Showing posts with label আওয়ামী লীগ. Show all posts
Showing posts with label আওয়ামী লীগ. Show all posts

Tuesday, December 23, 2014

বরগুনায় দুই সাংসদের কাণ্ড!

বরগুনা-১ আসনের (সদর-আমতলী-তালতলী) সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সাংসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একই দিন বিকেলে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওরফে রিমনের নির্দেশে একটি সালিসে এক গৃহবধূর মাথায় বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাংসদ এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে গত রোববার দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগাম একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মালেক জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সেখানে উপস্থিত হন এবং হঠাৎ আবদুল মালেকের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সাংসদ তাঁর (নির্বাহী প্রকৌশলী) জামার কলার ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় সাংসদ উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, ‘লাঠি কোথায়? ওকে লাঠিপেটা করব।’ ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যান। এরপর সাংসদ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ঢোকেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মহড়ায় যোগ দেন। বিষয়টি সন্ধ্যায় জানাজানি হয়।
আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সাংসদ আমাকে ফোন করে জেলার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী এলাকায় বাঁধের গাছ কাটার কথা জানান। এরপর ১১টার দিকে পুনরায় সাংসদ ফোন করলে আমি তাঁকে বলি, ‘স্যার, সেখানে লোক পাঠিয়েছি, খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি। এ কথা বলার পরপরই সাংসদ কিছুটা রাগ হয়ে আমার ফোন রেখে দেন। পরে আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে আগাম মহড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যাই। সেখানে আমাকে তিনি কিল-ঘুষি মারেন।’
বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। উনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) আমাকে বলেছেন, এ ঘটনায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন।’
সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বাঁধের সবুজ বেষ্টনীর গাছ কেটে ফেলেছে, যার আর্থিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা। আমি এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে রাগারাগি করেছি, মারধর করিনি।’
এদিকে পাথরঘাটা উপজেলার গহরপুর গ্রামের এক গৃহবধূ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজনকে মিথ্যা মামলা ও থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন এমন অভিযোগে রোববার বিকেলে সালিস বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত করে স্থানীয় সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান ওই নারীকে জুতাপেটা করেন। একই সঙ্গে তাঁর মাথায় মানুষের বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন পার্শ্ববর্তী শৌচাগার থেকে এক বালতি বিষ্ঠা এনে ওই নারীর মাথায় ঢেলে দেন।
সালিস বৈঠকে সাংসদ ছাড়াও উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন, পাথরঘাটা পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ইয়াছিন আরা এবং পৌর কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক ও বাবুল মিস্ত্রি উপস্থিত ছিলেন।
সাংসদ বিষ্ঠা ঢালার কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নারী অনেক মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এর জন্য মারলে আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ আসতে পারে। তাই বিষ্ঠা ঢেলে দেওয়ার রায় দিয়েছি।’

Monday, December 1, 2014

যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কেউ থামাতে পারবে না: আশরাফ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের দণ্ড কেউ থামাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ সোমবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি সব রায় কার্যকর হবে। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কেউ থামাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ। এত বড় যুদ্ধ, এত বড় আত্মত্যাগ। অথচ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলে। এ দেশের স্বাধীনতা আলোচনা বা গোলটেবিলের মাধ্যমে আসেনি। পৃথিবীর খুব কম জাতিই আছে, যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানাতে হবে।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয়। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা শক্তিশালী। তারা দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করছে। আর আমরা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি, আমাদের কাজ হবে তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানানো।’
এর আগে সৈয়দ আশরাফ জাতীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মুর্শেদ খান (বীর বিক্রম)। বক্তব্য দেন সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন, মহাসচিব মো. আলাউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা প্রমুখ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন জামায়াতের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মুঈনুদ্দিন ও আশরাফ উজ জামান খান, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী, ফরিদপুর নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ট্রাইব্যুনালের রায়ে আর কাদের মোল্লা আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কাদের মোল্লার। আর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন।

Monday, November 17, 2014

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়ে অপরাধ করিনি’ -এইচটি ইমাম

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চাওয়া কোন অপরাধ নয়। তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাকে হেয় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার বক্তব্যের যে দুটি বিষয়ে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে পুরো ৪৭ মিনিটের বক্তব্য শুনলে সে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে জানান তিনি। আজ সকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার ছাত্রলীগের এক সভায় এইচটি ইমাম ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বুক  পেতে দিয়েছেন।  ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এইচটি ইমাম বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছিল। স্কুল-কলেজ পুড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেদিন সাহসী ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় । তারা সাহসী দায়িত্ব পালন করে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

Saturday, November 15, 2014

বৈঠক ডেকেছেন এইচ টি ইমাম

ছাত্রলীগকে বিসিএসে চাকরির অবাঞ্ছিত প্রস্তাব ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী ম্যাকনিজম ফাঁস করে সমালোচনার মুখে পড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দলীয় ফোরামের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
আগামীকাল রোববার সকাল ১১টায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার উপ পরিষদের এ বৈঠকটি ডেকেছেন তিনি। তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান।
সূত্র জানায়, চাপের মুখে থাকা এ উপদেষ্টা দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনে ত্বরিত এ বৈঠকের আহ্বান করেছেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অনুরোধ জানিয়েছেন বলে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

Thursday, November 13, 2014

‘ক্যাম্পাসে কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন’ -জয়

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে হবে। কোন ক্যাম্পাসে কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। যারা সন্ত্রাস করবে, তাদের সহ্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বদনাম হয়, নেতা-কর্মীদের সেই ধরনের কোন কাজ করা ঠিক হবে না। যখন দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সবাই ছাত্রলীগ আর আওয়ামী লীগার হয়ে যায়। আমাদের দেশে একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা পাকিস্তানের এজেন্ট। তারাও অপপ্রচার চালাতে থাকে। এই ধরনের প্রচারে কান দেয়ার দরকার  নেই। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি সৎ থাকি, তবে চিন্তার কিছু নেই। কেউ সঠিক শিক্ষা নিলে তার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করার দরকার হয় না।

Wednesday, October 1, 2014

লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে এখনই দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দলের একাধিক নেতা বিভিন্ন মাধ্যমে নিউইয়র্কে অবস্থানরত মন্ত্রীকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের শীর্ষ মহলও এমন চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কে কটূক্তি করে এখন দেশে-বিদেশে চরম সমালোচিত এই মন্ত্রী। মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা আশঙ্কা করছেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরলে তার শাস্তির দাবিতে ইসলামী দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, তারা চান না নতুন করে শাহবাগ ইস্যুতে দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক। তাই এই মুহূর্তে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আÍীয়-স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তারা জানান। টাঙ্গাইল-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী ও তার ছেলে। রোববার নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সংবর্ধনা সভায় লাগামহীন বক্তৃতা দিয়েই তিনি ডালাস চলে যান। সেখানে স্ত্রীকে রেখে নিউইয়র্কে ফিরে আজ তার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

Tuesday, September 30, 2014

আমি হজ ও তাবলিগের বিরোধী : মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী by শওকত ওসমান রচি

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের।

রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ‘টকশো’রও সমালোচনা করেন।
মন্ত্রী পবিত্র হজের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য রাখার পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও এই মন্ত্রী একাধিকবার অসংলগ্ন কথা বলেছেন। তাকে এখনো মন্ত্রিসভায় রাখায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে বিস্মিত হন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। সভাস্থলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফর করছেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের’। তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নেই। এদের কোনো প্রডাকশন  নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটি ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।
তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন প্রবাসী মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি কোন পর্যায়ে। আমরা জানতে পেরেছি এ ব্যাপারে জয় ভাই ইন্টারনেট কানেকশনের কাজ করছেন। এ সময় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে দেখা যায় মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে। তিনি এ সময় বলেন, জয় ভাই কে? পাশ থেকে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলে উঠেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’। মন্ত্রী বলে উঠেন, সে করার কে? এ সময় প্রশ্নকর্তা বলেন, তার তো এ ব্যাপারে প্ল্যান রয়েছে। মন্ত্রী এবার বলেন, ও সেটা বলেন, ওনার একটা প্ল্যান আছে। এ সময় মন্ত্রী তার ডান পাশে উপবিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সভাপতি এবং একজন প্রবাসীকে দেখিয়ে বলেন, এ ধরনের প্ল্যান সিদ্দিকুর রহমান করতে পারে, সে-ও করতে পারে। জয় কম্পিউটার বা ইনফরমেশন টেকনোলজি সায়েন্টিস্ট। তার নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সরকার জনগণের। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি তার মায়ের তথ্য উপদেষ্টা। এটাও ঠিক আছে। তিনি শিক্ষক সেটাও ঠিক আছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কার্যকর করেন মন্ত্রী। ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় যা কিছু তার দায় মন্ত্রীর। বর্তমান মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দায়িত্ব। এখানে জয়ের কিছু নেই। মন্ত্রী বলেন, একজন একটি বই লিখেছেন। সে বইয়ের লেখকের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। যিনি পড়াচ্ছেন এবং পড়ছেন দায়দায়িত্ব তাদের। প্রবাসীদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন।
মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সব সময় কামলাই দেবেন। রাজনীতি করার দরকার কি? টিভির টকশোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা রাগ করলে দেশে একটা গালি দেই চু...নি (অশ্রাব্য একটি গালি)। এ সময় হলভর্তি বিস্মিত প্রবাসীদের পিনপতন নীরবতা। মন্ত্রী ওই গালির সাথে মিল রেখে টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘টক মারানি’ বলে আখ্যায়িত করেন। মন্ত্রী বলেন, ওয়ান-ইলিভেনের পর আমি যাদের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। এক লাখ পেয়েছি। তাদের কোনো তদবির আমি এখন রক্ষা করি না।