Tuesday, December 22, 2015

সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা টিউলিপের

সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিকী। বৃটেনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করায় টিউলিপ এ কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় লাভের পেছনে সিলেটীদের অবদান অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও বৃটেনের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী গতকাল সকালে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সিলেটে যাত্রা বিরতিকালে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় টিউলিপ সিদ্দিকীকে ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সিলেটবাসী। সিলেট আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় টিউলিপ সিদ্দিকী বিজি-০০৬ একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান টিউলিপ সিদ্দিকী ও তার মা শেখ রেহানা। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় বিজি ০০৬ ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান টিউলিপের বরাত দিয়ে বলেন, ‘সিলেটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে টিউলিপ বলেছেন, ‘বৃটেনের নির্বাচনের সময় লন্ডনে অবস্থানরত সিলেটীরা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। তাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। নির্বাচনে জয় লাভের পরই আমি সিলেটে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম। অবশেষে আজ আমি আসলাম।’ এ সময় আওয়ামী লীগ নেতারা সিলেট ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান টিউলিপকে। পরে তিনি বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে সিলেট আসবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। টিউলিপ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জানিয়ে কামরান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই টিউলিপ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী দিনেও তিনি দেশবাসীর দোয়ায় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চান।’ এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা। এ ছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া, সিলেটের পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার নুরে আলম মীনাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার

আসন্ন পৌর নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব, আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন। সরকারি দলের প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন  করছে। শেখ হাসিনা নিজেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগ দেয়া হলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সেনা মোতায়েন করতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী দেবে না। সরকার সেনাবাহিনীকে মাঠে নামাতে চায় না। আমি বলে দিতে পারি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ পৌরসভায় ধীনের শীষের প্রার্থীরা জিতবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন সরকারের ফন্দি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার নির্বাচন ছিনতাই করে দেখাবে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে নেই। সব নৌকার পক্ষে। এখানেও সরকারের ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু তারা কি দেখছে নৌকা ডুবতে বসেছে। আমাদের নেতারা যেখানে প্রচারণায় যাচ্ছে সেখানেই মানুষ সাড়া দিচ্ছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কেন্দ্রে যাবেন, আমাদের প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন। ৫ই জানুয়ারির একতরফা জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। ভোটকেন্দ্রে কুকুর শুয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন করে তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন অংশ নিয়েছে বিএনপি? খালেদা জিয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয়ভাবে। সেখানে নির্বাচনের একটি আলাদা আমেজ আছে। সাধারণ মানুষ সেই ভোটে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। স্থানীয় সরকারের যেসব নির্বাচনে কিছুটা হলেও সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল সেখানে আমাদের প্রার্থীরা জিতেছে। কিন্তু সরকার তা সহ্য করতে পারেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করেছে। নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে অনির্বাচিতরাই দেশ চালাচ্ছে, নতুন নতুন আইন করছে। তিনি দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা সবাই আরেকবার জেগে ওঠি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের দিতে তাকাই। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে চলার সুযোগ করে দিই। সবাই জেগে ওঠলে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে শামিল হলে অত্যাচারি বিদায় হবে, দেশে শান্তি ফিরে আসবে। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা সত্য কথা লেখে তাদের সহ্য করতে পারে না আওয়ামী লীগ। একে খন্দকার বই লেখার পর তাকে বইটি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। সে প্রত্যাহার না করায় তাকে মামলা থেকে শুরু করে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের মেয়েও বই লিখেছেন। অথচ এরা আওয়ামী লীগের কাছের লোক ছিলেন। আর আজ তাদের কাছের লোক হচ্ছে তারাই যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি কিন্তু এখন তাদের সহযোগিতা করছে। বর্তমান সরকার নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করছে। বলা হয়- এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। আসলে কত লোক শহীদ হয়েছে? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন দেশের প্রতি তাদের কোন মায়া নেই, দায়িত্ব নেই। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা চায়নি, তারা চেয়েছিল ক্ষমতা। তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। সেদিন জিয়াউর রহমান ডাক না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধে যারা সহযোগিতা করেছে আমরা তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তিনি বলেন, আমরাও বলেছি বিচার হতে হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সে বিচার হতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের ঘরে যুদ্ধাপরাধী পালছে। তারাই যুদ্ধাপরাধীকে প্রথম মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। জামালপুরের রাজাকার মন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের কথা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। তারা আমাদের দোষ দেয় আর নিজেদেরগুলো মুছে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনদিন সম্মান করতে পারেনি। নিজ দলের মধ্যেও যারা সত্য বলেছে তারা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান ও সম্মাননা দেয়া হবে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, নতুন প্রজন্মকে আপনাদের পুরোনো দিনের কথা বলতে হবে। এখন সত্যিকার ইতিহাসের বইপত্র লেখা যায় না, বাজারে পাওয়া যায় না। তাই আপনাদের বলতে হবে আওয়ামী লীগ ১৯৭১-৭৫ সালে কি করেছিল। ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সিরাজ সিকদারকে রক্ষীবাহিনী গঠন করে আটক করা হয়েছিল। তারপর তাকে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজ সিকদারের মাধ্যমে আওয়ামীই প্রথম ক্রসফায়ার শুরু করে। সেদিনও মানুষ গুম করাই ছিল আওয়ামী লীগের কাজ। আওয়ামী লীগকে বিশ্লেষণ না করলে বুঝা যাবে না তারা কত হিংস্র। বর্তমানে সারা দেশে গুম, ক্রসফায়ার ও গুলির ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারা দেশে প্রতিদিনই গুম-খুনের ঘটনা ঘটছে। তাদের কি দোষ? তারা কি মানুষ না। তারা কি আমাদের ভাই-বোন না। আজ কারাগারে কত লোক আছে, তার বেশির ভাগই বিএনপির। সরকার এসব করছে বিএনপিকে ধ্বংস করতেই। পিলখানা হত্যাকা ের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ফেব্রুয়ারিতেই এতবড় ঘটনা ঘটেছে। এটা ছিল সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়া ও বিডিআরকে ধ্বংস করে দেয়ার একটি পরিকল্পিত ঘটনা। শেখ হাসিনার হাতে রক্ত, রক্ত আর রক্ত। ফেব্রুয়ারিতে রক্তের দাগ লাগার পর থেকে আজও অব্যাহত আছে। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সময় মতো তাদের বিচার করবেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের ভয় দেখায় আমরা ক্ষমতায় গেলে কারও চাকরি থাকবে না। কিন্তু পুলিশের সবাই খারাপ নয়। প্রশাসনের লোকজনও সবাই খারাপ নন। আমরা জানি, তারা কোন দোষ করেনি। দোষ করেছেন শেখ হাসিনা। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকেই আমাদের জানায়, তারা অসহায়। উপরের নির্দেশ পালনে তারা বাধ্য হচ্ছেন। অন্যথা হলে তাদের চাকরি থাকবে না, মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যায়ভাবে কারও চাকরি যাবে না। দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতা এবং দক্ষতাই হবে চাকরি ও পদোন্নতির সোপান। আমরা দেশে গণতন্ত্রের ধারা ফিরিয়ে আনব। সুশাসন ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনবো। সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, দেশটা আজ কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। পরিণত করা হয়েছে লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে। পদ্মা সেতু তৈরি করা হবে। একটি দুই দুইটি পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেনের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা উল্লেখ করে সে সময়কার ক্ষমতা দখলকারীদের নানা নির্যাতনেরও সমালোচনা করেন। এর আগে বিকাল সোয়া ৫টায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে মুক্তিযোদ্ধারা অভ্যর্থনা জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে মেডেল ও ক্রেস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশসহ বিএনপির শীর্ষ নেতা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন।

রানা প্লাজা মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২৪ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তাদের গ্রেপ্তারি তামিলের জন্য আগামী ২৭শে জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন গতকাল এ আদেশ দেন। সরকারি ৪ কর্মকর্তাকে আসামি করার বিষয়ে সরকারের অনুমোদন প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে অভিযোগপত্র আমলে নিতে গতকাল এ দিন ধার্য ছিলো। এর আগে ৮ই জুলাই ইমারত নির্মাণ আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমান। মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক আছেন। ইমারত নির্মাণ আইনে করা মামলায় ১৮ জনের মধ্যে পলাতক আছেন সাতজন। তবে একই আসামি দু’মামলায় থাকায় মোট ৪২ আসামি ধরা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় ৪ সরকারি কর্মকর্তা পরিদর্শক প্রকৌশল ইউসুফ আলী, পরিদর্শক প্রকৌশল শহিদুল ইসলাম, উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. জামশেদুর রহমান, ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সরকারি মঞ্জুরি আদেশ না পাওয়ার কারণে তাদের চার্জশিটভুক্ত করা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে মঞ্জুরি আদেশ দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়।  আদালত আবেদন গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে মঞ্জুরি আদেশ  দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে  নির্দেশ দেয়। মামলার চার্জশিটে মোট ৭৫০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
 ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষ্য শেষ
কোর্ট রিপোর্টার: গণজাগরণ মঞ্চের ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার শেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর নিবারণ চন্দ্র বর্মণের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার-৩-এর  বিচারক সাঈদ আহম্মেদের আদালতে গতকাল এ মামলায় সাক্ষীর জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাক্ষীকে জেরা করেন। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৫ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আদালত আগামী ২২শে ডিসেম্বর এ মামলায় আসামিদের ফৌজদারি কার্য বিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার (আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ) পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর ১০তম দিনে ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়।

‘সুযোগ দিলে সেরাটা দেবো’

আইকন খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম ছিল না তার। তবে সাকিব আল হাসানের উচ্চতাটা প্রকাশ পেলো পরিষ্কারই। লটারির প্রথম পর্ব ছিল পাঁচ আইকন খেলোয়াড়কে নিয়ে। এতে প্রত্যেক দল বেছে নেয় একজন করে আইকন খেলোয়াড়। প্লাটিনাম ক্যাটাগরির আদতে মূল লটারিটা ছিল এর পর পরই। আর এমন লটারিতে সবচেয়ে চাহিদার খেলোয়াড়টি বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। গতকাল অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি সুপার লীগের (পিএসএল) খেলোয়াড় ড্রাফট। ৩১০ খেলোয়াড় নিয়ে এ লটারির প্রথম দিন শেষে পিএসএলের পাঁচ দলে নাম লিখলেন ৪৫ ক্রিকেটার। এতে পিএসএলের ফ্রেঞ্চাইজিরা ইতিমধ্যে দলে টেনেছে বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারকে। সাকিব ছাড়াও দল পেয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও তরুণ পেস তারকা মুস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় শীর্ষ ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরিতে দলভুক্ত হন তামিম-মুস্তাফিজ। তবে গোল্ড ক্যাটাগরির অপর তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম, সৌম্য সরকার ও শাহরিয়ার নাফিস পিএসএল লটারিতে দল পাননি। তবে পরেও সুযোগ মিলতে পারে তাদের। গতকাল পাকিস্তান সুপার লীগের খেলোয়াড় ড্রাফটে  প্রথম সুযোগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শহিদ আফ্রিদিকে দলে ভেড়ায় পেশোয়ার জালমি। করাচি কিংস শোয়েব মালিক, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড শেন ওয়াটসন, কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স কেভিন পিটারসেন ও লাহোর কালান্দার ক্রিস গেইলকে দলে ভেড়ায় আইকন খেলোয়াড় হিসেবে। লটারিতে ষষ্ঠ সুযোগটি পায় করাচি কিংস। তারা দলভুক্ত করে নেয় সাকিব আল হাসানকে। এজন্য করাচি কিংসকে গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় কোটি টাকা। সেখানে শীর্ষ ড্রাফট ‘প্লাটিনাম’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্লাটিনাম গ্রুপের খেলোয়াড়দের মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র সাকিবই প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় শীর্ষ ‘ডায়মন্ড‘ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের কারও নাম ছিল না। তবে ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফিস। আজ অনুষ্ঠিত হবে খেলোয়াড় ড্রাফটের দ্বিতীয় পর্বের লটারি। এতে দলগুলো খেলোয়াড় বেছে নেবে সিলভার ও ইমার্জিং ক্যাটাগরি থেকে। আজ এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের আলাদা নজর থাকছে। আসন্ন পিএসএল লটারিতে এ পর্বে সিলভার ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও এনামুল হক বিজয়। গোল্ড ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের দাম ৫০ হাজার ও সিলভার ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২৫ হাজার ডলার। সিলভার ক্যাটাগরি থেকে ৫ খেলোয়াড়কে আজ দলভুক্ত করবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আর তরুণ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ‘ইমার্জিং’ ক্যাটাগরির দুজন খেলোয়াড় দলভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। গতকাল শীর্ষ তিন ক্যাটাগরি থেকে তিনজন করে মোট ৯ ক্রিকেটারকে দলভুক্ত করেছে প্রতিটি ফ্রেঞ্চাইজি। এতে প্রতি দলে কমপক্ষে চার পাকিস্তানি ও ৪ বিদেশি খেলোয়াড় বেছে নেয়াটা ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য বাধ্যতামূলক। লটারিতে প্রত্যেক দল বেছে নেবে ১৬ জন করে খেলোয়াড়। তবে পরে প্রত্যেক দল আরও চারজন করে খেলোয়াড় দলভুক্ত করতে পারবে। পিএসএল লটারির প্রথম দিন দল পেলেন আন্তর্জাতিক অভিষেক না হওয়া তিন ক্রিকেটার কেভন কুপার, ডেলপোর্ট ও এলানবি। সদ্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) বল হাতে সর্বাধিক ২২ উইকেট শিকার ক

‘আমরা কেউ তাকে ভোট দেই নি’

মিস ইউনিভার্স বিতর্ক ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে। এবারে আরেক প্রতিযোগী মিস জার্মানি তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, মিস কলোম্বিয়ারই জেতা উচিত ছিল। আর তিনি ও অপর সুন্দরীরা কেউই মিস ফিলিপাইনকে ভোট দেন নি। এ খবর দিয়েছে মিরর। আয়োজক স্টিভ হার্ভি তালগোল পাকিয়ে ভুল করে মিস কলোম্বিয়া আরিয়াদনা গুতিয়েরেজকে মিস ইউনিভার্স ২০১৫ ঘোষণা দেন। তার মাথায় পরিয়ে দেয়া হয় বিজয়ীর মুকুট। আরিয়াদনা যখন বিজয়ের আনন্দে উচ্ছসিত তখনই মঞ্চে ফিরে হার্ভি ঘোষণা করেন, তিনি ভুল করে মিস কলোম্বিয়ার নাম ঘোষণা করেছেন। আসলে মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হয়েছেন মিস ফিলিপাইন্স পিয়া উর্টজব্যাক। দর্শকসারী আর টিভির সামনে থাকা লাখো মানুষের সামনে আরিয়াদনার মাথা থেকে মুকুট নিয়ে পরিয়ে দেয়া হয় পিয়াকে। হতভম্ব আরিয়াদনা ঠায় দাড়িয়ে থাকেন। মঞ্চের সামনে বিষাদ লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবার মিস ইউনিভার্স আয়োজকদের এক হাত নিয়েছেন মিস জার্মানি সারাহ লোরেইন রিয়েক। তিনি বলেছেন, ফলাফলে তিনি খুশি নান। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমি সত্যিই এটা বিশ্বাস করতে পারিনি। আমার মতে সত্যিকারের জয়ী হলো মিস ফ্রান্স। তবে আমি মিস কলোম্বিয়ার জন্য অনেক খুশি ছিলাম, কেননা সে এটার প্রাপ্য। আমার বলতে খারাপ লাগছে, ‘আমি ফল নিয়ে খুশি নই। অন্য মেয়েরাও নয়। কেননা আমাদের কেউই ফিলিপাইনকে ভোট দেই নি।’
এদিকে, যার মাথায় মুকুট পরিয়ে আয়োজকরা তালগোল পাকিয়েছেন, সেই আরিয়াদনার মনোবলে এতোটুকু চিড় ধরেনি। ওই ঘটনার কিছু সময় পর তিনি বলেছেন, ‘তিনি বিরক্ত নন। মঞ্চ থেকে নামার পর চোখের পানি মুছে নিয়ে তিনি বলেছেন, সবকিছুর পেছনে কোন কারণ থাকে। কাজেই আমি খুশি। আমাকে ভোট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ আর এবছরের মিস ইউনিভার্স পিয়া স্বীকার করেছেন, আবারে মুকুট পরানোর মুহুর্তটা ছিল অত্যন্ত নন-ট্রাডিশনাল।’

স্টার সিনেপ্লেক্সে নতুন ‘স্টার ওয়ারস’

আবার ‘স্টার ওয়ারস’। আবার সেই ভয়াবহ যুদ্ধ। দুনিয়াজোড়া লাখো সিনেমাপ্রেমীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় এসেছে ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের নতুন ছবি ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’। ১৮ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। আর বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স ছবিটি নিয়ে আসছে ২৫শে ডিসেম্বর। জমকালো আয়োজনে ছবিটির রেড কার্পেট প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সে। জে জে আব্রামস পরিচালিত এবারের ছবিতে অভিনয় করেছেন হ্যারিসন ফোর্ড, লুপিটা নিয়ঙ, মার্ক হ্যামিল, ক্যারি ফিশার, ডেইজি রিডলিসহ আরও অনেকে। মুক্তির পরপরই দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’। ২০০ মিলিয়ন বাজেটের ছবিটি এরইমধ্যে আয় করে ফেলেছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা ডিজনি বলছে, শুধুমাত্র ১৭ই ডিসেম্বরের প্রিভিউ থেকেই সিনেমাটি তুলে এনেছে ৫  কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আর ১৮ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটির আয়ের খাতা খুলেছে ১০ কোটি মার্কিন ডলার নিয়ে, যা ইতোমধ্যেই ‘হ্যারি পটার: দ্য ডেথলি হ্যালোজ পার্ট টু’র ৯ কোটি ১১ লাখ ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ৪৪টি দেশ থেকেও স্টার ওয়ার্স এর সপ্তম সংযোজন তুলে এনেছে প্রায় ৭ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগামী সপ্তাহেই সিনেমাটি মুক্তি পাবে গ্রিস এবং ভারতে আর চীনে সিনেমাটি মুক্তি পাবে জানুয়ারি মাসে। ‘স্টার ওয়ারস’ সিরিজের সপ্তম সিনেমা ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়াকেন্স’ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল বহুদিন ধরেই। গত ১৯শে অক্টোবর অনলাইনে ছবির টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এরপরই দেখা গেছে দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া। প্রথম প্রদর্শনীর টিকিটের চাহিদা এতোই যে, ওয়েবসাইট পর্যন্ত ক্র্যাশ হয়ে যায়। অনলাইনে প্রথম দেড় ঘণ্টায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ওডিওন আর পিকচারহাউস জানিয়েছে, নজিরবিহীন চাহিদার কারণে তাদের সাইট থমকে গেছে। ওয়েবসাইট দুটি ক্র্যাশ হওয়ায় এগুলোকে অবাধে ঢুকতে না পেরে কিছু দর্শক টুইটারে অভিযোগ করেন। পিকচারহাউসের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল সোয়ার্টল্যান্ড বলেন, আমরা সাইট সচল রাখতে কাজ করছি। কিন্তু বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ টিকিটের চাহিদা ব্যাপক। তিন দশকেরও বেশি সময় পর বড় পর্দায় ফিরছে সর্বকালের অন্যতম সফল সিরিজ ‘স্টার ওয়ারস’-এর নতুন ছবি। রেনট্রাকের জ্যেষ্ঠ মিডিয়া বিশ্লেষক পল ডারগারাবেডিয়ান আশা করছেন, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ১০ কোটি ডলার আয় করে ফেলবে ছবিটি। আর বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় হতে পারে ২০০ কোটি ডলার। তিনি বলেন, এটাই গত এক দশকের সবচেয়ে কাঙিখত চলচ্চিত্র। টিকিট বিক্রি শুরুর আগের দিন, ১৮ই অক্টোবর প্রকাশ হয়েছে ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’ নামের ছবিটির পোস্টার। আর ইএসপিএন চ্যানেলের ন্যাশনাল ফুটবল লীগ খেলার মধ্যবিরতিতে প্রকাশ হয় এর আড়াই মিনিট ব্যাপ্তির ট্রেলার। এরপর প্রতি মিনিটে ১৭ হাজার টুইট হয়েছে এ নিয়ে। আর ইউটিউবে প্রথম ২০ মিনিটে এটি দেখা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার বার। টুইটারেও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে সিনেমাটির ট্রেইলার। গত বছর নভেম্বরে এবং এ বছরের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া দুটো ট্রেইলার ‘স্টার ওয়ার্স’ অনুরাগীদের মনে রেখে গিয়েছিল অনেক প্রশ্ন। এবারের ট্রেইলারে রহস্যের জট কিছুটা খোলা হয়েছে। ট্রেইলারটি শুরু হয় কেন্দ্রীয় চরিত্র রেইয়ের একটি অভিযানের দৃশ্য দিয়ে। অভিনেত্রী ডেইজি রিডলির এই চরিত্রটিকে প্রিন্সেস লেইয়া এবং হান সলোর মেয়ে হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে রহস্যের জাল লুক স্কাইওয়াকারকে ঘিরে আছে। আর হান সলোর চরিত্রে হ্যারিসন  ফোর্ডের উপস্থিতি মিললো আগের ট্রেইলারগুলোর মতোই। ‘স্টার ওয়ারস’-এর স্রষ্টা জর্জ লুকাস। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি এই ফ্রাঞ্চাইজির ছয়টি ছবি নির্মাণ করেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এ সিরিজের ছয়টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলো মোট আয় করেছে ৪৪০ কোটি ডলার। তিন বছর আগে লুকাস ফিল্ম থেকে ৪০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে সিরিজের স্বত্ব কিনে নেয় ডিজনি।

সাগর জাহানের অন্যরকম জন্মদিন

প্রতি বছরই ২২শে ডিসেম্বর ঢাকার মিডিয়াগুলোতে জনপ্রিয় নির্মাতা সাগর জাহানের জন্মদিন উপলক্ষে থাকে নানা আয়োজন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোগুলোতে দেখা যায় তার উপস্থিতি। কিন্তু এবার সেটার ব্যাতিক্রমই ঘটলো। টিভি নাটকের জনপ্রিয় এ নির্মাতা জন্মদিনটা ভিন্নভাবেই পালন করছেন। টিভি চ্যানেলে কয়েকটি টক শোতে অংশ নেয়ার কথা থাকলেও সেটা না করে চলে গেছেন প্রিয় নানুর বাড়ি। নরসিংদীর বেলাবোতে কাক ডাকা ভোরেই চলে গেছেন সপরিবারে। নানুর বাড়ির প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে বিশেষ দিনিটি ভাগ করে নিলেন সাগর জাহান। এ প্রসঙ্গে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ঢাকার বাইরে জন্মদিন পালন শেষ কবে করেছি সেটা মনেও পড়ছে না। অনেক দিন পর আজ আবার করছি। সারাদিন এখানে আমাকে ঘিরে থাকছে নানা আয়োজন। প্রতি বছর বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোগুলোতে আমার জন্মদিন নিয়ে আয়োজন থাকে। এবারও ছিল। কিন্তু সব বাতিল করেছি শুধু আমার প্রিয় জায়গা নানুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য। তাই সেই ভোর বেলায় রওনা হয়েছি।  এখানে এসে প্রিয় মানুষগুলোকে কাছে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। এদিকে এ সময়ে সাগর জাহানে পরিচালনায় দুটি নতুন ধারাবাহিক প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর একটি হলো ‘মিলার বারান্দা’। এটি বাংলাভিশনে প্রচার হবে বলে জানান তিনি। আরেকটি ‘এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি’। এ নাটকটি নির্মাণ শেষ হলেও কোন চ্যানেলে প্রচার হবে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মাড়ির সমস্যা ঝুঁকি বাড়ায় ব্রেস্ট ক্যানসারের

ঠিক কী কী কারণে ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে? বিভিন্ন সময়ে ব্রেস্ট ক্যানসারের কারণ হিসেবে অনেক কিছুই উঠে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে মাড়ির অসুখ ডেকে আনতে পারে ব্রেস্ট ক্যানাসার।
নিউ ইয়র্কের বাফেলো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জো ফ্রুডেনহেম জানান, মেনোপজের পর যে মহিলারা মাড়ির সমস্যায় ভোগেন তাঁরা স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, এমনকী ব্রেস্ট ক্যানসারেও আক্রান্ত হতে পারেন।
মোট ৭৩,৭৩৭ জন মহিলার ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। এঁদের প্রত্যেকেরই মেনোপজ হয়ে গিয়েছে। এঁদেরে মধ্যে ২৬.১ শতাংশ মহিলা মাড়ির অসুখে আক্রান্ত। এঁদের ওপর টানা ছয় বছর সাত মাস গবেষণা চালানোর পর দেখা গিয়েছে ২,১২৪ জন মহিলা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষণায় উঠে এসেছে মেনোপজের পর মাড়ির সমস্যা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
ক্যানসার এপিডেমিলজি, বায়োমেকারস অ্যান্ড প্রিভেনশন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণার ফল।

নির্বাচন কমিশন যেখানে অসহায়

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। খুব সম্ভবত এ কথাটি বাংলাদেশের মানুষের জন্যই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। রোববার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজের কণ্ঠস্বর পুরনো কথাটি নতুন করে মনে করিয়ে দিলো। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আওয়াজ গত চার দশকে বহুবার শোনা গেছে। সবচেয়ে বেশি শোনা গেছে পার্মানেন্ট ক্ষমতাসীন পার্টির মুখেই। তবে কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি নির্বাচন কমিশনের অসহায় উচ্চারণ তা আরও একবার নিশ্চিত করেছে। পৌরসভায় ভোট ৩০শে ডিসেম্বর। এর আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধেই। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নানান কিসিমের ভোট দেখা গেছে এ ভূমে। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো বৈচিত্র্যময় ভোট খুব বেশি দেশে হয়নি। দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশেই স্থানীয় নির্বাচন দলভিত্তিক হয়। হানাহানির অতীতের কারণে আমরা এই ব্যবস্থা থেকে দূরে ছিলাম। তবে সর্বত্র ‘গণতান্ত্রিক’ রীতি চালুতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ এবার স্থানীয় নির্বাচনও করছে দলীয়ভিত্তিতে। সেখানেও অবশ্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেয়র পদে নির্বাচন হবে দলীয়, আর কমিশনার পদে হবে নির্দলীয়। কাদের সুবিধার জন্য তা করা হয়েছে সে ব্যাপারে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
স্থানীয় এ নির্বাচন দেশে অবশ্য এক ধরনের আশার পরিবেশও তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের জনগণ নৌকা এবং ধানের শীষের মধ্যে প্রতীক বাছাইয়ের সুযোগ পাবে। যদিও আদৌ সে সুযোগ তারা পাবেন কি-না তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আলামত অবশ্য ভালো নয়। প্রতিদিনই সংঘর্ষ, হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই/একটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার নজির এখনও দেখা যায়নি। হোন্ডা-গুণ্ডার নির্বাচন দেখতে হয় কি-না তা নিয়ে এরইমধ্যে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। একটি উপজেলায় এমনও অভিযোগ এসেছে, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন দিয়ে এসেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট কয়টায় শেষ হবে সে নিয়ে আলোচনা এখনই শুরু হয়ে গেছে।
কোনো কোনো পর্যবেক্ষক, স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে না পারাকে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি না হওয়াতে বারবার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। রাজপথে রক্ত ঝরেছে। ব্যর্থতার দায়ভার মানুষ বহন করেছে জীবনের বিনিময়ে। পবিত্র সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ঘোষণা করছে। তবে তা যে কেবল কাগুজে ঘোষণাই তা বারবার প্রমাণ হয়েছে। যদিও কখনও কখনও নির্বাচন কমিশনারদের আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড সোজা রয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড শক্ত কি-না সে পরীক্ষা ভোটের মাঠে কয়েকবারই হয়েছে। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, ইতিহাসে তাদের স্থান নির্ধারিতই হয়ে গেছে। কেউ চাইলেও তা আর পরিবর্তন করতে পারবেন না। এবং ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনেও যে তার কোন ব্যতিক্রম হবে না তা এখন হলফ করেই বলা যায়।
৩ এমপিকে দায়মুক্তি, ৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ
পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি ভেঙে দুঃখ প্রকাশ করা ক্ষমতাসীন সরকারের তিন এমপির অপরাধ মার্জনা করে দায়মুক্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমপিরা হলেন- ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, নাটোর-২ আসনের মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল ও বরগুনা-২ আসনের শওকত হাচানুর রহমান রিমন। এর আগে তথ্য ও ধর্মমন্ত্রীকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। অন্যদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ও হুইপসহ পাঁচ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের কাছে সোমবার পাঠিয়েছে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সরকারের তিনজন এমপি পৌর নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছিল। এ অপরাধে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায়। ইসির চিঠির জবাবে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই কমিশন বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় ওই অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আলোকে গতকাল তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা আরও জানান, সম্প্রতি ক্ষমতাসীন সরকারের তিন এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। এই অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তাদের শোকজ করে চিঠি পাঠায়। তারা শোকজের জবাব দিয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন। পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে কমিশন তাদের জবাব পর্যালোচনা করে রোববার দায়মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া আগামীতে যাতে আচরণবিধি মেনে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইসি। আর গতকাল চিঠি দিয়ে তাদেরকে দায়মুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তদন্ত করে মন্ত্রীরা আচরণবিধি ভেঙেছেন তার কোনো সত্যতা ও প্রমাণ পাননি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বিষয়টি কমিশনকে লিখিত জানালে দুই মন্ত্রীকেও অব্যাহতি দেয় ইসি।
অন্যদিকে পৌর নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ও হুইপসহ পাঁচ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রকিবউদ্দীন মণ্ডল স্বাক্ষরিত এসব চিঠি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। এর আগে ১২ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, বর্তমানে যে আইন রয়েছে এতে বিচারিক ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেয়া আছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাহী এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘অন দ্য স্পট’ ব্যবস্থা নেবেন। আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে আমরা সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইসির কর্মকর্তারা জানান,  যেসব এমপির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি মোহাম্মদ নাসিম (স্বাস্থ্যমন্ত্রী), শেরপুর সদরের আতিউর রহমান আতিক (জাতীয় সংসদের হুইপ), রাজশাহী বাগমারার এমপি এনামুল হক, ময়মনসিংহ নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান ও ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী। সবাই সরকারি দল সমর্থিত বলে জানা গেছে। এর আগে ১২ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দেয় ইসি। এরা হলেন- হবিগঞ্জের অ্যাডভোকেট আবু জাহির, শরীয়তপুরের নাহিম রাজ্জাক, নাটোরের অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, জয়পুরহাটের আল মাহমুদ স্বপন, কিশোরগঞ্জের অ্যাডভোকেট সোহরাবউদ্দিন আহমেদ ও আফজাল হোসেন, ফরিদপুরের মো. আবদুর রহমান, রাজশাহীর আব্বাস আলী এবং সিরাজগঞ্জের হাসিবুর রহমান স্বপন। পৌর নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়রগণ নির্বাচনী প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডেদণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে। র্স্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও আছে ইসির।
ওদিকে, ফেনী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে মনিটরিং কমিটি। ঈশ্বরদী পৌরসভার আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে ইসির মনিটরিং কমিটি। ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজয় র‌্যালির নামে গত বুধবার বিকালে নির্বাচনী শোডাউন করেছেন। র‌্যালিটি শহরের আলহাজ মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। যার নেতৃত্ব দেন মেয়রপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
ময়মনসিং-৯ আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত বুধবার বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচিত করলে নান্দাইলের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র হবেন একই দলের। এতে নান্দাইল পৌরসভাসহ গোটা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে। ওই সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় এক এমপি ও দুই মেয়রপ্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মনিটরিং কমিটি সুপরিশ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিজয় দিবসে ভোরে সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসেন রংপুর-২ আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক ডিউক। এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী ও জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী লাতিফুল খাবির পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্য দেয়ার সময় এমপি ডিউক দলীয় প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোটারদের সমর্থন চান। এরপর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীর পক্ষে ভোট চান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শাহান। জাপার প্রার্থী লাতিফুল খাবিরও ফুল দিয়ে যাওয়ার সময় নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
১৫ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি
১৫টি পৌরসভায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং কমিটি। পৌরসভাগুলো হচ্ছে- ফেনী, দাগনভূইয়া, পরশুরাম, ঈশ্বরদী, নান্দাইল, বদরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জ, খোকসা, মুক্তাগাছা, কলাপাড়া, বড়াইগ্রাম, তাহেরপুর, শেরপুর ও বরগুনা। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম প্রার্থীদের অভিযোগ ও ইসির মনিটরিং কমিটির প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের এসব চিঠি পাঠান।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ
নরসিংদী পৌরসভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কৌশিক কায়কোবাদ কেনি। নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গত ১৫ই ডিসেম্বর বেলা সাড়ে তিনটা থেকে রাত অবধি বিভিন্ন সাংগঠনিক সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণা, দিকনির্দেশনা ও হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বক্তব্যে বলেছেন, ‘২০শে ডিসেম্বরের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম কাইয়ুমের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে খুঁজে পাওয়া যাবে না’। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন।
এসপিসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে শোকজ
বরগুনা পৌরসভায় দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপারসহ ৫ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব অবহেলার জন্য কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সোমবার ইসির উপসচিব সামসুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বরগুনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সাহাদাত হোসেনের উঠোন বৈঠকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ যুবলীগের জেলা সভাপতিও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুই প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে বলে জানান ইসির এ উপসচিব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মিছিল-শোডাউনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এরপর সংঘর্ষের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি বলে রিটার্নিং অফিসার, এসপি, ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন প্রার্থী সাহাদাত। ইসির উপসচিব সামসুল আলম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তিন দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক), এসপি, ওসি, দুই প্রার্থী সাহাদাত হোসেন ও কামরুল আহসানকে আলাদা আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষ, হামলা, গুলি সড়ক অবরোধ, আগুন

পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে সংঘাতের ঘটনা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে তত বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটছে। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি দল বা সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জড়িত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলা চালানো হয়েছে প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে। যানবাহন ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থী কর্মীদের মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। একই দিনে সাভারে বিএনপির প্রার্থীর বাড়িতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর সদরে। এ ছাড়া নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বৈঠকে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সাভার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদিরের বাড়িতে গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা, ভাঙচুর ও গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ছোট ভাইসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হাজী আবদুল গণির বড় ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হাসান তুহিন। এদিকে ঘটনার পর পর বদিরের বাড়িতে র‌্যাব ও পুলিশ উপস্থিত হয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি বলেন, নাশকতার তিনটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে সাভার পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাংক কলোনি এলাকায় প্রচারণা শুরু করি। গতকাল বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ব্যাংক কলোনি মহল্লার নিজের বাসায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় চলছিল। তখন হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর লোকজন অতর্কিতে হামলা করে। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চেয়ার টেবিল, বাড়ি ঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে ইট-পাটকেল ছুড়ে। হামলায় তার ছোট ভাই মাসুদ, কর্মী আফজাল, সোহেল, হোসেনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তবে তাদের কোথায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তা তিনি বলতে পারেননি। তিনি আরও জানান, হামলার বিষয়টি নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। বদি আরও জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী হাজী আবদুল গণির ছেলে ফারুক হাসান তুহিনকে চিনতে পেরেছেন। তবে হামলাকারী অন্য কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ বলেন, বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। এদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদিরের বাড়িতে হামলা ও গুলির ঘটনার অভিযোগ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা হামলা চালাইনি। আমাদের লোকজন ক্যানভাস করতে করতে ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির প্রার্থী বদিরের বহিরাগত লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে ছাত্রলীগের পৌর শাখার সভাপতি অভিসহ ৫-৬ জন আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গুলি ছুড়ার বিষয়ে তুহিন বলেন, গুলিও বিএনপির প্রার্থীর বহিরাগত লোকজনই ছুড়েছে।
চৌদ্দগ্রামে সংঘর্ষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর, আগুন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান,  কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মো. হোসাইন, কনস্টেবল মনির হোসেনসহ উভয় প্রার্থীর অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি  ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের সমর্থকরা বিকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মিছিল বের করে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থনে আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চু কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে চৌদ্দগ্রাম বাজারে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলির শব্দে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় উপজেলা সদরের পুরাতন ইউপি ভবনের সামনে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও রাস্তায় থাকা একটিসহ ৩ মাইক্রোবাস ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ফাঁকা গুলি ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়াও বাজারে ব্যবসায়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন পাটোয়ারীর পাইকারি মুদি মালের দোকানসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও ফুটপাটের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর  ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মো. হোসাইন, কনস্টেবল মনির, দোকানের কর্মচারী জাফর, শিপন, আবদুল্লাহসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন ও নতুন দুটি সড়ককেই প্রায় ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শত যানবাহন আটকা পড়ে। সন্ধ্যা ৬টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে অর্ধশতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর দুই মেয়র প্রার্থীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক শরীয়তপুর পৌরসভা মেয়র নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাসভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে হামলাকারীরা। এ নিয়ে শরীয়তপুর শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।  পালং থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালের পক্ষে শরীয়তপুর ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গতআল দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রসু্ততি সভা চলছিল। এ সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ইকবাল হোসেন অপুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপ এক সঙ্গে নৌকা প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের করে। মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন একাংশের নেতা কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন অপু এবং অপর অংশের নেতা সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ও শরীতপুর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি নুরুল আমিন কোতোয়াল। মিছিলটির শেষ মুহূর্তে পিছন দিক থেকে উভয় গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার সামনে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের সমর্থকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে। দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালের বাড়িতে হামলা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপে তার বাড়ির দরজা জানালা ভেঙ্গে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপে ইলিয়াছ, প্রকাশ, দ্বীন ইসলাম, সুজন পাহাড়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুর মোহাম্মদ কোতোয়ালে স্ত্রী ও পুত্রবধূসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। এ ব্যাপারে পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এম মজলিস খান বলেন, এ ঘটনায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। পালং মডেল থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ীতে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে পৌর এলাকার আরামনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুহুল আমীন সেলিম (মোবাইল প্রতীক) এর কর্মীরা আরামনগর বাজার এলাকায় ভোট চাইতে গেলে বিনএপি মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল কবির তালুকদার শাহীন (ধানের শীষ প্রতীক) এর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শহিদুল্লাহ, শফিকুল, তাজিন, আমিনুল, পলাশ ও আপেলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ সংবাদ পেয়ে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা আরামনগর বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিমের পক্ষে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে সরিষবাড়ী থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে নির্বাচনী মাঠে বিদ্রোহী নয় সরকার দলীয় মদতপুষ্ট প্রার্থী রুহুল আমীনসহ সরকার দলীয়রা এক হয়ে কাজ করছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের বিজয় কখনোই ঠেকাতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর উঠান বৈঠকে ককটেল হামলা
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র পদ প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মানিক এর উঠান বৈঠকে দুর্বৃত্তরা ককটেল হামলা করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয় নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। রোববার রাত সাড়ে নয়টায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরামপুর এলাকায় কুয়েতি মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাত্রেই বিএনপির ১৪ জন নেতা কর্মীর নাম উল্লেখ করে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে মাধবদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ। এদিকে ককটেল হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদ প্রার্থী মানিক। সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. ইলিয়াছ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিরামপুর এলাকায় উঠান বৈঠক করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। বৈঠক চলাকালে রাত সাড়ে নয়টায় পাশে কে বা কারা দুটি ককলেট নিক্ষেপ করে। কিন্তু ককটেল দুটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবিস্ফোরিত ককটেল দুটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
এদিকে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীদের প্রচার, সভা ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত তথ্যও গণমাধ্যমে দেয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল কুমিল্লার চান্দিনায় দলের মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুকসহ স্থানীয়  নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সভায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির প্রার্থী খলিলুর রহমানের গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। এতে আহত হন ৫ জন। ওইদিন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নাসির উদ্দিনের গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার দলের নেতাকর্মী সমর্থকরা। এ সময় তারা লাঠিসোঠা নিয়ে বিএনপি সমর্থকদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ ঘটনায় ৭০ জন আহত হয়েছে। নাসিরের গাড়ি বহরের ৭টি গাড়ি ভাঙচুর ও প্রার্থীকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় মেয়র প্রার্থী নাসির উদ্দিন ওই এলাকা ত্যাগ করেন। একইদিন কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী আবদুল আজিজ খানের গণসংযোগে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে আহত হয়েছেন ৭ জন। এ ছাড়া ভোলা পৌরসভা বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুন-অর-রশিদের লিফলেট বিতরণের সময় তার কর্মীদের মারধর করে সরকার সমর্থকরা। একইদিন পাবনায় বিএনপি নেতা মির্জা মকবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গণসংযোগকালে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মীরা ঐশ্বর্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে। এদিকে শনিবার ঝিনাইদহে যুবদল কর্মী মিন্টু মণ্ডলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক নারী কাউন্সিলর ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহানা বেগম শানুর ছেলে রায়হান ইসলামকে (২৫) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন মা শানুও। একই দিন ঠাকুরগাঁয়ে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেনের পোস্টার লাগানোর সময় বাধা দিয়েছে সরকার দলের সমর্থকরা। শনিবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী লুৎফুল হাছানের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। এতে আহত হন অন্তত ৫ জন। রাজশাহীর বাঘার আড়ানীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তোজাম্মেল হকের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুক্তার আলীর কর্মী-সমর্থকেরা। এতে আহত হয়েছেন ৫ জন। গত শনিবার যশোরের  চৌগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আজিজুল ইসলামের মা রাবেয়া খাতুনকে (৬৫) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ই ডিসেম্বর ভোলার বোহারনউদ্দিন পৌরসভায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মনিরুজ্জামানের বাড়িতে হামলা  ও ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মেয়রপ্রার্থীর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকীসহ পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আজাদ উদ্দিনকে গণসংযোগকালে ধাওয়া দেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একই দিনে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা ও তার সমর্থকদের হত্যার হুমকি দিয়েছে সরকার সমর্থকরা। গত বুধবার নোয়াখালীর চাটখিলে কাউন্সিলর প্রার্থী জামালউদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা  এতে আহত হয়েছেন ৬ জন। ১২ই ডিসেম্বর নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বিএনপির প্রার্থী জহিরউদ্দিনের নির্বাচনী বৈঠকে হামলা ও গুলি বর্ষণ চালিয়েছে সরকার দলের সমর্থকরা। এতে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। গত ১৬ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দীন খান বিরোধী নেতাকর্মীদের হুমকি দেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,  ‘আজকের এই নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর পর থেকে কোনো ওয়ার্ডে যদি কোনো বিএনপি, কোনো জামায়াত, কোনো ধানের শীষের লোক ভোট চায়, তাহলে অবশ্যই সেই ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দকে জবাবদিহি করতে হবে। কেন জামায়াত-শিবিরের লোক সেই ওয়ার্ডে ভোট চাবে।’ গত ১৫ই ডিসেম্বর  বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান মোল্লার গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নারী কর্মীদের হুমকি দেয়া হয়েছে।  এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত রোববার রাজশাহীর তাহেরপুরে বিএনপির প্রার্থী আবু নঈম শামসুর রহমানকে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। জেলার  কাঁটাখালী বিএনপি নির্বাচনী কমিটির সদস্য সচিব এজেন্ট মনিরুজ্জামান দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের মিরেরসরাই ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। রারৈয়ারহাটে বিএনপি প্রার্থী মঈনউদ্দিন লিটনের ছোট ভাই গণসংযোগকালে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী তার ওপর হামলা করে মাথা মারাত্মকভাবে জখম করেছে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানা বিএনপির সভাপতি কায়সার মাহমুদ রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গত ১৮ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু ও শৈলকুপায় সরকারি দলের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রমণ ও লুটতরাজ চালাচ্ছে। ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। জয়পুরহাট সদরে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে পুলিশ হুমকি দিচ্ছে এবং নির্বাচনী পোস্টার তুলে ফেলছে। চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুল আমিনকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। তার মাইক কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটায় ধানের শীষের প্রার্থী মল্লিক মো. আইয়ুবকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে।
 গত ১৬ই ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাজি মোমতাজের সমর্থক ও ভোটারদেরকে যৌথবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। রাজশাহী বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী শামসুর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী প্রচারণায় মারাত্মকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে বিএনপি প্রার্থী মিন্টুকে ভোট না দেয়ার জন্য ব্যাপক হুমকি দেয়া হয়েছে।

ব্লাটার-প্লাতিনি নিষিদ্ধ ৮ বছর

অবশেষে জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। সব ধরনের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ডে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সেপ ব্লাটার ও মিশেল প্লাতিনি। ফিফার এথিক্স কমিটির তদন্ত শেষে গতকাল এমন রায় দেয়া হলো। এ ছাড়া ব্লাটারকে ৪০ হাজার ডলার ও প্লাতিনিকে ৫৪ হাজার ডলার অর্ধ জরিমানা করা হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব অ্যারবিট্রেশন ফর স্পোর্টস-এ তারা দুজনই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। ১৯৯৮ থেকে টানা ৫ বারের ফিফার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার। আর তিনবারের ইউরোপ-সেরা ফুটবলার মিশেল প্লাতিনি ২০০৭ থেকে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউয়েফা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ৬০ বছর বয়সী ফ্রান্সের সাবেক এ ফুটবলারকে ফিফার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে তারা দুজনই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন। ২০১১ সালে মিশেল প্লাতিনিকে সেপ ব্লাটার অবৈধভাবে ফিফার ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা নিষিদ্ধ হলেন। যদিও তারা দুজনই বলেছেন মৌখিক চুক্তিতে ওই অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। ফিফার এই দুই কর্মকর্তা ছাড়াও সংস্থাটির আরও ৩৯ জন কর্মকর্তাকে আটক করে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ নির্বাচনে তাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ।
তাদের নিষেধাজ্ঞায় ফিফার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হওয়ার তালিকায় রইলেন বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইবরাহিম আল খেলাইফি, দক্ষিণ আফ্রিকার টোকিও সেক্সওয়াল, জর্ডানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসাইন, ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত সুইস নাগরিক জিয়ানি ইনফান্তিনো ও ফ্রান্সের জেরোম শ্যাম্পেইন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয় ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার ও সহ-সভাপতি মিশেল প্লাতিনিকে। গত অক্টোবরে এ শীর্ষ দুই ফুটবল কর্তাকে বরখাস্ত করে ফিফার এথিকস কমিটি। এ সময় ব্লাটার-প্লাতিনির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন সুইজারল্যান্ডের এটর্নি জেনারেল মাইকেল লাউবার।

সংখ্যালঘুরা রাজনীতির ‘দাবার ঘুঁটি’

 বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা রাজনীতির মাঠে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক  অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়তই রাষ্ট্রীয় নিগ্রহের স্বীকার হচ্ছেন। যে কারণে অব্যাহত সীমাহীন বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা হারিয়ে যাচ্ছেন না, তাদের হারিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। রোববার মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
রানা দাসগুপ্ত বলেন, সম্প্রতি দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, রাসমেলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একেকটি ঘটনা ঘটে আর বলা হয় এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আবার এখন বলছে এগুলো জেএমবির কাজ। এতে প্রমাণিত হয় এসব ঘটনা ঘটার আগের এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল না। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের সবার স্বার্থেই এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি বলেন, দেশে আইএস আছে কি নেই, এ বিতর্ক অর্থহীন। তবে, আমি মনে করি বাংলাদেশে আইএস না থাকলেও আইএস ও আল-কায়েদা প্রভাবিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। তারা এখনও সক্রিয় রয়েছে।
রানা দাস গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সীমাহীন আত্মত্যাগ করেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সে সময় দেশে যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার প্রায় সব গণহত্যার ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, স্বাধীনতাযুদ্ধে এত ত্যাগ স্বীকার করার পরেও স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হিসেবে তারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়েও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ৪৪ বছর পরে দেশের ধর্মীয় জাতিগত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সীমাহীন বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিপীড়নের স্বীকার হয়ে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রায় তিন দশক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ক্ষমতায় থেকেছে। জিয়াউর রহমান জামায়াতসহ প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। তখন থেকেই তথাকথিত ভারত বিরোধিতার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন রীতিমতো নিয়মিতভাবেই হয়ে আসছে। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ নিয়ে সৃষ্ট দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতেও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিপীড়ন করাসহ তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুরা চরম নির্যাতনের মুখে পড়েন। এমনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দেয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ অত্যাচার, নির্যাতনের ধারা অব্যাহত থেকেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ ধারা অব্যাহত আছে।
বিদ্যমান রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৪৭-এ দেশ ভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘুর হার ছিল ২৯.৭ ভাগ। একাত্তরের প্রাক্কালে এ হার ছিল শতকরা ২০ ভাগের বেশি। বাংলাদেশ পপুলেশন স্ট্যাটিস্টিক্যালি ব্যুরোর হিসাবে নিঃসরণ হতে হতে বর্তমানের এ সময়ে তা ৯.৭ ভাগে নেমে এসেছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর হার ৯৮.৬ থেকে বর্তমানে তা ৪৮ ভাগে নেমে এসেছে। অর্থাৎ নিজ ভূমিতেও তারা সংখ্যাগুরু থেকে সংখ্যালঘুতে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে ‘দেশত্যাগ’ বিষয়টি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হচ্ছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ, অধিকার, নিরাপত্তা সর্বোপরি অস্তিত্ব নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করছে এ অঞ্চলের শান্তি, অগ্রগতি, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা। তাই সংখ্যালঘু নিঃসরণের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের সংস্কৃতি যদি হারিয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কোন বাংলাদেশের চিত্র দেখবো? এ বাংলাদেশ হবে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের হারিয়ে যাওয়া মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল রাজনীতির চেতনা হারিয়ে যাওয়া। শুধু সরকার নয়, সবাইকে এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ঐক্য পরিষদের এ নেতা বলেন, মুখে বললেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে মনে অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শিক চেতনা ধারণ করেন না। এসব ধারণ করার নামে তাদের অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ সব ধর্ম বর্ণের মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছু আওয়ামী লীগার আছে যারা মনে করেন, হিন্দুরা দেশে থাকলে ভোটটা আমার। আর চলে গেলে জমিটা আমার। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত মনে করে হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করলে ধর্মও বাঁচবে, দেশও বাঁচবে। তারা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চায়। তাদের মূল লক্ষ্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া। এই হলো রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি। তবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কোনো কমতি নেই। তিনি নিজেও সুবিধাবাদীদের ‘পরগাছা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমার মতে, সরকারি দলের যেসব নেতা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জায়গা, জমি দখল করেছেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান দৃশ্যমান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ওলামা লীগ নামের একটি সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে নিজেদের দাবি করে। কিন্তু একজন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে তারা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতও কোনো মন্তব্য করেনি। তাহলে এরা কারা? মূলত এরাই আগাছা। সরকারের নাম ভাঙিয়ে এরা সরকারেরই বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয় এরা খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মা। তাই এদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রানা দাসগুপ্ত। ১৯৬২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়াসহ বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৮৬ সালে আইন পেশায় নিযুক্ত হন রানা দাসগুপ্ত। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা উন্মুক্ত

অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। ওমরাহর নামে মানব পাচারের অভিযোগে নয় মাস ধরে বন্ধ ছিল এই ভিসা। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হুসাইন। এর আগে ১৪ই ডিসেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে ওমরাহ ভিসা চালু করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আনোয়ার হুসাইন সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছরের ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৭০টি হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের তিন শ’ হজ এজেন্সি থাকলেও ২০৪টির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাদের ওমরাহ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে মানব পাচারের অভিযোগে ৯৫টি এজেন্সিকে শাস্তি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানা ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২৬টি এজেন্সিকে আর্থিক জরিমানা এবং ৯টি এজেন্সির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে হাব ও আটাবের বর্তমান এবং সাবেক নেতাদের এজেন্সিও রয়েছে।  এব্যাপারে হাবের সভাপতি ইবরাহিম বাহার বলেন, মন্ত্রণালয়ের তরফে অভিযুক্ত এজেন্সির নাম ঘোষণা করে তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। ৮ই ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই চিঠির যথাযথ জবাবসহ অভিযোগের পুনঃশুনানির আবেদন দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওমরাহর নামে মানবপাচারের অভিযোগে সৌদি সরকার নয় মাস যাবৎ ওমরাহ ভিসা বন্ধ রেখেছে। সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও ওমরাহ ভিসা চালু করা যাচ্ছিল না। এ পর্যায়ে সরকার অভিযুক্ত এজেন্সিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হয়। তারাই ধারাবাহিকতায় ১০৪টি এজেন্সির নামে তদন্ত করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়। এব্যাপারে গত ১৮ই নভেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ১০৪টি ওমরাহ এজেন্সির পাঠানো যাত্রীদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৮৫ জন ফেরত আসেনি। এসব এজেন্সির অভিযোগ তদন্ত করে ৯৫টি এজেন্সিকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আর ৯টি এজেন্সির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওদিকে গত মাসে সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসা চালু করতে বাংলাদেশের ৬টি এজেন্সি উদ্যোগী হয়েছে। আর এ উদ্যেগের সহযোগী হয়েছে সৌদি আরবের ওমরাহ  এসোসিয়েশনের সদস্য এবং দেশটির কাছওয়া হজ ও ওমরাহ সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ১৮ই নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কাছওয়া হজ ও ওমরাহ’ সার্ভিসের পরিচালক রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে ওই ৬ এজেন্সির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং ওই ৬টি এজেন্সি পবিত্র ওমরাহ পালনে লোক পাঠাতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। দুই পক্ষের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের ওমরাহ এসোসিয়েশনের সদস্য কাছওয়া হজ ও ওমরাহ সার্ভিসের পরিচালক রিয়াজ মাহমুদ বলেছিলেন, সৌদি আরব সরকার ওমরাহ ভিসা বন্ধ করেনি। কিছু মানব পাচারকারীর কারণে এটা বন্ধ ছিল। এখন থেকে ওমরাহ ভিসা চালু হবে এবং বাংলাদেশিরা নির্বিঘ্নে ওমরাহ পালন করতে পারবেন। তবে যারা মানবপাচার করেছে তাদের এজেন্সি ওমরাহ পালনে লোক পাঠাতে পারবে না। বাংলাদেশের সরকারও এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আলোচনায় তেল

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমেছে কয়েক দফা। তেলের মূল্য বর্তমানে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু দেশের বাজারে সুফল পাননি ভোক্তারা। বরং দীর্ঘদিন উচ্চমূল্যের ওপর স্থির থেকে সুযোগ বুঝে বেশ কয়েকবার দাম বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েক দিনেও পামঅয়েল, সুপার অয়েল ও খোলা সয়াবিন তেলের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বেপরোয়া মুনাফা করছেন তারা। বর্তমানে পামঅয়েলের প্রতি কেজি আমদানিমূল্য মাত্র ৩৭ টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর সয়াবিন তেলের প্রতি কেজির আমদানিমূল্য পড়ছে ৪৬ টাকা। অথচ ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারের ভোগ্যপণ্যের মূল্য তদারকি প্রতিষ্ঠান ‘ইনডেক্স মুন্ডির’ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে প্রতি টন পামঅয়েলের মূল্য কমেছে ১২২ ডলার ৯২ সেন্ট। আর প্রতি টন সয়াবিন তেলের মূল্য কমেছে ১৪৭ ডলার ৭৯ সেন্ট। অথচ এ সময়ে দেশের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমেনি বরং বেড়েছে। ভোজ্য তেলের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ সয়াবিন তেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমেছে, কিন্তু আরও অনেক খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে খুব বেশি লাভে বিক্রি করতে পারি না। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের ব্যাপকভাবে দাম কমায় দেশের বাজারেও দাম কমা দরকার। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম জানান, ভোজ্য তেলের দাম আরও কম হওয়া দরকার। কিন্তু মিলমালিকরা না কমানোয় বাজারেও কমছে না। কারণ বিশ্ববাজারে এখন ভোজ্য তেলের দাম অনেক কম।
ইনডেক্স মুন্ডির তথ্যে দেখা গেছে, গত জুন থেকে প্রতি মাসেই ভোজ্য তেলের দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে জুন মাসে প্রতি টন সয়াবিন তেলের মূল্য ছিল ৭৩৮ ডলার ৪ সেন্ট বা ৫৭ হাজার ৫৬৭ টাকা (১ ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)। জুলাইয়ে তা নেমে দাঁড়ায় ৬৯৫ ডলার ৭৯ সেন্ট বা ৫৪ হাজার ২৭১ টাকা। আগস্টে প্রতি টনের মূল্য হয় ৬২৮ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৪৯ হাজার ৪২ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে মূল্য দাঁড়ায় ৫৯০ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৪৬ হাজার ৩৯ টাকা।
একইভাবে গত জুনে বিশ্ববাজারে প্রতিটন পামঅয়েলের মূল্য ছিল ৬০৬ ডলার ৪০ সেন্ট বা ৪৭ হাজার ২৯৯ টাকা। জুলাইয়ে মূল্য কমে হয় প্রতি টন ৫৭৫ ডলার ৬৮ সেন্ট বা ৪৪ হাজার ৯০৩ টাকা। আগস্টে দাম হয় ৪৮৪ ডলার ৬৮ সেন্ট বা ৩৭ হাজার ৮০৫ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে মূল্য কমে হয় ৪৮৩ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ৩৭ হাজার ৭১২ টাকা।
আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজার থেকে যে মূল্যে সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় তার সঙ্গে ভ্যাট, বন্দর খরচ ও রিফাইন খরচসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হবে। সে হিসেবে আমদানি মূল্যের সঙ্গে প্রতি কেজিতে যুক্ত হবে আরও ৪ থেকে ৫ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের আমদানিমূল্য ৪৬ টাকা পড়ে এর সঙ্গে ৫ টাকা যোগ করা হলে প্রতি কেজির মূল্য পড়ে ৫১ টাকা। আর প্রতি কেজি পামঅয়েলের মূল্য পড়ে ৪২ টাকা। কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ ও পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আর সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে, বাজারে এখন প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ১০০ ও পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। কিন্তু টিসিবির মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য আরও বেশিই থাকে। ট্যারিফ কমিশনের হিসাব মতে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ পামঅয়েল ও ৩২ শতাংশ সয়াবিন তেল। বাকি ৩ শতাংশ সরিষাসহ অন্যান্য তেল ব্যবহার করা হয়। ২০১৪ সালে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টন পাম ও ৬ লাখ ২৭ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়। কিন্তু এখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি। পামঅয়েল বেশি আমদানি করা হলেও বাজারে ৮০ শতাংশই সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি করা হয়।
দেশের বাজারে মূল্য না কমিয়ে দ্বিগুণ লাভ করার বিষয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কয়েকজন আমদানিকারক দেশে আমদানি ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। কারণ আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগী থাকলে এমন হতো না। বেশ কিছু পণ্যের দাম সারা বছর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আগের বছরের তুলনায় বর্তমানে পণ্যবাজার স্থিতিশীল বলে মনে করেন তিনি।
ভোগ্যপণ্যের মূল্য তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১১ সালে ট্যারিফ কমিশন ভোজ্য তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। চার বছর আগে যেহেতু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেহেতু এখন নতুন করে আবার মূল্য পুনর্নির্ধারণের সময় এসেছে। তা ছাড়া বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমলে এর সুফল অবশ্যই দেশের ভোক্তার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
এ ছাড়া দেশি মসুর ডাল জানুয়ারিতে ছিল প্রতি কেজি ১০০ টাকা। ৫ দফায় দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা। বিক্রেতা বোরহান উদ্দিন বলেন, মসুর ডালে বস্তায় বেড়েছে প্রায় ৬০০ টাকা। আর চিনির বস্তায় বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। চালের দাম বেড়েছে ৩ দফায়। হরতাল-অবরোধের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক আসতে পারেনি, সিন্ডিকেট ও পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় চালের দাম বাড়তে থাকে। পাইকারি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, পাটের বস্তা একদিকে সংকট অন্যদিকে দাম বেশি। প্লাস্টিকের একটা বস্তা কেনা যায় ২০ টাকায়। কিন্তু পাটের বস্তা ক্রয়ে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এসব বাড়তি দাম চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থির ছিল না। দফায় দফায় পণ্যের দাম বেড়েছে। বছরের প্রথম তিন মাস হরতাল-অবরোধে ছিল নাকাল। প্রায় ৯০ দিন সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকা ছিল বিচ্ছিন্ন। এতে দুই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। একদিকে রাজধানীতে পণ্য অতিমূল্যায়িত হয়। অন্যদিকে গ্রামে টনে টনে পণ্য পচে যায়। ঢাকায় পণ্য পাঠাতে পারেননি বলে অর্থনৈতিকভাবে চরম লোকসানে পড়েন কৃষকরা। কিছুদিন পুলিশি পাহারায় পণ্যবাহী ট্রাক এলেও তা ছিল চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত এবং শেষ পর্যন্ত থেমে যায়। ফলে বেশির ভাগ পণ্য খেতেই নষ্ট হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর ভোক্তারা চড়া দামে পণ্য কিনে খেতে হয়। গ্রামের কৃষক পণ্যের দাম পায়নি। অথচ ঢাকার ভোক্তারা পণ্যের অতি দামে বিরক্ত। এভাবে উভয় পক্ষ ঠকেছে।

গৃহকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৬ সপ্তাহ, শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন

মহিলা ও পুরুষ গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি’র মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি গৃহশ্রমিক তাদের কাজের জন্য সরকারি স্বীকৃতি পাবেন। একই সঙ্গে স্ব-বেতনে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও অন্য ছুটি ভোগ করতে পারবেন গৃহকর্মীরা। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদিত ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি, ২০১৫’-এ বলা হয়েছে, প্রত্যেক মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, চাকরি অপসারণের ক্ষেত্রে এক মাস আগে না জানালে ৩০ দিনে মজুরি প্রদান, নারী গৃহকর্মীর মাতৃত্বকালীন সময়ে স্ব-বেতন ১৬ সপ্তাহ ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণসহ শ্রম আইন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন গৃহকর্মীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ নীতিমালা অনুমোদন পাওয়ায় শ্রম আইন অনুযায়ী গৃহকর্মীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সর্বনিম্ন ১৪ বছরের কাউকে গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া যাবে। তবে ১২ বছর বয়সের কাউকে গৃহকর্মী রাখতে হলে তার আইনানুগ অভিভাবকের সঙ্গে তৃতীয় কোনো পক্ষের উপস্থিতিতে নিয়োগকারীকে আলোচনা করতে হবে। গৃহকর্মীদের শ্রম ঘণ্টা এবং বেতন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। এ নীতিমালা অনুমোদনের ফলে গৃহকর্ম শ্রম হিসেবে স্বীকৃত পাবে এবং চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন গৃহকর্মীরা। নীতিমালায় গৃহকর্মীদের বিশ্রামের পাশাপাশি বিনোদনের সময় দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের বহু অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্যাতন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে, গৃহকর্মীদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো কথা এ খসড়া নীতিমালায় নেই। এ ক্ষেত্রে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা সাপেক্ষে বেতন নির্ধারণ করবেন। একই সঙ্গে শ্রম ঘণ্টার বিষয়টিও নিয়োগকর্তা এবং গৃহকর্মী আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক করবেন। নীতিমালায় সাপ্তাহিক বা মাসিক ছুটির কথাও উল্লেখ করা হয়নি। দেশে কতজন গৃহকর্মী আছেন তার কোনো হিসাব সরকারের কাছে নেই। কিন্তু, এ নীতিমালা অনুযায়ী গৃহকর্মীদের জন্য আলাদা তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলবে সরকার। গৃহশ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০ লাখের বেশি গৃহশ্রমিক রয়েছেন। অনুমোদিত নীতিতে গৃহকর্মীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, গৃহকর্মী বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বোঝাবে যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন। এ ক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও গৃহ হিসেবে বিবেচিত হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গৃহকর্মী নীতিমালা সময়ের দাবি ছিল। নীতিমালাটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় ভালো লাগছে। এ সরকার দেশের সব মানুষের কথা চিন্তা করে। এটা শুধু কথার কথা নয়, কাজ করেই আমরা প্রমাণ করছি।গৃহকর্মীদের সুবিধা: অনুমোদিত নীতি অনুযায়ী গৃহকর্মীদের জন্য শোভন কাজ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশ্রাম, বিনোদন এবং ছুটির অধিকার দান, একজন শ্রমিক হিসেবে যা যা দরকার একজন গৃহকর্মীকে তার সব সুবিধা দিতে হবে নিয়োগকর্তাকে। মহিলা গৃহকর্মীরা মাতৃত্বকালীন সময়ে প্রসবের আগে চার সপ্তাহ এবং পরে ১২ সপ্তাহ মিলিয়ে মোট ১৬ সপ্তাহ স্ব-বেতনে ছুটি কাটাতে পারবেন। ১২ বছর বয়সীদের আইনানুগ অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। তবে, ১৮ বছরের আগ পর্যন্ত তাদের হালকা কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। গৃহকর্মীদের কর্মঘণ্টা বিন্যাসে পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, চিত্তবিনোদন এবং প্রয়োজনীয় ছুটির ব্যবস্থা রাখতে হবে। অসুস্থ গৃহকর্মীকে নিয়োগকর্তা নিজের দায়িত্বে চিকিৎসা করাবেন। গৃহকর্মী ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মীর কোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মালিককে।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিরোধীরা ৭০ ভাগ ভোট পাবেন

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নখ-দন্তহীন। পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের সকল পর্যায়ের ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করে এ কমিশন আবারও প্রমাণ করেছে তাদের কোন ক্ষমতা নেই। সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিরা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা কেউ কি নির্বাচন কমিশনকে পাত্তা দেয়? নাকি নির্বাচন কমিশন তাদের কারও কিছু বাতিল করতে পারবে? ব্যারিস্টার আন্দালিব বলেন, এ নির্বাচন কমিশন তো অনেক আগেই তাদের যোগ্যতা দেখিয়ে দিয়েছে। এতদিন যেহেতু বিএনপি এ কমিশনকে অযোগ্য বলে দাবি করে আসছিল এজন্য তারা তাদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেনি। আজ তারা স্বীকার করছে। কারণ সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান লাগামহীন হয়ে গেছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ৭০ ভাগ ভোট পাবেন বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থীরা। সুতরাং, ভোট যত কম কাস্ট হবে তত আওয়ামী লীগের লাভ। এজন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন, মোটরসাইকেলে হুঙ্কার চলছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কিছুই করতে পারবে না। শুধুমাত্র লাইন দিয়ে ভোট দেয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বুঝায় না। আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো- মানুষের তো এ অধিকারই এখন আর নেই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অর্ধেকের নামেই মামলা রয়েছে। সরকারের আগের ও পরের ভূমিকা দেখে বাকি নেতাকর্মীরাও ৩০ তারিখের ভোট গ্রহণের পরে মামলার ভয়ে মাঠেই নামছে না। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভই আছে গণমাধ্যম। যারা গণমাধ্যমকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিতে চায় না তারা গণতন্ত্রের যেটুকু শ্বাস আছে সেটিকেও গলাটিপে মারতে চায়। ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকে অবাধ প্রবশাধিকার দেয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যমকে ঢুকতে না দেয়ার ইচ্ছা, বাসনা প্রকাশ করার মানেই হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

‘সুযোগ দিলে সেরাটা দেবো’

পাকিস্তান প্রিমিয়ার লীগে (পিসিএলে টি-২০) সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে সাকিব আল হাসানের আইপিএল, বিগব্যাশ, সিপিএল, এসএলপিএলে খেললেও তামিম ইকবালের খেলার অভিজ্ঞতা আছে শুধু সিপিএলে।  সেন্ট লুসিয়ার হয়ে ২০১৩ সালে সিপিএলে খেলেন তিনি। তামিম অবশ্য আইপিএলে পুনের হয়ে সুযোগ পেলেও মাঠে নামতে পারেনি। অন্যদিকে তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের এক বিপিএল ছাড়া  দেশের বাইরে আর কোনো  ঘরোয়া টুর্নামেন্টেই খেলা হয়নি। তবে লাহোরের হয়ে মুস্তাফিজ খেলবে দেশের বাইরে তার প্রথম টি-টোয়েন্টি আসরে। এই বছরই দেশের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমে টি-টোয়েন্টি এরপর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। তিন ফরমেটের ক্রিকেটেই তিনি অভিষেক ম্যাচ থেকেই বল হাতে দেখিয়েছেন  রেকর্ড আর চমক। মাত্র ৬ ওয়ানডে খেলেই আইসিসির ওয়ানডে দলের বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে নেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল টি-২০) খেলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে। তবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তিনি। ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪টি উইকেট। এর মধ্যে সেরা শিকার ১৪ রানে ৩টি উইকেট। তাই বিপিএলের পর পিসিএলকে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই মনে করেছেন। পিসিএলে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে মুস্তাফিজ মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে সুযোগ পেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে। যে কোনো বড় সুযোগই ভালো লাগার বিষয়। আশা করি সুযোগ কাজে লাগাতে পারবো।’
লাহোরের হয়ে ক্রিস গেইলের দলে খেলবেন মুস্তাফিজুর রহমান। দেশের বাইরে বড় টুর্নামেন্ট খেলাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন তিনি। মুস্তাফিজ বলেন, ‘এটি আমার দেশের বাইরে বড় কোনো টুর্নামেন্ট হবে। তাই চ্যালেঞ্জতো অবশ্যই। আর এটিও সত্যি যে আমার জন্য যে কোনো ম্যাচেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ থাকে।’ বিপিএলে যতটা আশা করা হয়েছিল তার কাছে ততোটা করে দেখাতে পারেননি তিনি। তবে খুব যে খারাপ করেছে তাও নয়। বিপিএলে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও পাকিস্তানের সিপিএলে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে প্রস্তুত মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘যদি তারা আমাকে খেলার সেভাবে সুযোগ দেয় তাহলে আমি চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেয়ার।’
এই পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। পেয়েছেন ৬টি উইকেটও। এর মধ্যে সেরা শিকার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ রান খরচ করে দুটি উইকেট। এ ছাড়াও পাকিস্তানের বিপক্ষেও অভিষেক ম্যাচে ২০ রানে নিয়েছিলেন ২টি উইকেট। বল হাতে মুস্তাফিজের ভয়ঙ্কর অস্ত্র কাটার। মুস্তাফিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির শিকার ছিল পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও দ্বিতীয় শিকার হয়েছিলেন পাকিস্তানের আরেক তারকা ক্রিকেটার মো. হাফিজ।
পিসিএলে সাকিব খেলবেন করাচি কিংসে। তামিম খেলবেন শহীদ আফ্রিদির পেশওয়ারে। এ ছাড়াও  এই দেশের আরও ৭ ক্রিকেটার আছেন পিসিএলের তালিকাতে।

সাকিবে আলাদা নজর

আইকন খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম ছিল না তার। তবে সাকিব আল হাসানের উচ্চতাটা প্রকাশ পেলো পরিষ্কারই। লটারির প্রথম পর্ব ছিল পাঁচ আইকন খেলোয়াড়কে নিয়ে। এতে প্রত্যেক দল বেছে নেয় একজন করে আইকন খেলোয়াড়। প্লাটিনাম ক্যাটাগরির আদতে মূল লটারিটা ছিল এর পর পরই। আর এমন লটারিতে সবচেয়ে চাহিদার খেলোয়াড়টি বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। গতকাল অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি সুপার লীগের (পিএসএল) খেলোয়াড় ড্রাফট। ৩১০ খেলোয়াড় নিয়ে এ লটারির প্রথম দিন শেষে পিএসএলের পাঁচ দলে নাম লিখলেন ৪৫ ক্রিকেটার। এতে পিএসএলের ফ্রেঞ্চাইজিরা ইতিমধ্যে দলে টেনেছে বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারকে। সাকিব ছাড়াও দল পেয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও তরুণ পেস তারকা মুস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় শীর্ষ ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরিতে দলভুক্ত হন তামিম-মুস্তাফিজ। তবে গোল্ড ক্যাটাগরির অপর তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম, সৌম্য সরকার ও শাহরিয়ার নাফিস পিএসএল লটারিতে দল পাননি। তবে পরেও সুযোগ মিলতে পারে তাদের। গতকাল পাকিস্তান সুপার লীগের খেলোয়াড় ড্রাফটে  প্রথম সুযোগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শহিদ আফ্রিদিকে দলে ভেড়ায় পেশোয়ার জালমি। করাচি কিংস শোয়েব মালিক, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড শেন ওয়াটসন, কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স কেভিন পিটারসেন ও লাহোর কালান্দার ক্রিস গেইলকে দলে ভেড়ায় আইকন খেলোয়াড় হিসেবে। লটারিতে ষষ্ঠ সুযোগটি পায় করাচি কিংস। তারা দলভুক্ত করে নেয় সাকিব আল হাসানকে। এজন্য করাচি কিংসকে গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় কোটি টাকা। সেখানে শীর্ষ ড্রাফট ‘প্লাটিনাম’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্লাটিনাম গ্রুপের খেলোয়াড়দের মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র সাকিবই প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় শীর্ষ ‘ডায়মন্ড‘ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের কারও নাম ছিল না। তবে ‘গোল্ড’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান, মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফিস। আজ অনুষ্ঠিত হবে খেলোয়াড় ড্রাফটের দ্বিতীয় পর্বের লটারি। এতে দলগুলো খেলোয়াড় বেছে নেবে সিলভার ও ইমার্জিং ক্যাটাগরি থেকে। আজ এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের আলাদা নজর থাকছে। আসন্ন পিএসএল লটারিতে এ পর্বে সিলভার ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও এনামুল হক বিজয়। গোল্ড ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের দাম ৫০ হাজার ও সিলভার ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২৫ হাজার ডলার। সিলভার ক্যাটাগরি থেকে ৫ খেলোয়াড়কে আজ দলভুক্ত করবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আর তরুণ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ‘ইমার্জিং’ ক্যাটাগরির দুজন খেলোয়াড় দলভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। গতকাল শীর্ষ তিন ক্যাটাগরি থেকে তিনজন করে মোট ৯ ক্রিকেটারকে দলভুক্ত করেছে প্রতিটি ফ্রেঞ্চাইজি। এতে প্রতি দলে কমপক্ষে চার পাকিস্তানি ও ৪ বিদেশি খেলোয়াড় বেছে নেয়াটা ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য বাধ্যতামূলক। লটারিতে প্রত্যেক দল বেছে নেবে ১৬ জন করে খেলোয়াড়। তবে পরে প্রত্যেক দল আরও চারজন করে খেলোয়াড় দলভুক্ত করতে পারবে। পিএসএল লটারির প্রথম দিন দল পেলেন আন্তর্জাতিক অভিষেক না হওয়া তিন ক্রিকেটার কেভন কুপার, ডেলপোর্ট ও এলানবি। সদ্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) বল হাতে সর্বাধিক ২২ উইকেট শিকার ক্যারিবীয় পেসার কুপারের। পাকিস্তান সুপার লীগের পর্দা উঠছে আগামী বছর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি।
ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
প্লাটিনাম: শেন ওয়াটসন (প্রথম বাছাই, অস্ট্রেলিয়া), আন্দ্রে রাসেল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মিসবাহ উল হক
ডায়মন্ড: স্যামুয়েল বদ্রি (ও ইন্ডিজ), মোহাম্মদ ইরফান, ব্র্যাড হ্যাডিন (অস্ট্রেলিয়া)
গোল্ড: শারজিল খান, মোহাম্মদ সামি, খালিদ লতিফ
হেড কোচ: ডিন জেন্স
করাচি কিংস
প্লাটিনাম: শোয়েব মালিক (প্রথম বাছাই), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), সোহেল তানভীর
ডায়মন্ড: ইমাদ ওয়াসিম, রবি বোপারা (ইংল্যান্ড), লেন্ডল সিমন্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
গোল্ড: মোহাম্মদ আমির, বিলাওয়াল ভাট্টি, জেমস ভিন্স (ইংল্যান্ড)
হেড কোচ: মিকি আর্থার
লাহোর কালান্দারস
প্লাটিনাম: ক্রিস গেইল (প্রথম বাছাই), ডোয়াইন ব্রাভো (ও ইন্ডিজ), উমর আকমল
ডায়মন্ড: মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইয়াসির শাহ, শোয়াইব মাকসুদ
গোল্ড: মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ), কেভন কুপার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ক্যামেরন ডেলপোর্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা)
হেড কোচ: প্যাডি উপটন
কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স
প্লাটিনাম: কেভিন পিটারসেন (প্রথম বাছাই, ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ, আহমেদ শেহজাদ
ডায়মন্ড: আনোয়ার আলী, জেসন হোল্‌্‌ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), লুক রাইট (ইংল্যান্ড)
গোল্ড: জুলফিকার বাবর, উমর গুল, এল্টন চিগুম্বুরা (জিম্বাবুয়ে)
হেড কোচ: মঈন খান
পেশোয়ার জালমি
প্লাটিনাম: শহিদ আফ্রিদি (প্রথম বাছাই), ওয়াহাব রিয়াজ, ড্যারেন স্যামি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
ডায়মন্ড: কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, ক্রিস জর্ডান (ইংল্যান্ড)।
গোল্ড: তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), জিম অ্যালানবি (অস্ট্রেলিয়া), জুনাইদ খান
হেড কোচ: মোহাম্মদ আকরাম

সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার

 আসন্ন পৌর নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব, আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন। সরকারি দলের প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন  করছে। শেখ হাসিনা নিজেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগ দেয়া হলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হবে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সেনা মোতায়েন করতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী দেবে না। সরকার সেনাবাহিনীকে মাঠে নামাতে চায় না। আমি বলে দিতে পারি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ পৌরসভায় ধীনের শীষের প্রার্থীরা জিতবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন সরকারের ফন্দি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার নির্বাচন ছিনতাই করে দেখাবে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে নেই। সব নৌকার পক্ষে। এখানেও সরকারের ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু তারা কি দেখছে নৌকা ডুবতে বসেছে। আমাদের নেতারা যেখানে প্রচারণায় যাচ্ছে সেখানেই মানুষ সাড়া দিচ্ছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কেন্দ্রে যাবেন, আমাদের প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন। ৫ই জানুয়ারির একতরফা জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে যায়নি। ভোটকেন্দ্রে কুকুর শুয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন করে তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন অংশ নিয়েছে বিএনপি? খালেদা জিয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয়ভাবে। সেখানে নির্বাচনের একটি আলাদা আমেজ আছে। সাধারণ মানুষ সেই ভোটে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। স্থানীয় সরকারের যেসব নির্বাচনে কিছুটা হলেও সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল সেখানে আমাদের প্রার্থীরা জিতেছে। কিন্তু সরকার তা সহ্য করতে পারেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করেছে। নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে অনির্বাচিতরাই দেশ চালাচ্ছে, নতুন নতুন আইন করছে। তিনি দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা সবাই আরেকবার জেগে ওঠি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের দিতে তাকাই। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে চলার সুযোগ করে দিই। সবাই জেগে ওঠলে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে শামিল হলে অত্যাচারি বিদায় হবে, দেশে শান্তি ফিরে আসবে। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা সত্য কথা লেখে তাদের সহ্য করতে পারে না আওয়ামী লীগ। একে খন্দকার বই লেখার পর তাকে বইটি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল। সে প্রত্যাহার না করায় তাকে মামলা থেকে শুরু করে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের মেয়েও বই লিখেছেন। অথচ এরা আওয়ামী লীগের কাছের লোক ছিলেন। আর আজ তাদের কাছের লোক হচ্ছে তারাই যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি কিন্তু এখন তাদের সহযোগিতা করছে। বর্তমান সরকার নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করছে। বলা হয়- এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। আসলে কত লোক শহীদ হয়েছে? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন দেশের প্রতি তাদের কোন মায়া নেই, দায়িত্ব নেই। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা চায়নি, তারা চেয়েছিল ক্ষমতা। তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। সেদিন জিয়াউর রহমান ডাক না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধে যারা সহযোগিতা করেছে আমরা তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তিনি বলেন, আমরাও বলেছি বিচার হতে হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সে বিচার হতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেদের ঘরে যুদ্ধাপরাধী পালছে। তারাই যুদ্ধাপরাধীকে প্রথম মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। জামালপুরের রাজাকার মন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের কথা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। তারা আমাদের দোষ দেয় আর নিজেদেরগুলো মুছে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনদিন সম্মান করতে পারেনি। নিজ দলের মধ্যেও যারা সত্য বলেছে তারা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান ও সম্মাননা দেয়া হবে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, নতুন প্রজন্মকে আপনাদের পুরোনো দিনের কথা বলতে হবে। এখন সত্যিকার ইতিহাসের বইপত্র লেখা যায় না, বাজারে পাওয়া যায় না। তাই আপনাদের বলতে হবে আওয়ামী লীগ ১৯৭১-৭৫ সালে কি করেছিল। ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সিরাজ সিকদারকে রক্ষীবাহিনী গঠন করে আটক করা হয়েছিল। তারপর তাকে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজ সিকদারের মাধ্যমে আওয়ামীই প্রথম ক্রসফায়ার শুরু করে। সেদিনও মানুষ গুম করাই ছিল আওয়ামী লীগের কাজ। আওয়ামী লীগকে বিশ্লেষণ না করলে বুঝা যাবে না তারা কত হিংস্র। বর্তমানে সারা দেশে গুম, ক্রসফায়ার ও গুলির ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারা দেশে প্রতিদিনই গুম-খুনের ঘটনা ঘটছে। তাদের কি দোষ? তারা কি মানুষ না। তারা কি আমাদের ভাই-বোন না। আজ কারাগারে কত লোক আছে, তার বেশির ভাগই বিএনপির। সরকার এসব করছে বিএনপিকে ধ্বংস করতেই। পিলখানা হত্যাকা ের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ফেব্রুয়ারিতেই এতবড় ঘটনা ঘটেছে। এটা ছিল সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়া ও বিডিআরকে ধ্বংস করে দেয়ার একটি পরিকল্পিত ঘটনা। শেখ হাসিনার হাতে রক্ত, রক্ত আর রক্ত। ফেব্রুয়ারিতে রক্তের দাগ লাগার পর থেকে আজও অব্যাহত আছে। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সময় মতো তাদের বিচার করবেন। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের ভয় দেখায় আমরা ক্ষমতায় গেলে কারও চাকরি থাকবে না। কিন্তু পুলিশের সবাই খারাপ নয়। প্রশাসনের লোকজনও সবাই খারাপ নন। আমরা জানি, তারা কোন দোষ করেনি। দোষ করেছেন শেখ হাসিনা। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকেই আমাদের জানায়, তারা অসহায়। উপরের নির্দেশ পালনে তারা বাধ্য হচ্ছেন। অন্যথা হলে তাদের চাকরি থাকবে না, মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যায়ভাবে কারও চাকরি যাবে না। দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতা এবং দক্ষতাই হবে চাকরি ও পদোন্নতির সোপান। আমরা দেশে গণতন্ত্রের ধারা ফিরিয়ে আনব। সুশাসন ও ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনবো। সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, দেশটা আজ কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। পরিণত করা হয়েছে লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে। পদ্মা সেতু তৈরি করা হবে। একটি দুই দুইটি পদ্মা সেতু তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেনের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা উল্লেখ করে সে সময়কার ক্ষমতা দখলকারীদের নানা নির্যাতনেরও সমালোচনা করেন। এর আগে বিকাল সোয়া ৫টায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে মুক্তিযোদ্ধারা অভ্যর্থনা জানান। পরে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে তাকে মেডেল ও ক্রেস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশসহ বিএনপির শীর্ষ নেতা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারতো

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সহায়ক শক্তি- সামরিক বাহিনী, এই দুয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে তাত্ত্বিক এবং নীতিগত তফাত যেমন ছিল না তেমনি সুদূরপ্রসারী কোন পরিকল্পনাও ছিল না। ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের পরিষদে দু’একজন ছাড়া এ বিষয় নিয়ে কেউ আলোচনা করেছেন বলে মনে হয় না। বেশ কয়েকবার সামরিক গোয়েন্দা প্রধান এমনকি সেনাপ্রধানের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করে সম্যক ধারণা পাইনি যে আসলে তারা কিভাবে কি সংস্কার করতে চাইছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে যা বুঝতে পেরেছিলাম তাতে মনে হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে দলগুলোর অভ্যন্তর হতেই একধরনের সংস্কারের সহযোগিতার আশ্বাসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একাংশ এবং সহায়ক শক্তি অতি উৎসাহী হয়ে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে এসব কাজে হাত দিয়েছিল। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন তার লেখা, ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ শীর্ষক বইয়ে এসব কথা লিখেছেন। পালক পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত বইয়ে তিনি আরও লিখেছেন, রাজনৈতিক দলের সংস্কার এবং সংস্কৃতির পরিবর্তনের হাওয়া থেকে আমরাও মুক্ত থাকতে পারিনি। যে কারণে তখনকার মূল্যায়নে আমরাও ভুল করেছিলাম আর সেটা ছিল বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়। ওই ঘটনায় স্বভাবতই বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের পর গুঞ্জন হচ্ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে, খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত তার দুই পুত্রকে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাবেন। সে কারণেই হয়তো তাঁকে তখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অবশেষে সেপ্টেম্বর ৩, ২০০৭ সালে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর সেনানিবাসের বাসা থেকে দ্বিতীয় পুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ গ্রেপ্তার করে সিএমএম কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আদালত থেকে কোকোকে রিমান্ডে এবং বেগম জিয়াকে সংসদ ভবন চত্বরে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের সময়ে পার্টির তরফ থেকে তেমন কোনো সোচ্চার প্রতিবাদ চোখে পড়েনি অথবা মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়নি। সম্ভবত বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে না পেরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারতো। আমার মনে হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার দেশে থাকার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার জন্য আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। খালেদা জিয়া বিদেশ চলে গেলে হয়তো শেখ হাসিনার দেশে থাকা সম্ভব হতো না।

সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা টিউলিপের

সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিকী। বৃটেনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করায় টিউলিপ এ কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় লাভের পেছনে সিলেটীদের অবদান অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও বৃটেনের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী গতকাল সকালে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সিলেটে যাত্রা বিরতিকালে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় টিউলিপ সিদ্দিকীকে ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সিলেটবাসী। সিলেট আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় টিউলিপ সিদ্দিকী বিজি-০০৬ একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান টিউলিপ সিদ্দিকী ও তার মা শেখ রেহানা। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় বিজি ০০৬ ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান টিউলিপের বরাত দিয়ে বলেন, ‘সিলেটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে টিউলিপ বলেছেন, ‘বৃটেনের নির্বাচনের সময় লন্ডনে অবস্থানরত সিলেটীরা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। তাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। নির্বাচনে জয় লাভের পরই আমি সিলেটে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম। অবশেষে আজ আমি আসলাম।’ এ সময় আওয়ামী লীগ নেতারা সিলেট ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানান টিউলিপকে। পরে তিনি বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে সিলেট আসবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। টিউলিপ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জানিয়ে কামরান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই টিউলিপ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী দিনেও তিনি দেশবাসীর দোয়ায় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চান।’ এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা। এ ছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া, সিলেটের পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার নুরে আলম মীনাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

‘সরকারের উন্নয়নের প্রচার সুশীল সমাজের দায়িত্ব নয়’

সরকারের উন্নয়নের প্রচার নয়, সমালোচনা করাই সুশীল সমাজের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। সুশীল সমাজ চাপে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে সুশীল সমাজ
বিতর্কিত। সুশীল সমাজের কাজ হলো সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করা নয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ব্র্যাক কমিউনিটি এমপওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যৌথভাবে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয়করণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতির বক্তব্যে আকবর আলি খান বলেন, এমডিজি বাস্তবায়ন সম্পর্কে যা শোনা যাচ্ছে তার বিপরীতটাও সত্য। আমরা অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পেরেছি সত্য। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু এখনও বাকি রয়ে গেছে। এমডিজির উন্নত রূপ এসডিজি বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনায় স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু বিপত্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আকবর আলি খান বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে সঠিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে হবে। বাস্তবে আমাদের দেশে কোনো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা  নেই। কারণ, স্থানীয় সরকার কখনও কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবাধীন হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে তো আমরা তা-ই দেখতে পাচ্ছি। উপজেলা পরিষদ এখনও এমপিদের পরামর্শ চলে। ইউপিগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের বেতনে চলে, তাদের টুকিটাকি কাজ বাস্তবায়নই তাদের অন্যতম ব্যস্ততা। সরকারের প্রভাব বলয় থেকে বেরুতে না পারলে স্থানীয় সরকার কাজ করতে পারবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রধান সমস্যা হলো বাল্যবিবাহ। এছাড়া শিক্ষা, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে সরকার ও এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। বৈঠকের শুরুতে আলোচনায় মূল বিষয় তুলে ধরেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে সরকার এই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন ঘটাবে। এমডিজি ছিল উন্নয়নশীল ও স্বপ্লোন্নত দেশগুলোর জন্য পরিকল্পনা। আর এসডিজির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই পরিকল্পনায় কেউ বাদ পড়েনি। উন্নত, উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নতসহ পৃথিবীর সব দেশের জন্য উপযোগী করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসডিজির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগের আট দফার পরিবর্তে এখন ১৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, যার আলোকে উন্নয়ন কাজ হবে। এর মধ্যে ১ থেকে ৭ নম্বর সাধারণ মানুষের জন্য, ৮ থেকে ১১ নম্বর অর্থনীতি বিষয়ক, ১২ থেকে ১৫ নম্বর পৃথিবী ও পরিবেশ বিষয়ক, ১৬ নম্বরে রয়েছে সমাজ বিষয়ক পরিকল্পনা এবং সর্বশেষ ১৭ নম্বরে রয়েছে অংশীদারিত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা। এসব দফার অধীনে আছে ১৬৯টি ধারা। তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালে জাতিসংঘ প্রণীত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসে। আগামী জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে আরও বৃহৎ পরিসরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) কর্মপরিকল্পনা; যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমডিজির কিছু পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এসডিজি নিয়ে কথা বলার আগে অবশ্যই সেই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবার সবকিছু স্থানীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে এতে। এমপিদের প্রভাব সর্বত্র। তারা সব জায়গায় ভাগ বসায়। তাদের জাতীয় সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে। অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানান। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, এসডিজির পরিকল্পনাগুলো সত্যিই জটিল ও বিশাল। তবে কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে এর বাস্তবায়ন সম্ভব। সফল বাস্তবায়নে সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রের সমন্বয়। কিছুদিন আগে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এক কর্মশালায় আমরা বিষয়গুলো বলেছি। সিভিল সোসাইটির কাজ করার ক্ষেত্রে এটা একটি বড় সুযোগ। তারা ওয়াচডগের ভূমিকার পালন করবে। তাদের অংশীদারিত্ব মনিটরিংকে আরও জোরদার করবে। গোলটেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন কয়েকজন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা।

সুসময়ে পরীমনি

পিরোজপুর জেলায় জন্মের আগেই পিতা মনিরুল ইসলাম মেয়ের নাম ঠিক করেন স্মৃতি। জন্মের পরে দেখতে পরীর মতো বলে পরীর নানু তাকে পরী বলে ডাকতে শুরু করেন। ছোট্ট পরীকে সবাই আদর করেই পরীর সঙ্গে মনি যোগ করে ডাকতে শুরু করে। এরপর সবার মুখে পরীমনি। আর এ পরীমনিই গত দুই বছরে হয়ে উঠেছেন ঢালিউডের অন্যতম ব্যস্ত নায়িকা। নায়িকা সংকটের এই সময়ে পরীর আগমন কিছুটা হলেও ঘাটতি মিটিয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। কারণ অভিনয়, নাচ, গ্ল্যামার, উচ্চতা, শারীরিক সৌন্দর্য, পারফরম্যান্স- এ সব মিলিয়ে একজন পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবেই পরীকে মানছেন তারা। নির্মাতারা এরই মধ্যে শাকিব খান, বাপ্পি, সাইমনসহ অনেকের সঙ্গে পরীকে জুটি করে ছবি নির্মাণ করছেন। বর্তমানে পরীমনির হাতে রয়েছে ১২টির মতো ছবি। সব মিলিয়ে পরীমনি এখন নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সুসময়ই পার করছেন। এদিকে সম্প্রতি গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এ নায়িকা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী এ ছবিটি ‘মনপুরা’র চেয়েও ভালো করবে। ছবিটির জন্য আমাকে অভিনয় ও নাচের জন্য আলাদা সময় দিতে হচ্ছে। এখানে সেলিম ভাই নিজে অভিনয়ের জন্য গ্রুমিং করাচ্ছেন। এদিকে এ ছবির জন্য পরীমনিকে ভিন্ন আঙ্গিকে নাচ শেখানোর জন্য গ্রুমিং করাচ্ছেন অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদের সহধর্মিণী নৃত্যশিল্পী স্নাতা শাহরিন। চাঁদপুরে এ ছবিটির শুটিং শুরু হবে কিছুদিন পরই। এদিকে গ্ল্যামার আর অভিনয় দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন পরী। কোনো ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই ২০টিরও বেশি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শাহ আলম মণ্ডলের ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবিতে সর্বপ্রথম কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর মাত্র এক বছরে ‘রানা প্লাজা’, ‘পাগলা দিওয়ানা’, ‘ইনোসেন্ট লাভ’, ‘পুড়ে যায় মন’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘ধূমকেতু’, ‘আপন মানুষ’,‘লাভার নাম্বার ওয়ান’, মহুয়া সুন্দরী, নগর মাস্তানসহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন। এক বছরেরও বেশি সময়ে এত বিপুলসংখ্যক ছবিতে কাজ করে রেকর্ডই গড়েন তিনি। সেই ধারাবাহিকতাটা বজায় রয়েছে এখনও। শীর্ষ নায়কদের বিপরীতেই তিনি এক ডজনেরও বেশি ছবিতে অভিনয় করছেন। এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, এটা ঠিক যে অল্প দিনের ক্যারিয়ারে আমি অনেক ছবিতে অভিনয় করেছি। দর্শকরা আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। এটা আমার জন্য বড় ব্যাপার। অনেকে বলে এখন আমার সুসময় চলছে। আমিও সেটা মনে করি বৈকি। তবে আরও ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করতে চাই। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই। নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে মেলে ধরার মতো চরিত্রে কাজ করাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সেভাবেই চলচ্চিত্রে পথটা চলতে চাই। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য।

একাত্তরের উদ্দীপনা: যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের তিরস্কার

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হকের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ আগামী অধিবেশনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। গত মাসে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর পাকিস্তান সরকারিভাবে এ নিয়ে যে জবাব দেয় তার বিরুদ্ধে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ওই মন্ত্রী। ইসলামাবাদ বলেছে যে, তারা ফাঁসি কার্যকর করায় গভীরভাবে বিক্ষুব্ধ। তারা দাবি করে যে, ১৯৭১ সালে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কোনো গণহত্যার ঘটনা ঘটে নি।
এটা বলতেই হবে যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় বাঙালিরা ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় করে যা বলতে হয় তাহলো বাঙালি গেরিলা মুক্তিবাহিনী লুটেরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যারা ছিল তাদের থেকে বেশি অস্ত্রে সজ্জিত। স্বাধীনতার যোদ্ধারা দেখতে পায় যে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে, ৪৪তম এ দিবসটি সম্প্রতি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ। উপরন্তু, অতি উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। আড়াই লাখের বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছে। তারা প্রায় এক কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের স্থানীয় দোসররা বাংলাদেশি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে।
পরাজিত শক্তি হিসেবে পাকিস্তান কখনও এই নৃশংসতা স্বীকার করে নেয় নি। পাকিস্তানিরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল সে বিষয় মানতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তানে যারা ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে তারা যুক্তি দেখান যে, ১৯৭১ সালে কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম হয় নি, হয়েছিল ভারতের সঙ্গে একটি যুদ্ধমাত্র। তার ফলে পাকিস্তানের অঙ্গ ছেদ হয়েছে। তাদের এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ ও স্বাধীনতা যোদ্ধাদের অবমাননা করা হয় বলে এর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিন্দা জানানো উচিত। এখন পর্যন্ত এ জন্য যেমন পাকিস্তান শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা করে নি, তেমনি তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় নি। এটা তাদের শোচনীয় এক অবস্থান।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ আদালতের চলমান বিচার ও পাকিস্তানের সহযোগীদের বিচারের বিষয়ে মানহানিকরভাবে নিন্দা জানাবে পাকিস্তান এটা বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নয়। সর্বোপরি, এসব সহযোগী নিজেদের ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের প্রতি অনুগত হিসেবে দেখেছে। কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের হত্যা, লুট ও ধর্ষণ চালিয়েছে। তাদের বর্বরতা, বিশেষ করে হিন্দু ও বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রতি যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার কোন সীমা নেই। এখন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে এসব সহযোগীর বিচার হচ্ছে, যা তাদের প্রাপ্য ছিল।
কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইসলামিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে দেয়া হয়। ইসলামকে বানানো হয় রাষ্ট্রীয় ধর্ম। আরও হতাশার বিষয় হলো, যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয় তাদেরকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দেয়া হয়। তাদের অনেকে সরকারের উচ্চ পদ দখল করে।
ইসলামিকরণের এই ধারা পাল্টানো প্রয়োজন। তা না হলে পাকিস্তানের পথে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দীপনা এখনও টিকে আছে তা দেখিয়েছে জনপ্রিয় শাহবাগ আন্দোলন। কিন্তু বাংলাদেশি ব্লগার ও বোদ্ধাদের ওপর কট্টরপন্থিদের বার বার হামলা ঝুঁকির বিষয়কে তুলে ধরে। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যুদ্ধ প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির নিন্দা জানানোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ যা করেছে তার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একে স্বাগতম।
বাংলাদেশকে ভয়ভীতিহীনভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মেজাজ, যা ১৯৭১ সালে পুরো প্রজন্মকে আচ্ছাদিত করেছিল।

৪ দশক পর ইরাকে সুন্দরী প্রতিযোগিতা

এটা ছিল ভিন্ন ধরনের এক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। আয়োজন জুড়ে ছিল না কোনো অ্যালকোহল। ছিল না বিকিনি পরে সুন্দরীদের শরীর প্রদর্শন। শালীনতায় মোড়া আয়োজনে এভাবেই ৪ দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সেরা সুন্দরী বেছে নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। ২০১৫ মিস ইরাক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় বাগদাদ হোটেলের বলরুমে। দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। কিরকুট শহরের ২০ বছর বয়সী সুন্দরী শায়মা আবদেল রহমান মিস ইরাক নির্বাচিত হয়েছেন। মিস ইরাক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর সেনাল কামেল বলেন, আমরা যেটা অর্জন করতে চাইছি তা হলো, ইরাকের বার্তা বিশ্বজুড়ে পৌঁছানো। এটা দেখানো যে, দেশটি এখনও বেঁচে আছে। এখনও এর হৃদয়স্পন্দন রয়েছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক হুমাম আল ওবেইদি বলেছেন, অনেকে মনে করেন এখানে আমাদের কোন জীবন নেই। ১৯৭২ সালে সর্বশেষ মিস ইরাক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৪ দশকেরও বেশি সময় পর এবারের আয়োজনে জুরিদের নির্বাচিত শায়মা ছিল দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয়। উচ্ছ্বসিত শায়মা বলেন, আয়োজনটা ছিল বিশাল আর এটা ইরাকিদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তিনি তার খ্যাতি ব্যবহার করে শিক্ষা উদ্যোগগুলো প্রচারণা করবেন। যুদ্ধ ও সংঘাতে বাস্তুচ্যুত বড় একটি জনসংখ্যার মধ্যে শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়াটা থাকবে প্রাধান্য। আরেক প্রতিযোগী বলেন, তিনি মসুলের বাঁধটি মেরামত করার চেষ্টা করবেন।

মুখ খুললেন লিন

 চীনা বংশোদ্ভূত মিস কানাডাকে শনিবার মিস ওয়ার্ল্ড সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা দেখতে হয়েছে টেলিভিশনে। অথচ তার থাকার কথা ছিল চীনে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে। বিশ্বের অন্য সব সুন্দরীর সঙ্গে। চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসা না দেয়ায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন অ্যানাস্তাসিয়া লিন। চীনে মানবাধিকার লঙ্ঘন চর্চা নিয়ে মুখ খোলেন ২৫ বছরের এই সুন্দরী। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ১২ বছর আগে মায়ের সঙ্গে কানাডা পাড়ি দেন লিন। এবারের মিস ওয়ার্ল্ডের ফাইনালের আগে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিন বলেন, আমার আমন্ত্রণ কখনই আসেনি। গত মাসে যখন তিনি হংকং থেকে চীনের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য ফ্লাইটে উঠতে যান, তখন তিনি জানতে পারেন তার নাম চীনে প্রবেশে নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের তালিকায়। লিন বলেন, চীনা সরকারের কাছে আমার কোন অস্তিত্বই নেই। আমাকে বলা হয়, কোন ব্যাখ্যা নেই। আপনি আসতে পারবেন না। তবে, ১০ হাজার মাইল দূর থেকেই মিস ওয়ার্ল্ডের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন লিন। ফাইনালের আগে ডাকা সম্মেলনে তিনি তার ও হুনান প্রদেশে তার বৃদ্ধ পিতার বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমার পিতাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়েছে। আমি আমার নিজের দেশের সীমান্তের ভেতরেই নিরাপদ বোধ করি না। লিনের পিতা তাকে লিখেছেন, তুমি দেশে না ফিরলেই ভালো হয়। লিন তার পিতার শঙ্কার ঘটনা দিয়ে শুরু করে চীন জুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে চলে যান। তিনি বলেন, চীনাদের জন্য নিজেদের ইচ্ছা ব্যক্ত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত নিজেদের কথা তুলে ধরার জন্য চীনাদের অনুপ্রাণিত করা। লিন জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য মানবাধিকার আইনজীবীর প্রতি আহ্বান জানান। চীনে প্রবেশে লিনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বেশ ব্যাপক। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ১১৭ জন সুন্দরীর তালিকাতে ছিল না লিন। তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কোনো রিপোর্টও চীনে ছাপা হয় নি। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সৃষ্ট ব্যাপক প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে লিন চীনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, শাসকগোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এমন যে কোন কিছু ফেলে দেয়া হয়। এ কারণে চীনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্ক্রিপ্ট পাল্টাতে হয়। লিনের বক্তব্য নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

ঢাকায় আরব আমিরাতের কনস্যুলার অফিস উদ্বোধন

সংযুক্ত আরব আমিরাত ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার অফিস চালু করেছে। এর ফলে দেশটিতে ভ্রমণ কিংবা কাজে যাওয়া বাংলাদেশিরা এখন ঢাকা থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন। এখানে বায়োমেট্রিক এবং আই স্ক্যান কার্যক্রম সম্পন্ন করে আমিরাতের যে কোনো বিমানবন্দরের ই-গেট দিয়ে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারবেন বাংলাদেশিরা। গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ গোলচত্বর সংলগ্ন নর্থ এভিনিউর এম্পরি ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে ঢাকাস্থ আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাঈদ বিন হাজার আল সেহিকে সঙ্গে নিয়ে অত্যাধুনিক ওই অফিস উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ কূটনৈতিক কোরের ডিন মোহাম্মদ ইজ্জত, সফররত আমিরাত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি ফর কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স (কনস্যুলার বিভাগের প্রধান) আহমেদ আলহাম আল দাহেরি, আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানসহ দুদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানে আমিরাতের তরফে জানানো হয়, নবপ্রতিষ্ঠিত ওই কনস্যুলার অফিসে দেশটিতে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী বাংলাদেশি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার বিশেষ আয়োজন থাকছে। সেখানে দেয়া বক্তৃতায় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাঈদ বিন হাজার আল সেহি বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বমূলক সুসম্পর্ক (গুড ব্রাদারলি রিলেশনস) আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নতুন এ সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ এবং অবস্থান আরও সহজতর হবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানের অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্কের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি প্রথম আমিরাত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করেছে। আমিরাতের বাইরে এটি তাদের চতুর্থ অফিস চালুর ঘটনা। প্রতিমন্ত্রী এজন্য আমিরাত কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্রমিক ছাড়া অন্য ভিসা বন্ধ নয়: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপনীতে সফররত আমিরাত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনুস্যলার বিভাগের প্রধান আহমেদ আলহাম আল দাহেরি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিক ছাড়া অন্য বাংলাদেশিদের আমিরাত ভ্রমণে সব ধরনের ভিসা চালু রয়েছে। বিভিন্ন কারণে দেশটি সফরে আবেদনকারী বেশির ভাগ বাংলাদেশি প্রতি বছর ভিসা পান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আড়াই লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। শ্রমিকদের বিষয়টি তাদের নিয়োগকারী কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন কোম্পানির কত লোক নিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে তা মেনে চলার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। এ-সংক্রান্ত কড়াকড়ি আরোপের পর অনেক প্রতিষ্ঠান লোক নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। পুরো বিষয়টি তারা রিশিডিউল করছে। কবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আমিরাতের দ্বার উন্মুক্ত হবে জানাতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, চলমান প্রক্রিয়াটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকায় চালু হওয়া কনস্যুলার অফিসের বিষয়ে আমিরাতের ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য এখানে ইলেকট্রনিক ভিসা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ভ্রমণকারীরা এখানে বায়োমেট্রিক এবং আই স্ক্যান করিয়ে আমিরাতের যে কোনো বিমানবন্দরে ই-গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।