Tuesday, December 22, 2015
একাত্তরের উদ্দীপনা: যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের তিরস্কার
একাত্তরের উদ্দীপনা: যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের তিরস্কার
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হকের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আগামী অধিবেশনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। গত মাসে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর পাকিস্তান সরকারিভাবে এ নিয়ে যে জবাব দেয় তার বিরুদ্ধে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ওই মন্ত্রী। ইসলামাবাদ বলেছে যে, তারা ফাঁসি কার্যকর করায় গভীরভাবে বিক্ষুব্ধ। তারা দাবি করে যে, ১৯৭১ সালে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কোনো গণহত্যার ঘটনা ঘটে নি।
এটা বলতেই হবে যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় বাঙালিরা ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় করে যা বলতে হয় তাহলো বাঙালি গেরিলা মুক্তিবাহিনী লুটেরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যারা ছিল তাদের থেকে বেশি অস্ত্রে সজ্জিত। স্বাধীনতার যোদ্ধারা দেখতে পায় যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে, ৪৪তম এ দিবসটি সম্প্রতি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ। উপরন্তু, অতি উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। আড়াই লাখের বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছে। তারা প্রায় এক কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের স্থানীয় দোসররা বাংলাদেশি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে।
পরাজিত শক্তি হিসেবে পাকিস্তান কখনও এই নৃশংসতা স্বীকার করে নেয় নি। পাকিস্তানিরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল সে বিষয় মানতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানে যারা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে তারা যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম হয় নি, হয়েছিল ভারতের সঙ্গে একটি যুদ্ধমাত্র। তার ফলে পাকিস্তানের অঙ্গ ছেদ হয়েছে। তাদের এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতা যোদ্ধাদের অবমাননা করা হয় বলে এর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিন্দা জানানো উচিত। এখন পর্যন্ত এ জন্য যেমন পাকিস্তান শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা করে নি, তেমনি তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় নি। এটা তাদের শোচনীয় এক অবস্থান।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ আদালতের চলমান বিচার ও পাকিস্তানের সহযোগীদের বিচারের বিষয়ে মানহানিকরভাবে নিন্দা জানাবে পাকিস্তান এটা বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নয়। সর্বোপরি, এসব সহযোগী নিজেদের ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের প্রতি অনুগত হিসেবে দেখেছে। কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের হত্যা, লুট ও ধর্ষণ চালিয়েছে। তাদের বর্বরতা, বিশেষ করে হিন্দু ও বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রতি যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার কোন সীমা নেই। এখন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে এসব সহযোগীর বিচার হচ্ছে, যা তাদের প্রাপ্য ছিল।
কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলামিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে দেয়া হয়। ইসলামকে বানানো হয় রাষ্ট্রীয় ধর্ম। আরও হতাশার বিষয় হলো, যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয় তাদেরকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দেয়া হয়। তাদের অনেকে সরকারের উচ্চ পদ দখল করে।
ইসলামিকরণের এই ধারা পাল্টানো প্রয়োজন। তা না হলে পাকিস্তানের পথে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দীপনা এখনও টিকে আছে তা দেখিয়েছে জনপ্রিয় শাহবাগ আন্দোলন। কিন্তু বাংলাদেশি ব্লগার ও বোদ্ধাদের ওপর কট্টরপন্থিদের বার বার হামলা ঝুঁকির বিষয়কে তুলে ধরে। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যুদ্ধ প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির নিন্দা জানানোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ যা করেছে তার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একে স্বাগতম।
বাংলাদেশকে ভয়ভীতিহীনভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মেজাজ, যা ১৯৭১ সালে পুরো প্রজন্মকে আচ্ছাদিত করেছিল।
এটা বলতেই হবে যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় বাঙালিরা ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় করে যা বলতে হয় তাহলো বাঙালি গেরিলা মুক্তিবাহিনী লুটেরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যারা ছিল তাদের থেকে বেশি অস্ত্রে সজ্জিত। স্বাধীনতার যোদ্ধারা দেখতে পায় যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে, ৪৪তম এ দিবসটি সম্প্রতি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ। উপরন্তু, অতি উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। আড়াই লাখের বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছে। তারা প্রায় এক কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের স্থানীয় দোসররা বাংলাদেশি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে।
পরাজিত শক্তি হিসেবে পাকিস্তান কখনও এই নৃশংসতা স্বীকার করে নেয় নি। পাকিস্তানিরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল সে বিষয় মানতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানে যারা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে তারা যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম হয় নি, হয়েছিল ভারতের সঙ্গে একটি যুদ্ধমাত্র। তার ফলে পাকিস্তানের অঙ্গ ছেদ হয়েছে। তাদের এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতা যোদ্ধাদের অবমাননা করা হয় বলে এর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিন্দা জানানো উচিত। এখন পর্যন্ত এ জন্য যেমন পাকিস্তান শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা করে নি, তেমনি তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় নি। এটা তাদের শোচনীয় এক অবস্থান।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ আদালতের চলমান বিচার ও পাকিস্তানের সহযোগীদের বিচারের বিষয়ে মানহানিকরভাবে নিন্দা জানাবে পাকিস্তান এটা বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নয়। সর্বোপরি, এসব সহযোগী নিজেদের ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের প্রতি অনুগত হিসেবে দেখেছে। কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের হত্যা, লুট ও ধর্ষণ চালিয়েছে। তাদের বর্বরতা, বিশেষ করে হিন্দু ও বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রতি যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার কোন সীমা নেই। এখন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে এসব সহযোগীর বিচার হচ্ছে, যা তাদের প্রাপ্য ছিল।
কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলামিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে দেয়া হয়। ইসলামকে বানানো হয় রাষ্ট্রীয় ধর্ম। আরও হতাশার বিষয় হলো, যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয় তাদেরকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দেয়া হয়। তাদের অনেকে সরকারের উচ্চ পদ দখল করে।
ইসলামিকরণের এই ধারা পাল্টানো প্রয়োজন। তা না হলে পাকিস্তানের পথে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দীপনা এখনও টিকে আছে তা দেখিয়েছে জনপ্রিয় শাহবাগ আন্দোলন। কিন্তু বাংলাদেশি ব্লগার ও বোদ্ধাদের ওপর কট্টরপন্থিদের বার বার হামলা ঝুঁকির বিষয়কে তুলে ধরে। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যুদ্ধ প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির নিন্দা জানানোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ যা করেছে তার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একে স্বাগতম।
বাংলাদেশকে ভয়ভীতিহীনভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মেজাজ, যা ১৯৭১ সালে পুরো প্রজন্মকে আচ্ছাদিত করেছিল।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
Recent Post of WikiBangla.Net
Recent Posts
Popular Posts
-
অবশেষে জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। সব ধরনের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ডে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সেপ ব্লাটার ও মিশেল প্লাতিনি। ফিফার এথিক্স কমিটির ত...
-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনকে (৫৩) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শ...
-
আইকন খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম ছিল না তার। তবে সাকিব আল হাসানের উচ্চতাটা প্রকাশ পেলো পরিষ্কারই। লটারির প্রথম পর্ব ছিল পাঁচ আইকন খেলোয়াড়কে নিয়ে...
-
ঠিক কী কী কারণে ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে? বিভিন্ন সময়ে ব্রেস্ট ক্যানসারের কারণ হিসেবে অনেক কিছুই উঠে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে মাড...
-
আবার ‘স্টার ওয়ারস’। আবার সেই ভয়াবহ যুদ্ধ। দুনিয়াজোড়া লাখো সিনেমাপ্রেমীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় এসেছে ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের নতুন ছবি ‘...
-
পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে সংঘাতের ঘটনা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে তত বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুল...
-
বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২৪ পলাতক আসামির বিরুদ...
-
আইকন খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম ছিল না তার। তবে সাকিব আল হাসানের উচ্চতাটা প্রকাশ পেলো পরিষ্কারই। লটারির প্রথম পর্ব ছিল পাঁচ আইকন খেলোয়াড়কে নিয়ে...
-
মিস ইউনিভার্স বিতর্ক ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে। এবারে আরেক প্রতিযোগী মিস জার্মানি তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, মিস কলোম্বিয়...
-
অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ওমরাহর নামে মানব পাচারের অভিযোগে নয় মাস ধরে বন্ধ ছিল এই ভিসা...

No comments:
Post a Comment