন
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সাভার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদিরের বাড়িতে গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা, ভাঙচুর ও গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ছোট ভাইসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হাজী আবদুল গণির বড় ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হাসান তুহিন। এদিকে ঘটনার পর পর বদিরের বাড়িতে র্যাব ও পুলিশ উপস্থিত হয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি বলেন, নাশকতার তিনটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে সাভার পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাংক কলোনি এলাকায় প্রচারণা শুরু করি। গতকাল বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ব্যাংক কলোনি মহল্লার নিজের বাসায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় চলছিল। তখন হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর লোকজন অতর্কিতে হামলা করে। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চেয়ার টেবিল, বাড়ি ঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে ইট-পাটকেল ছুড়ে। হামলায় তার ছোট ভাই মাসুদ, কর্মী আফজাল, সোহেল, হোসেনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তবে তাদের কোথায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তা তিনি বলতে পারেননি। তিনি আরও জানান, হামলার বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। বদি আরও জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী হাজী আবদুল গণির ছেলে ফারুক হাসান তুহিনকে চিনতে পেরেছেন। তবে হামলাকারী অন্য কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ বলেন, বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। এদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদিরের বাড়িতে হামলা ও গুলির ঘটনার অভিযোগ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা হামলা চালাইনি। আমাদের লোকজন ক্যানভাস করতে করতে ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির প্রার্থী বদিরের বহিরাগত লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে ছাত্রলীগের পৌর শাখার সভাপতি অভিসহ ৫-৬ জন আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গুলি ছুড়ার বিষয়ে তুহিন বলেন, গুলিও বিএনপির প্রার্থীর বহিরাগত লোকজনই ছুড়েছে।
চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর, আগুন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মো. হোসাইন, কনস্টেবল মনির হোসেনসহ উভয় প্রার্থীর অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের সমর্থকরা বিকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মিছিল বের করে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থনে আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চু কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে চৌদ্দগ্রাম বাজারে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলির শব্দে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় উপজেলা সদরের পুরাতন ইউপি ভবনের সামনে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও রাস্তায় থাকা একটিসহ ৩ মাইক্রোবাস ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ফাঁকা গুলি ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়াও বাজারে ব্যবসায়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন পাটোয়ারীর পাইকারি মুদি মালের দোকানসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও ফুটপাটের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মো. হোসাইন, কনস্টেবল মনির, দোকানের কর্মচারী জাফর, শিপন, আবদুল্লাহসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন ও নতুন দুটি সড়ককেই প্রায় ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শত যানবাহন আটকা পড়ে। সন্ধ্যা ৬টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে অর্ধশতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর দুই মেয়র প্রার্থীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক শরীয়তপুর পৌরসভা মেয়র নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাসভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে হামলাকারীরা। এ নিয়ে শরীয়তপুর শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পালং থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের পক্ষে শরীয়তপুর ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গতআল দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রসু্ততি সভা চলছিল। এ সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইকবাল হোসেন অপুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপ এক সঙ্গে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের করে। মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন একাংশের নেতা কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু এবং অপর অংশের নেতা সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ও শরীতপুর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি নুরুল আমিন কোতোয়াল। মিছিলটির শেষ মুহূর্তে পিছন দিক থেকে উভয় গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার সামনে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে। দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাড়িতে হামলা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপে তার বাড়ির দরজা জানালা ভেঙ্গে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপে ইলিয়াছ, প্রকাশ, দ্বীন ইসলাম, সুজন পাহাড়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালে স্ত্রী ও পুত্রবধূসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। এ ব্যাপারে পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম মজলিস খান বলেন, এ ঘটনায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। পালং মডেল থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ীতে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে পৌর এলাকার আরামনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুহুল আমীন সেলিম (মোবাইল প্রতীক) এর কর্মীরা আরামনগর বাজার এলাকায় ভোট চাইতে গেলে বিনএপি মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল কবির তালুকদার শাহীন (ধানের শীষ প্রতীক) এর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শহিদুল্লাহ, শফিকুল, তাজিন, আমিনুল, পলাশ ও আপেলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ সংবাদ পেয়ে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা আরামনগর বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমের পক্ষে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে সরিষবাড়ী থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহী নয় সরকার দলীয় মদতপুষ্ট প্রার্থী রুহুল আমীনসহ সরকার দলীয়রা এক হয়ে কাজ করছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের বিজয় কখনোই ঠেকাতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর উঠান বৈঠকে ককটেল হামলা
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র পদ প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মানিক এর উঠান বৈঠকে দুর্বৃত্তরা ককটেল হামলা করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয় নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। রোববার রাত সাড়ে নয়টায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরামপুর এলাকায় কুয়েতি মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাত্রেই বিএনপির ১৪ জন নেতা কর্মীর নাম উল্লেখ করে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে মাধবদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ। এদিকে ককটেল হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদ প্রার্থী মানিক। সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. ইলিয়াছ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিরামপুর এলাকায় উঠান বৈঠক করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। বৈঠক চলাকালে রাত সাড়ে নয়টায় পাশে কে বা কারা দুটি ককলেট নিক্ষেপ করে। কিন্তু ককটেল দুটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবিস্ফোরিত ককটেল দুটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
এদিকে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীদের প্রচার, সভা ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্যও গণমাধ্যমে দেয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল কুমিল্লার চান্দিনায় দলের মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সভায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির প্রার্থী খলিলুর রহমানের গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। এতে আহত হন ৫ জন। ওইদিন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসির উদ্দিনের গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার দলের নেতাকর্মী সমর্থকরা। এ সময় তারা লাঠিসোঠা নিয়ে বিএনপি সমর্থকদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ ঘটনায় ৭০ জন আহত হয়েছে। নাসিরের গাড়ি বহরের ৭টি গাড়ি ভাঙচুর ও প্রার্থীকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় মেয়র প্রার্থী নাসির উদ্দিন ওই এলাকা ত্যাগ করেন। একইদিন কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী আবদুল আজিজ খানের গণসংযোগে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে আহত হয়েছেন ৭ জন। এ ছাড়া ভোলা পৌরসভা বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুন-অর-রশিদের লিফলেট বিতরণের সময় তার কর্মীদের মারধর করে সরকার সমর্থকরা। একইদিন পাবনায় বিএনপি নেতা মির্জা মকবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গণসংযোগকালে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মীরা ঐশ্বর্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে। এদিকে শনিবার ঝিনাইদহে যুবদল কর্মী মিন্টু মণ্ডলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানা বেগম শানুর ছেলে রায়হান ইসলামকে (২৫) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন মা শানুও। একই দিন ঠাকুরগাঁয়ে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেনের পোস্টার লাগানোর সময় বাধা দিয়েছে সরকার দলের সমর্থকরা। শনিবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী লুৎফুল হাছানের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এতে আহত হন অন্তত ৫ জন। রাজশাহীর বাঘার আড়ানীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তোজাম্মেল হকের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুক্তার আলীর কর্মী-সমর্থকেরা। এতে আহত হয়েছেন ৫ জন। গত শনিবার যশোরের চৌগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজুল ইসলামের মা রাবেয়া খাতুনকে (৬৫) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ই ডিসেম্বর ভোলার বোহারনউদ্দিন পৌরসভায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মনিরুজ্জামানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মেয়রপ্রার্থীর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকীসহ পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আজাদ উদ্দিনকে গণসংযোগকালে ধাওয়া দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একই দিনে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা ও তার সমর্থকদের হত্যার হুমকি দিয়েছে সরকার সমর্থকরা। গত বুধবার নোয়াখালীর চাটখিলে কাউন্সিলর প্রার্থী জামালউদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা এতে আহত হয়েছেন ৬ জন। ১২ই ডিসেম্বর নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বিএনপির প্রার্থী জহিরউদ্দিনের নির্বাচনী বৈঠকে হামলা ও গুলি বর্ষণ চালিয়েছে সরকার দলের সমর্থকরা। এতে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত ১৬ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দীন খান বিরোধী নেতাকর্মীদের হুমকি দেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর পর থেকে কোনো ওয়ার্ডে যদি কোনো বিএনপি, কোনো জামায়াত, কোনো ধানের শীষের লোক ভোট চায়, তাহলে অবশ্যই সেই ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দকে জবাবদিহি করতে হবে। কেন জামায়াত-শিবিরের লোক সেই ওয়ার্ডে ভোট চাবে।’ গত ১৫ই ডিসেম্বর বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান মোল্লার গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নারী কর্মীদের হুমকি দেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত রোববার রাজশাহীর তাহেরপুরে বিএনপির প্রার্থী আবু নঈম শামসুর রহমানকে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। জেলার কাঁটাখালী বিএনপি নির্বাচনী কমিটির সদস্য সচিব এজেন্ট মনিরুজ্জামান দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের মিরেরসরাই ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। রারৈয়ারহাটে বিএনপি প্রার্থী মঈনউদ্দিন লিটনের ছোট ভাই গণসংযোগকালে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী তার ওপর হামলা করে মাথা মারাত্মকভাবে জখম করেছে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানা বিএনপির সভাপতি কায়সার মাহমুদ রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু ও শৈলকুপায় সরকারি দলের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রমণ ও লুটতরাজ চালাচ্ছে। ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। জয়পুরহাট সদরে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে পুলিশ হুমকি দিচ্ছে এবং নির্বাচনী পোস্টার তুলে ফেলছে। চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুল আমিনকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। তার মাইক কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটায় ধানের শীষের প্রার্থী মল্লিক মো. আইয়ুবকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে।
গত ১৬ই ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাজি মোমতাজের সমর্থক ও ভোটারদেরকে যৌথবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। রাজশাহী বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী শামসুর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী প্রচারণায় মারাত্মকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে বিএনপি প্রার্থী মিন্টুকে ভোট না দেয়ার জন্য ব্যাপক হুমকি দেয়া হয়েছে।
ব্লাটার-প্লাতিনি নিষিদ্ধ ৮ বছর
তাদের নিষেধাজ্ঞায় ফিফার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হওয়ার তালিকায় রইলেন বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইবরাহিম আল খেলাইফি, দক্ষিণ আফ্রিকার টোকিও সেক্সওয়াল, জর্ডানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসাইন, ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত সুইস নাগরিক জিয়ানি ইনফান্তিনো ও ফ্রান্সের জেরোম শ্যাম্পেইন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয় ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার ও সহ-সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে। গত অক্টোবরে এ শীর্ষ দুই ফুটবল কর্তাকে বরখাস্ত করে ফিফার এথিকস কমিটি। এ সময় ব্লাটার-প্লাতিনির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন সুইজারল্যান্ডের এটর্নি জেনারেল মাইকেল লাউবার।
সংখ্যালঘুরা রাজনীতির ‘দাবার ঘুঁটি’
রানা দাসগুপ্ত বলেন, সম্প্রতি দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, রাসমেলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একেকটি ঘটনা ঘটে আর বলা হয় এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আবার এখন বলছে এগুলো জেএমবির কাজ। এতে প্রমাণিত হয় এসব ঘটনা ঘটার আগের এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল না। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের সবার স্বার্থেই এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি বলেন, দেশে আইএস আছে কি নেই, এ বিতর্ক অর্থহীন। তবে, আমি মনে করি বাংলাদেশে আইএস না থাকলেও আইএস ও আল-কায়েদা প্রভাবিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। তারা এখনও সক্রিয় রয়েছে।
রানা দাস গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সীমাহীন আত্মত্যাগ করেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সে সময় দেশে যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার প্রায় সব গণহত্যার ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধে এত ত্যাগ স্বীকার করার পরেও স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হিসেবে তারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়েও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পরে দেশের ধর্মীয় জাতিগত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সীমাহীন বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিপীড়নের স্বীকার হয়ে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রায় তিন দশক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ক্ষমতায় থেকেছে। জিয়াউর রহমান জামায়াতসহ প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। তখন থেকেই তথাকথিত ভারত বিরোধিতার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন রীতিমতো নিয়মিতভাবেই হয়ে আসছে। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ নিয়ে সৃষ্ট দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতেও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিপীড়ন করাসহ তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুরা চরম নির্যাতনের মুখে পড়েন। এমনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দেয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ অত্যাচার, নির্যাতনের ধারা অব্যাহত থেকেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ ধারা অব্যাহত আছে।
বিদ্যমান রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৪৭-এ দেশ ভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘুর হার ছিল ২৯.৭ ভাগ। একাত্তরের প্রাক্কালে এ হার ছিল শতকরা ২০ ভাগের বেশি। বাংলাদেশ পপুলেশন স্ট্যাটিস্টিক্যালি ব্যুরোর হিসাবে নিঃসরণ হতে হতে বর্তমানের এ সময়ে তা ৯.৭ ভাগে নেমে এসেছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর হার ৯৮.৬ থেকে বর্তমানে তা ৪৮ ভাগে নেমে এসেছে। অর্থাৎ নিজ ভূমিতেও তারা সংখ্যাগুরু থেকে সংখ্যালঘুতে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে ‘দেশত্যাগ’ বিষয়টি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হচ্ছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ, অধিকার, নিরাপত্তা সর্বোপরি অস্তিত্ব নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করছে এ অঞ্চলের শান্তি, অগ্রগতি, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা। তাই সংখ্যালঘু নিঃসরণের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের সংস্কৃতি যদি হারিয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কোন বাংলাদেশের চিত্র দেখবো? এ বাংলাদেশ হবে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের হারিয়ে যাওয়া মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল রাজনীতির চেতনা হারিয়ে যাওয়া। শুধু সরকার নয়, সবাইকে এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ঐক্য পরিষদের এ নেতা বলেন, মুখে বললেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে মনে অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শিক চেতনা ধারণ করেন না। এসব ধারণ করার নামে তাদের অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ সব ধর্ম বর্ণের মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছু আওয়ামী লীগার আছে যারা মনে করেন, হিন্দুরা দেশে থাকলে ভোটটা আমার। আর চলে গেলে জমিটা আমার। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত মনে করে হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করলে ধর্মও বাঁচবে, দেশও বাঁচবে। তারা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চায়। তাদের মূল লক্ষ্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া। এই হলো রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি। তবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কোনো কমতি নেই। তিনি নিজেও সুবিধাবাদীদের ‘পরগাছা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমার মতে, সরকারি দলের যেসব নেতা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জায়গা, জমি দখল করেছেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান দৃশ্যমান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ওলামা লীগ নামের একটি সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে নিজেদের দাবি করে। কিন্তু একজন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে তারা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতও কোনো মন্তব্য করেনি। তাহলে এরা কারা? মূলত এরাই আগাছা। সরকারের নাম ভাঙিয়ে এরা সরকারেরই বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয় এরা খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মা। তাই এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রানা দাসগুপ্ত। ১৯৬২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়াসহ বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৮৬ সালে আইন পেশায় নিযুক্ত হন রানা দাসগুপ্ত। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা উন্মুক্ত
আলোচনায় তেল
ইনডেক্স মুন্ডির তথ্যে দেখা গেছে, গত জুন থেকে প্রতি মাসেই ভোজ্য তেলের দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে জুন মাসে প্রতি টন সয়াবিন তেলের মূল্য ছিল ৭৩৮ ডলার ৪ সেন্ট বা ৫৭ হাজার ৫৬৭ টাকা (১ ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)। জুলাইয়ে তা নেমে দাঁড়ায় ৬৯৫ ডলার ৭৯ সেন্ট বা ৫৪ হাজার ২৭১ টাকা। আগস্টে প্রতি টনের মূল্য হয় ৬২৮ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৪৯ হাজার ৪২ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে মূল্য দাঁড়ায় ৫৯০ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৪৬ হাজার ৩৯ টাকা।
একইভাবে গত জুনে বিশ্ববাজারে প্রতিটন পামঅয়েলের মূল্য ছিল ৬০৬ ডলার ৪০ সেন্ট বা ৪৭ হাজার ২৯৯ টাকা। জুলাইয়ে মূল্য কমে হয় প্রতি টন ৫৭৫ ডলার ৬৮ সেন্ট বা ৪৪ হাজার ৯০৩ টাকা। আগস্টে দাম হয় ৪৮৪ ডলার ৬৮ সেন্ট বা ৩৭ হাজার ৮০৫ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে মূল্য কমে হয় ৪৮৩ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ৩৭ হাজার ৭১২ টাকা।
আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজার থেকে যে মূল্যে সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় তার সঙ্গে ভ্যাট, বন্দর খরচ ও রিফাইন খরচসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হবে। সে হিসেবে আমদানি মূল্যের সঙ্গে প্রতি কেজিতে যুক্ত হবে আরও ৪ থেকে ৫ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের আমদানিমূল্য ৪৬ টাকা পড়ে এর সঙ্গে ৫ টাকা যোগ করা হলে প্রতি কেজির মূল্য পড়ে ৫১ টাকা। আর প্রতি কেজি পামঅয়েলের মূল্য পড়ে ৪২ টাকা। কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ ও পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আর সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে, বাজারে এখন প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ১০০ ও পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। কিন্তু টিসিবির মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য আরও বেশিই থাকে। ট্যারিফ কমিশনের হিসাব মতে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ পামঅয়েল ও ৩২ শতাংশ সয়াবিন তেল। বাকি ৩ শতাংশ সরিষাসহ অন্যান্য তেল ব্যবহার করা হয়। ২০১৪ সালে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টন পাম ও ৬ লাখ ২৭ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়। কিন্তু এখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি। পামঅয়েল বেশি আমদানি করা হলেও বাজারে ৮০ শতাংশই সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করা হয়।
দেশের বাজারে মূল্য না কমিয়ে দ্বিগুণ লাভ করার বিষয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কয়েকজন আমদানিকারক দেশে আমদানি ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। কারণ আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগী থাকলে এমন হতো না। বেশ কিছু পণ্যের দাম সারা বছর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আগের বছরের তুলনায় বর্তমানে পণ্যবাজার স্থিতিশীল বলে মনে করেন তিনি।
ভোগ্যপণ্যের মূল্য তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১১ সালে ট্যারিফ কমিশন ভোজ্য তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। চার বছর আগে যেহেতু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেহেতু এখন নতুন করে আবার মূল্য পুনর্নির্ধারণের সময় এসেছে। তা ছাড়া বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমলে এর সুফল অবশ্যই দেশের ভোক্তার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
এ ছাড়া দেশি মসুর ডাল জানুয়ারিতে ছিল প্রতি কেজি ১০০ টাকা। ৫ দফায় দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা। বিক্রেতা বোরহান উদ্দিন বলেন, মসুর ডালে বস্তায় বেড়েছে প্রায় ৬০০ টাকা। আর চিনির বস্তায় বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। চালের দাম বেড়েছে ৩ দফায়। হরতাল-অবরোধের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক আসতে পারেনি, সিন্ডিকেট ও পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় চালের দাম বাড়তে থাকে। পাইকারি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, পাটের বস্তা একদিকে সংকট অন্যদিকে দাম বেশি। প্লাস্টিকের একটা বস্তা কেনা যায় ২০ টাকায়। কিন্তু পাটের বস্তা ক্রয়ে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এসব বাড়তি দাম চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থির ছিল না। দফায় দফায় পণ্যের দাম বেড়েছে। বছরের প্রথম তিন মাস হরতাল-অবরোধে ছিল নাকাল। প্রায় ৯০ দিন সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকা ছিল বিচ্ছিন্ন। এতে দুই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। একদিকে রাজধানীতে পণ্য অতিমূল্যায়িত হয়। অন্যদিকে গ্রামে টনে টনে পণ্য পচে যায়। ঢাকায় পণ্য পাঠাতে পারেননি বলে অর্থনৈতিকভাবে চরম লোকসানে পড়েন কৃষকরা। কিছুদিন পুলিশি পাহারায় পণ্যবাহী ট্রাক এলেও তা ছিল চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং শেষ পর্যন্ত থেমে যায়। ফলে বেশির ভাগ পণ্য খেতেই নষ্ট হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর ভোক্তারা চড়া দামে পণ্য কিনে খেতে হয়। গ্রামের কৃষক পণ্যের দাম পায়নি। অথচ ঢাকার ভোক্তারা পণ্যের অতি দামে বিরক্ত। এভাবে উভয় পক্ষ ঠকেছে।
গৃহকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৬ সপ্তাহ, শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিরোধীরা ৭০ ভাগ ভোট পাবেন
‘সুযোগ দিলে সেরাটা দেবো’
লাহোরের হয়ে ক্রিস গেইলের দলে খেলবেন মুস্তাফিজুর রহমান। দেশের বাইরে বড় টুর্নামেন্ট খেলাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন তিনি। মুস্তাফিজ বলেন, ‘এটি আমার দেশের বাইরে বড় কোনো টুর্নামেন্ট হবে। তাই চ্যালেঞ্জতো অবশ্যই। আর এটিও সত্যি যে আমার জন্য যে কোনো ম্যাচেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ থাকে।’ বিপিএলে যতটা আশা করা হয়েছিল তার কাছে ততোটা করে দেখাতে পারেননি তিনি। তবে খুব যে খারাপ করেছে তাও নয়। বিপিএলে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও পাকিস্তানের সিপিএলে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে প্রস্তুত মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘যদি তারা আমাকে খেলার সেভাবে সুযোগ দেয় তাহলে আমি চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেয়ার।’
এই পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। পেয়েছেন ৬টি উইকেটও। এর মধ্যে সেরা শিকার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ রান খরচ করে দুটি উইকেট। এ ছাড়াও পাকিস্তানের বিপক্ষেও অভিষেক ম্যাচে ২০ রানে নিয়েছিলেন ২টি উইকেট। বল হাতে মুস্তাফিজের ভয়ঙ্কর অস্ত্র কাটার। মুস্তাফিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির শিকার ছিল পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও দ্বিতীয় শিকার হয়েছিলেন পাকিস্তানের আরেক তারকা ক্রিকেটার মো. হাফিজ।
পিসিএলে সাকিব খেলবেন করাচি কিংসে। তামিম খেলবেন শহীদ আফ্রিদির পেশওয়ারে। এ ছাড়াও এই দেশের আরও ৭ ক্রিকেটার আছেন পিসিএলের তালিকাতে।
সাকিবে আলাদা নজর
ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
প্লাটিনাম: শেন ওয়াটসন (প্রথম বাছাই, অস্ট্রেলিয়া), আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মিসবাহ উল হক
ডায়মন্ড: স্যামুয়েল বদ্রি (ও ইন্ডিজ), মোহাম্মদ ইরফান, ব্র্যাড হ্যাডিন (অস্ট্রেলিয়া)
গোল্ড: শারজিল খান, মোহাম্মদ সামি, খালিদ লতিফ
হেড কোচ: ডিন জেন্স
করাচি কিংস
প্লাটিনাম: শোয়েব মালিক (প্রথম বাছাই), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), সোহেল তানভীর
ডায়মন্ড: ইমাদ ওয়াসিম, রবি বোপারা (ইংল্যান্ড), লেন্ডল সিমন্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
গোল্ড: মোহাম্মদ আমির, বিলাওয়াল ভাট্টি, জেমস ভিন্স (ইংল্যান্ড)
হেড কোচ: মিকি আর্থার
লাহোর কালান্দারস
প্লাটিনাম: ক্রিস গেইল (প্রথম বাছাই), ডোয়াইন ব্রাভো (ও ইন্ডিজ), উমর আকমল
ডায়মন্ড: মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইয়াসির শাহ, শোয়াইব মাকসুদ
গোল্ড: মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ), কেভন কুপার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ক্যামেরন ডেলপোর্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা)
হেড কোচ: প্যাডি উপটন
কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স
প্লাটিনাম: কেভিন পিটারসেন (প্রথম বাছাই, ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ, আহমেদ শেহজাদ
ডায়মন্ড: আনোয়ার আলী, জেসন হোল্্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), লুক রাইট (ইংল্যান্ড)
গোল্ড: জুলফিকার বাবর, উমর গুল, এল্টন চিগুম্বুরা (জিম্বাবুয়ে)
হেড কোচ: মঈন খান
পেশোয়ার জালমি
প্লাটিনাম: শহিদ আফ্রিদি (প্রথম বাছাই), ওয়াহাব রিয়াজ, ড্যারেন স্যামি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
ডায়মন্ড: কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, ক্রিস জর্ডান (ইংল্যান্ড)।
গোল্ড: তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), জিম অ্যালানবি (অস্ট্রেলিয়া), জুনাইদ খান
হেড কোচ: মোহাম্মদ আকরাম
সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার
খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারতো
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে, খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন। সে কারণেই হয়তো তাঁকে তখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অবশেষে সেপ্টেম্বর ৩, ২০০৭ সালে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর সেনানিবাসের বাসা থেকে দ্বিতীয় পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ গ্রেপ্তার করে সিএমএম কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আদালত থেকে কোকোকে রিমান্ডে এবং বেগম জিয়াকে সংসদ ভবন চত্বরে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের সময়ে পার্টির তরফ থেকে তেমন কোনো সোচ্চার প্রতিবাদ চোখে পড়েনি অথবা মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়নি। সম্ভবত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে না পেরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারতো। আমার মনে হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার দেশে থাকার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার জন্য আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে হয়তো শেখ হাসিনার দেশে থাকা সম্ভব হতো না।
সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা টিউলিপের
‘সরকারের উন্নয়নের প্রচার সুশীল সমাজের দায়িত্ব নয়’
বিতর্কিত। সুশীল সমাজের কাজ হলো সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করা নয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ব্র্যাক কমিউনিটি এমপওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যৌথভাবে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয়করণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতির বক্তব্যে আকবর আলি খান বলেন, এমডিজি বাস্তবায়ন সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে তার বিপরীতটাও সত্য। আমরা অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পেরেছি সত্য। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু এখনও বাকি রয়ে গেছে। এমডিজির উন্নত রূপ এসডিজি বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনায় স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু বিপত্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আকবর আলি খান বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে সঠিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে হবে। বাস্তবে আমাদের দেশে কোনো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নেই। কারণ, স্থানীয় সরকার কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবাধীন হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে তো আমরা তা-ই দেখতে পাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ এখনও এমপিদের পরামর্শ চলে। ইউপিগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের বেতনে চলে, তাদের টুকিটাকি কাজ বাস্তবায়নই তাদের অন্যতম ব্যস্ততা। সরকারের প্রভাব বলয় থেকে বেরুতে না পারলে স্থানীয় সরকার কাজ করতে পারবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রধান সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ। এছাড়া শিক্ষা, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে সরকার ও এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বৈঠকের শুরুতে আলোচনায় মূল বিষয় তুলে ধরেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে সরকার এই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন ঘটাবে। এমডিজি ছিল উন্নয়নশীল ও স্বপ্লোন্নত দেশগুলোর জন্য পরিকল্পনা। আর এসডিজির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই পরিকল্পনায় কেউ বাদ পড়েনি। উন্নত, উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নতসহ পৃথিবীর সব দেশের জন্য উপযোগী করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসডিজির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগের আট দফার পরিবর্তে এখন ১৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, যার আলোকে উন্নয়ন কাজ হবে। এর মধ্যে ১ থেকে ৭ নম্বর সাধারণ মানুষের জন্য, ৮ থেকে ১১ নম্বর অর্থনীতি বিষয়ক, ১২ থেকে ১৫ নম্বর পৃথিবী ও পরিবেশ বিষয়ক, ১৬ নম্বরে রয়েছে সমাজ বিষয়ক পরিকল্পনা এবং সর্বশেষ ১৭ নম্বরে রয়েছে অংশীদারিত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা। এসব দফার অধীনে আছে ১৬৯টি ধারা। তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালে জাতিসংঘ প্রণীত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসে। আগামী জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে আরও বৃহৎ পরিসরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) কর্মপরিকল্পনা; যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমডিজির কিছু পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এসডিজি নিয়ে কথা বলার আগে অবশ্যই সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবার সবকিছু স্থানীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে এতে। এমপিদের প্রভাব সর্বত্র। তারা সব জায়গায় ভাগ বসায়। তাদের জাতীয় সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে। অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানান। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সত্যিই জটিল ও বিশাল। তবে কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে এর বাস্তবায়ন সম্ভব। সফল বাস্তবায়নে সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রের সমন্বয়। কিছুদিন আগে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এক কর্মশালায় আমরা বিষয়গুলো বলেছি। সিভিল সোসাইটির কাজ করার ক্ষেত্রে এটা একটি বড় সুযোগ। তারা ওয়াচডগের ভূমিকার পালন করবে। তাদের অংশীদারিত্ব মনিটরিংকে আরও জোরদার করবে। গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন কয়েকজন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা।
সুসময়ে পরীমনি
একাত্তরের উদ্দীপনা: যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের তিরস্কার
এটা বলতেই হবে যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় বাঙালিরা ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় করে যা বলতে হয় তাহলো বাঙালি গেরিলা মুক্তিবাহিনী লুটেরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যারা ছিল তাদের থেকে বেশি অস্ত্রে সজ্জিত। স্বাধীনতার যোদ্ধারা দেখতে পায় যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে, ৪৪তম এ দিবসটি সম্প্রতি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ। উপরন্তু, অতি উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। আড়াই লাখের বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছে। তারা প্রায় এক কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের স্থানীয় দোসররা বাংলাদেশি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে।
পরাজিত শক্তি হিসেবে পাকিস্তান কখনও এই নৃশংসতা স্বীকার করে নেয় নি। পাকিস্তানিরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল সে বিষয় মানতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানে যারা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে তারা যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম হয় নি, হয়েছিল ভারতের সঙ্গে একটি যুদ্ধমাত্র। তার ফলে পাকিস্তানের অঙ্গ ছেদ হয়েছে। তাদের এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতা যোদ্ধাদের অবমাননা করা হয় বলে এর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিন্দা জানানো উচিত। এখন পর্যন্ত এ জন্য যেমন পাকিস্তান শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা করে নি, তেমনি তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় নি। এটা তাদের শোচনীয় এক অবস্থান।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ আদালতের চলমান বিচার ও পাকিস্তানের সহযোগীদের বিচারের বিষয়ে মানহানিকরভাবে নিন্দা জানাবে পাকিস্তান এটা বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নয়। সর্বোপরি, এসব সহযোগী নিজেদের ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের প্রতি অনুগত হিসেবে দেখেছে। কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের হত্যা, লুট ও ধর্ষণ চালিয়েছে। তাদের বর্বরতা, বিশেষ করে হিন্দু ও বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রতি যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার কোন সীমা নেই। এখন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে এসব সহযোগীর বিচার হচ্ছে, যা তাদের প্রাপ্য ছিল।
কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলামিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে দেয়া হয়। ইসলামকে বানানো হয় রাষ্ট্রীয় ধর্ম। আরও হতাশার বিষয় হলো, যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয় তাদেরকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দেয়া হয়। তাদের অনেকে সরকারের উচ্চ পদ দখল করে।
ইসলামিকরণের এই ধারা পাল্টানো প্রয়োজন। তা না হলে পাকিস্তানের পথে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দীপনা এখনও টিকে আছে তা দেখিয়েছে জনপ্রিয় শাহবাগ আন্দোলন। কিন্তু বাংলাদেশি ব্লগার ও বোদ্ধাদের ওপর কট্টরপন্থিদের বার বার হামলা ঝুঁকির বিষয়কে তুলে ধরে। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যুদ্ধ প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির নিন্দা জানানোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ যা করেছে তার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একে স্বাগতম।
বাংলাদেশকে ভয়ভীতিহীনভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মেজাজ, যা ১৯৭১ সালে পুরো প্রজন্মকে আচ্ছাদিত করেছিল।
Leading News
Hot Topic
CoxsBazar Pictures
National
eCoxs Special
Recent Post of WikiBangla.Net
Recent Posts
Popular Posts
-
সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিকী। বৃটেনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করায় টিউলিপ এ কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি ব...
-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনকে (৫৩) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শ...
-
অবশেষে জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। সব ধরনের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ডে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সেপ ব্লাটার ও মিশেল প্লাতিনি। ফিফার এথিক্স কমিটির ত...
-
বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২৪ পলাতক আসামির বিরুদ...
-
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। খুব সম্ভবত এ কথাটি বাংলাদেশের মানুষের জন্যই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। রো...
-
আসন্ন পৌর নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব, আজ্ঞাবহ ...
-
সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিকী। বৃটেনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করায় টিউলিপ এ কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি ব...
-
আবার ‘স্টার ওয়ারস’। আবার সেই ভয়াবহ যুদ্ধ। দুনিয়াজোড়া লাখো সিনেমাপ্রেমীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় এসেছে ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের নতুন ছবি ‘...
-
আইকন খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম ছিল না তার। তবে সাকিব আল হাসানের উচ্চতাটা প্রকাশ পেলো পরিষ্কারই। লটারির প্রথম পর্ব ছিল পাঁচ আইকন খেলোয়াড়কে নিয়ে...
-
কলম্বিয়ান পপ গায়িকা শাকিরা ও স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড় জেরার্ড পিকের একমাত্র ছেলে মিলানের বয়স মাত্র ২২ মাস। এই বয়সেই মিলানকে সাত-সা...

